জুলিয়্যান ম্যুর উক্তিমালা

জুলিয়্যান ম্যুর উক্তিমালা

লোকে ভাবে ডিরেক্টররা অ্যাক্টরকে ডিরেক্ট করেন। ঘটনা তা নয়, ডিরেক্টর সে-অর্থে অ্যাক্টরকে পরিচালন করেন না। দর্শকের দৃষ্টি ফিল্মের ভিতরে কেমন করে নেয়া যায়, এই জিনিশটাই ডিরেকশন দেন একজন ডিরেক্টর।

একজন মানুষের জীবদ্দশায় প্রেমে পড়ার ঘটনা বা কারো প্রণয় প্রাপ্তির ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটে না, জীবনের পথে পথে এই জিনিশটা আপনি নিশ্চয় শিখে ফেলেন যে প্রেম সত্যিই বিরল একটা ব্যাপার একটা মানুষের একজিন্দেগিতে। এমনিতে অল্প বয়সে ঝোঁকের মাথায় আপনি ভাবতে পারেন যে প্রেম তো আসবে আবার যাবে এবং আবার আসবে, এ আর এমন দুর্লভ দ্রব্য তো নয়। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা অত ঘন ঘন লভ্য তো নয়ই বরঞ্চ উল্টোটা। তারপরও যদি কেউ ঘন ঘন প্রেমের সাক্ষাৎ পায় তাইলে বুঝতে হবে সে বিশেষ নসিব নিয়া দুনিয়ায় এসেছে। এইটা আসলেই বিশেষ কিছু, সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ কিছু।

স্কুলে পড়ার সময় আমি ছিলাম পাক্কা একটা পাতিহাঁস। দেখবেন যে এমনকিছু শিশু ক্লাসরুমে বসে থাকে যারা উচ্চতায় খাটো, চশমা পরে, শরীরচর্চায় ভীত ও জড়সড়। আমি ছিলাম ওই তিনেরই মিশ্রণ, পুরা হাঁসবৈশিষ্ট্যের বাচ্চা।

মাঝবয়সে এসে আপনি বুঝতে পারেন যে এই জীবনের বৃহদাংশ যাপন করে ফেলেছেন এরই মধ্যে, পেছনে যেটুকু সময় ব্যয় করে এসেছেন সামনে তেমনটা আর নাই নির্ঘাৎ।

সমস্ত ম্যুভিতে নাটকে নভেলে দেখবেন লোকজন সাংঘাতিক ক্রাইসিসে আছে এবং লড়াই করছে একটা-না-একটা সমস্যা মুকাবিলায়। এমনটাই দেখি আমরা। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ যেই জিনিশটা দেখি যে ক্যারেক্টারগুলা ফাইট করে এবং সমস্যার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসে।

মাঝেমাঝে মনে হয় আমার জীবনটা পাগলা জীবন একটা, আবার মনে হয় এই জীবনটা আমায় দিয়েছে সুযোগ অনেক; কত খুশনসিব আমার যে এই জীবনে যেইটা আমি করতে চেয়েছি তা-ই করে রুটিরোজগার জোটাতে পারছি, খুব বেশি লোকের এমন নসিব হয় না।

আমার চরিত্রের অসহ্য বাজে দিকগুলা দেখতে চাইলে একটানা আমার সঙ্গে সময় কাটাতে হবে আপনাকে, এতটা টাইম আমার সঙ্গে লেগে থাকতে হবে যেন অপরিচয়ের ভদ্রতা ঘুচিয়ে আমি আপনার সঙ্গে সহজ হয়ে স্বভাবের বদমুদ্রাগুলা আপনার সামনে বেখেয়ালে আপনমনে খুলে দেই নিজেরই অংশ মনে করে আপনারে।

খালি ফিচলেমি আর খেলাধুলার লাইগাই যদি কিসিম কিসিম কম্পিউটার আর ট্যাব্লেটগুলা ব্যবহৃত হয় তাইলে বলব এইসব প্রযুক্তি নিয়া আমি আগ্রহী না।

গায়ের চামড়া তাতানোর আগে বড়জোর মিনিট-পনেরো আমি রইদ খাইতে পারি, কিন্তু এর বেশি না। আমি খোদার তিরিশদিনই মুখে সানস্ক্রিন লাগাই। যদি রইদের রাস্তা দিয়া বাধ্য হয়ে কয়েক কদম হাঁটতে হয় তাইলে আমি কিছুটা ছায়া আছে এমন কোণা ধরে এগোই। রইদ আমি বেশিক্ষণ সইতে পারি না।

আমরা যা, তা-ই হচ্ছে আর্ট। আমাদেরই ভিতরভাবের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে আর্ট। আমরা যা-ই বিশ্বাস করি, জাগরণে যা স্বপ্ন দেখি, তা-ই শিল্পকলা বা আর্ট।

চয়ন, সংকলন ও অনুবাদন : বিদিতা গোমেজ

… …

বিদিতা গোমেজ

COMMENTS