মটর্সাইকল মেমোরিস্ || রাহাত শাহরিয়ার

মটর্সাইকল মেমোরিস্ || রাহাত শাহরিয়ার

মোটরসাইকেলে মা-জননীদের ‘না’ বরাবর। নানান বাহানায় ছোকরাদের হোন্ডা  থেকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু সিলেট শহরে বড় হওয়া ‘ফুয়াইন’ মোটরসাইকেল ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। একটা স্টাইল। একটা প্যাশান। জীবন-না-ধন্য একটা অবস্থা, যদি আপনার না থাকে একটা মোটরবাইক। বন্ধুবান্ধবেরটা নিয়ে দুয়েকদিন চালালেন, বেহাল চালিয়ে গড়াগড়ি খেলেন, তো খায়েশ আরো বাড়লো। বড় টান হয়।

চাকরির সুবাদে নিজের অধিকারে একটা মোটরসাইকেল পেতে পেতে আমি প্রায় বুড়ো তখন। ছোট লাল রঙের একটা Hero Splendor। সে কী উত্তেজনা! খুব সাবধানে চালানো শুরু। রিকশা ওভারটেক করে যাচ্ছে। তাতে কী! প্রথম প্রথম শুধু অফিস যাওয়া আর আসা। তারপর কাছাকাছি ফিল্ডট্রিপে একটুআধটু। সাহস বাড়তে লাগলে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজার। সাহস বাড়লেই অ্যাক্সিডেন্ট হয়। আমি বাস-ট্রাক ওভারটেক করি। ছয় বছরের একটা মেয়ে পড়ে গেল একেবারে সামনে। ব্ল্যাঙ্ক বাকিটুকু।

এখানে-সেখানে সহজে যাওয়ার সুবিধার চেয়ে আমি বেশি উপভোগ করতাম সন্ধায় বৃষ্টির মধ্যে রেনকোট চাপিয়ে শহরের গলিতে-গলিতে এলোমেলো ঘোরাঘুরি। মুখের ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। আমি চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো তাড়া নাই। পুলিশের তদারকির ভয়ে বেশিরভাগ সময় গলি-মহল্লার বাইপাস নিতে হতো। এটাও একটা কারণ। আমার ‘চে-র সাইকেল’। সুখ দুইবছরের বেশি সইল না। চাকরি ছাড়লে প্রেমিককেও ছাড়তে হলো। আমার সুখের দিন শেষ হলো।

একটা লোক জার্মানি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ১০/১২টা দেশ ঘুরে পাকিস্তান চলে এসেছে। ক্যামেরা আর ড্রোন দিয়ে ভ্লগ বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছে তার ৫২ এপিসোডের জার্নি। কাতর হয়ে দেখলাম আর ভাবলাম কী করলাম এই জীবনে!

ভাবতে ভাবতে টিশার্ট পরছিলাম। টিশার্টের পেছনে ঘাড়ের দিকে ভিতরে স্টিকার বা কিছু-একটা লেখা থাকে; — মেড ইন বাংলাদেশ  জাতীয়। বরাবরের মতো ঘাড়ের সাইড গলার দিকে পরে ফেলেছি। খুলে স্টিকার দেখে নিশ্চিত হয়ে ঠিকভাবে পরলাম। এই যখন আমার অবস্থা — আমি কীভাবে চের সাইকেল দৌড়াব!

রাহাত শাহরিয়ার রচনারাশি

রাহাত শাহরিয়ার

COMMENTS

error: