আমার জীবনে নারীদের ভুমিকা গভীর। প্রত্যেক পুরুষের জীবনের মতোই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নারীস্বভাব আমাদেরকে জগতের দিকে তাকাইতে বলে। এই সূক্ষ্ম নির্দেশটা অনেকে ধরতে পারেন না। ‘তেমন নারী-ই বা কোথায়’, বরং এই জিজ্ঞাসা লোকের।
আমাদের সমাজের নারীরা কালচার শকের ভিতর দিয়া যাইতে যাইতে পর্যুদস্ত। টক্সিক ম্যাসকুলিনিটি আর ভুলভাল নারীবাদের খপ্পরে দিশেহারা। গ্লোবাল অর্ডারগুলির আনহেলদি কামড়াকামড়িতে সত্য সত্যই টেক্সটবুক তৃতীয় বিশ্ব বইলা একটা জিনিসের পয়দা তো হয়। সেই বিশ্বে বইসা আত্মরক্ষা করা এবং পৃথিবীর জন্য প্রদায়ক ভুমিকা পালন করা খুব কঠিন। পুরুষগুলি কিছু সুবিধা পায় এক্ষেত্রে, আর তেমন নারীরাও কিছু কিছু পায়।
কিন্তু গ্রেটলি, নারীর নারীত্ব এবং পুরুষের পুরুষত্বের স্বাভাবিক দশা ফুইটা উঠা এবং তা বিরাজ করতে পারা সত্যই কঠিন।
বিপ্লবী নারীরা খুব সঙ্গোপনে সমাজ বদলাইতে ধরেন। বিপ্লবী পুরুষদের মতোই। তারা আওয়াজ কম করেন, কিন্তু সময়ের কাজগুলি সময়মতো কইরা যাইতে থাকেন। আর আওয়াজি বিপ্লবীরা তো তাদের সাহস বিলাইতেই থাকেন, সেইটা নমস্য।
কাজের মাধ্যমে স্টেটমেন্ট তৈয়ার করেন যারা, আর যারা নিজের জীবনে সেইগুলি কইরা দেখান; আমি এখন বুঝি, এই দুই প্রকারের মধ্যে পার্থক্য কত সামান্য।
প্রেম থেকে প্রেমে, দাম্পত্যে, ঘরে, বাইরে, যে-কোনো নারী যখন স্বাধীন হওয়ার স্বাদটি খুঁইজা পাইতে চান বা কাছাকাছি পৌঁছান, তখন সমাজ ও সাহিত্যিক ডিসকোর্সের প্রভাবে সাংস্কৃতিক দোটানায় পইড়া যান। যেইটা অবধারিত। অবধারিত বইলাই আমি দেখছি, অনেক নারীরা সেইগুলি কীভাবে অতিক্রম করেন। অনেক পুরুষেরাও।
জীবনের পক্ষে থাকতে গেলে, স্বাধীন স্বভাবটি কীভাবে অর্জন করতে হয়, যে-কোনো গিভেন কনটেক্সটে, সেইটা চর্চারও বিষয়।
নারীরা পুরুষের আত্মিক গভীরতা এবং বিশালতা, অর্থাৎ স্বয়ংসম্পূর্ণতা, সহ্য করতে পারেন না। এইটা ঠিকই আছে। পুরুষও কী তা পারে?
এইটাকে ক্ষুদ্র করে দেখে যারা, তারা গেইমটাই বোঝে না। নারী পুরুষ মিইলাই তো জগৎ। সেইটাই ইন্সটিংক্ট। পরস্পর পরস্পরের তরে। তা না হলে নারী বা পুরুষ, এই দুইটা জিনিসের অর্থ নাই।

তবে হ্যাঁ, মহত্ত্ব দিয়া যারা পারস্পরিক সম্পর্কবোধের মাধুর্যকে নষ্ট করে, তারা ভুল করে। বিষয়টার সমাধান এইভাবে হইতে পারে—যিনি মহৎ, তিনি তো মহৎই। সেই চর্চা করা গেলে ভালো। অথচ এইটার সঙ্গে লড়তে গিয়া অনেক পুরুষে, অনেক নারীয়ে, উনাদের জীবন পানি পানি কইরা ফেলেন।
আমার জীবনের নারীরাও এইগুলির ব্যাতিক্রম নন। অনেকক্ষেত্রে আমিও নই। নারীদেরটা উনারা যদি কখনও বলেন, তবে জানা যাবে।
এইসবের ভিতর থেকেই আমি জানছি যে, নারীরা আমাদেরকে তাদের দিকে ফিরতে বইলা আসলে সূক্ষ্মভাবে জগতের দিকেই ফিরতে বলেন। এতে করে একভাবে নারীর নিজেরই ক্ষতি হয়। কিন্তু নারী বুঝতে অপারগ। নাকি বোঝে?
জগতে নামলে পরে, পুরুষ যে নারীর শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হন, তা আসলে ওই মুক্তি না। তা আরও প্রকান্ড এক ভালোবাসা। প্রেম।
এইটা নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রথমে ধইরা উঠতে পারে না। তাই হয় বিপত্তি। কেউ কেউ কখনোই ধরতে পারে না।
রাধাভাবের কারণে পুরুষে, নারীতে, জগতের প্রতি যেই অপূর্ব মাধুর্য উপস্থিত হয়, সেইটা আমি নারীদের কারণেই নিজের ভিতরে পাইছি। কৃষ্ণভাবের জন্যও একই কথা। জগতের দিকে তাকানো মানে তো নিজেদের দিকেও তাকানো। হা হা।
আমাদের মডার্নিটি এইগুলির কোনোটির জন্যই ক্ষতিকর হইয়া উঠে নাই। সত্য কথা।
হয়তো আমরা অনেকেই হংস স্বভাবের নই, কিন্তু হংস স্বভাবটি ভালোবাসি। পৃথিবী যেন হংস স্বভাবীয়, অথচ সে যে তা নয়, তা জেনেও হংস স্বভাবটির প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখা দুরূহ। তাই যেন সাহিত্য, যেন আইডিয়াগুলি, যেন সমস্ত ফাঁকিগুলি।
আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল
ওঁম শান্তি
ওঁম অশান্তি
(স্বরচিত ছবি : ডিজিটাল মাধ্যম, ১৭/৪/২০২৫); গদ্যরচনাকাল : ৮/৩/২০২৬
আনম্য ফারহান রচনারাশি
গানপার গদ্যসম্ভার
- আমার জীবনের নারীদের করকমলে রাখি জবাফুল || আনম্য ফারহান - March 16, 2026
- ট্র্যাডিশন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন, অ্যালিয়েনেশন || আনম্য ফারহান - March 7, 2026
- খালেদা জিয়া : নারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জন্য অনুপ্রেরণা || আনম্য ফারহান - January 1, 2026

COMMENTS