বুনো পশ্চিম ও বই পড়াপড়ি || রাহাত শাহরিয়ার

বুনো পশ্চিম ও বই পড়াপড়ি || রাহাত শাহরিয়ার

“বই কিনে কেউ কোনোদিন দেউলিয়া হয় না” — বইয়ে পড়লেও ছাত্রজীবনে আলগা বই কেনার টাকা খুব বেশি-একটা থাকে না। বিশেষ করে স্কুলে। যেটুকু থাকে, তা যদি পেপারব্যাক না হয়, তাহলে তো কেনার নামই নেয়া যায় না। ধন্যবাদ সেবা প্রকাশনী। তা না হলে কপালকুণ্ডলা,  হৈমন্তী  আর লালসালুর মজিদের বাইরে জগতে কিছু আছে, জানার ভাগ্য হতো না। সেবার অনুবাদ, থ্রিলার, এস্পিওনাজ ইত্যাদি বিভিন্ন জন্রা কলকাতার জমিদারবাড়ির চেয়েও আরো বড় কিছু আছে, এটা ধরিয়ে দিতে লাগল। কয়েক জন্রা ঘুরে ঘুরে আমি ওয়েস্টার্ন   ধরে অনেকদিন থিতু হয়ে ছিলাম।

চরিত্রগতভাবে আমি ভীতু ধরনের। সম্ভবত এ-কারণে আর-লোকের বীরত্ব আমাকে মুগ্ধ করে। আউট-ল আর কাউবয়দের বীরত্ব আমাকে রাতের পর রাত জাগিয়ে রাখত। পরে তো ম্যুভি দেখা শুরু করলাম। পল নিউম্যান আর ক্লিন্ট ইস্টউড। কোর্স কমপ্লিট।

টিকে থাকার জন্য যে-লড়াই, প্রতিকূল পরিবেশের মাঝে সবকিছু দুলকি চালে নেওয়া, মরণ নিশ্চিত জেনেও হোলি খেলতে যাওয়া। আমার এভ্রিডে স্ট্রেস ভুলিয়ে দিত। এখনো দেয়। ভাবতাম, এগুলো কী আসলেই সত্যি কাহিনি অবলম্বনে? না শুধু কল্প? দু-পাতা দু-পাতা করে প্রায় একবছরে আমেরিকান মিথ ও ফোকলোরের উপর একটা বই পড়ছিলাম। একেবারে শেষে ওয়েস্টার্ন অধ্যায়। গোগ্রাসে এবার বই পড়া শেষ হয়ে গেল। কাহিনি সত্য। ওয়েস্টার্ন ইজ রিয়্যাল।

তবে এখানেও অতিরঞ্জন, মনের মাধুরী আর কিঞ্চিৎ কল্পনা মিশিয়ে বিশাল এই জন্রা করা হয়েছে। কি সাহিত্যে, কি ম্যুভিতে। ইতিহাসবেত্তারা তেমন পাত্তা পান নাই।

লোকমুখে রটে রটে কাল্ট হয়ে যাওয়া একটা কাহিনি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না : জেসি জেমস। কুখ্যাত আউট-ল। ব্যাংকডাকাতি থেকে শুরু করে ট্রেনডাকাতি। খুন, হত্যা, রাহাজানি। সে আর তার ভাই মিলে গ্যাং বানিয়েছে সমমনা আরো কিছু আউট-লদের নিয়ে। সিভিল ওয়ারের সময় কোনো-এক পক্ষ নিয়ে পরে আর এইসব ছাড়া হয়নি। সে মোস্ট ওয়ান্টেড। এবং লোকমুখে সে গরিবের বন্ধু, আমেরিকান রবিনহুড।

ডাকাতি শেষে পথিমধ্যে খিদা লাগায় এক বিধবার বাড়িতে তারা খাবার চাইল। জেসি বলল, তারা টাকা দিবে বিনিময়ে। গরিব বিধবা চুলায় হাঁড়ি চাপালো। কিন্তু সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বিলাপ করছে নিচু গলায়। জেসি জানতে পিড়াপিড়ি করল। বিধবার বাড়ি এক ধনী লোকের কাছে পণবন্দী। অনেকদিন কিস্তি দেওয়া হয় না। আজ না দিলে লোকটা এসে বাড়ি দখল নিবে।

জেসি বলল সে টাকা দিবে। তবে বিধবাকে তার কথামতো কাজ করতে হবে। অনেক টাকা। তাই বিধবা বলল সে ফেরত দিতে পারবে না। নাছোড়বান্দা জেসি গিফট হিসেবে দিবে। কখন লোকটা আসবে জেনে নিয়ে বিধবাকে লেনদেনের মেমো রেডি করে দিলো। পাওনাদার আর গ্রহীতা, দু-জনের সই মোতাবেক সব টাকা পরিশোধ, এ-মর্মে মোহর দেওয়া মেমো। খাওয়াদাওয়া করে তারা বিদায় নিলো। তবে তাদের ডেরায় না ফিরে বিধবার বাড়ির একটু দূরে অবস্থান নিলো।

সময়মতো পাওনাদার সে-বাড়িতে ঢুকলো। একটু পর খুব খুশিমনে গান গাইতে গাইতে তার ঘোড়াগাড়ি নিয়ে বেরিয়ে এল। গান বেশিক্ষণ সইলো না।

জেসি জেমস ও তার দলবল লোকটাকে লুটে নিলো। তাদের দেওয়া টাকা তো আছেই। সাথে কিছু উপরি …


রাহাত শাহরিয়ার রচনারাশি

COMMENTS

error: