কয়টা কথা || আনম্য ফারহান

কয়টা কথা || আনম্য ফারহান

হিন্দু অ্যারিস্টোক্র্যাসি রবীন্দ্রনাথবাহিত না। আগে থেকেই আছে। আর ওইটা বাঙালি মুসলমান যখন নিজের পরিচয় খোঁজা শুরু করল, তখন থেকে একটা হন্টেড রিয়ালিটি। ওয়েলথ ও কালচারের যুগলবন্দি রূপ। তা থেকে বাইর হওয়া সোজা না।

আমাদের মেয়েরা এখনও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এইটাতেই। রবীন্দ্র-শরৎ সাহিত্যের প্রভাব তো পরে পরে আছেই। আর টিভিসিরিয়ালের ওই হিন্দু এস্থেটিক্স।

আমার কাছে মনে হয়, মোঘলরা যেমন, ব্রিটিশরা যেমন, বা আরবরা, টার্কিশরা — আমাদের স্থাপত্য, খাবার, পোশাক ইত্যাদিতে যেভাবে সিগনেচার হিসেবে ঢুকছে, তেমন করে বাংলার এইসব কালচারাল মিক্সিং শেষপর্যন্ত হিন্দুয়ানি অ্যারিস্টোক্র্যাসিকে অথেন্টিসিটি দেয়। আর সেইটা যৌক্তিকও।

এখন আইসা তা যে আরও বাড়বে, সেইটা কেন বাড়বে বলেন তো?

অরিজিনালিটির সন্ধান একটা কারণ, যেহেতু বিশ্বায়নের শর্তই হলো মাল্টিভার্স উইথ এথনিসিটি। তা কালে কালে আরও গোড়ামুখী হবে। লিবারালিজম দিয়ে সেই সমস্যা মিটবে না।

সহিহ বিশুদ্ধতাবাদের জন্যই ধর্মগুলা যেমন আরও ক্যাওটিক হয়ে উঠতেছে — তেমন নাৎসিবাহিনীর নতুন নতুন হিটলারও দিকে দিকে দেখা যাচ্ছে। আরও মৌলবাদী হবেন তারা। সংখ্যায়ও বাড়বেন।

ডেমোক্রেসি মার্কা সিস্টেম এমনিতেই নড়বড়ে, কারণ ওইখানে পরাশক্তির রেজিম আছে, সবাই গণতন্ত্র করলে কে কারে মোড়ল মানবে? তাই না? আর সেইটার শিফটিংও আছে।

যুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত নতুন ক্ষমতা এই বিন্যাস চেইঞ্জ করে। অ্যারিস্টোক্র্যাসির নতুন মডেল দেয়। নতুন ইকোনমির প্রস্তাব দেয়। ড. ইউনুস দেখলাম সেদিন নতুন ইকোনমির কথা ভাবার জায়গায় পৌঁছে গেছেন।

তো ‘বিউটি’ জিনিসটার কন্সেপ্ট আমার মনে হয় যে আদি ও অকৃত্রিম। কালচার বা সভ্যতা যেখানেই পৌঁছাক, মানুষের বিউটির ধারণা ওইভাবে ইভলভ করে না মনে হয়।

এইটাই অ্যাজ অ্যান অ্যানিম্যাল অ্যান্ড প্রিডেটর; মানুষের ওই ইন্সটিঙক্ট; যা তাকে কোনো রিয়েল এনার্জির জন্য ধাবিত রাখে। ওইটাই তার কাছে বিউটি।

মাল্টিভার্সে, সভ্যতার বদলে, দক্ষ জনশক্তির পরিশ্রমে ও ত্যাগে; তা যে ভাগ্য ও জীবন নিয়ে আসবে তার জন্য — তা তার বিউটি কন্সেপ্টের ভিতরেরই জিনিস।

তবে যেভাবে বিউটি এস্টাব্লিশ হয়, তার নিয়ন্ত্রণ বেশিরভাগ সময়েই তার হাতে থাকে না বলেই সে নতুন সভ্যতায় যায়।

প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও তা থেকে নির্মিত কান্ডজ্ঞান বা স্পেকুলেটিভ ক্ষমতা কাজে না-লাগানো ছাড়া মানুষের আর কোনো সিমুলেটরি সুপারনোভা নাই যা দিয়ে সে কার্যকারণের সাথে সাথে রিজনিং না ব্যবহার করে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারে।

মানুষ তার এই অতিদক্ষতা দ্বারা নির্মিত নতুন নতুন বিউটি কন্সেপ্টে বিলং কীভাবে করে?

এইটা কিছুটা হাস্যকর। অল্পকিছু পরিমাণে।

হাস্যকর এজন্য বললাম, কারণ তার তো পূর্বাপর আছে, তাই অতিদক্ষতার বিনিয়োগে প্রাপ্ত অতি বেসিক সৌন্দর্য কী তাকে তার জগতেই অ্যালিয়েন বানায়ে ফ্যালে না? ‘আদার’ বানায়ে ফ্যালে না?

তাহলে আমাদের যৌবনা মেয়েরা বিগত-যৌবনা এস্থেটিক্সে থাকতে চাইলে আমাদের একটু কম হাস্যকর লাগা উচিত। অথবা হাল-ফ্যাশনের মেয়েদের দিকে একটু কম সমালোচনার চোখে তাকানো উচিত, যেহেতু ওরা এমনিতেই অস্বস্তিতে আছে।

১৯/০৬/২০২৩


আনম্য ফারহান রচনারাশি

COMMENTS

error: