‘গল্প’ সাহিত্যের একটি ধ্রুপদি শাখা। আদিম মানুষও গল্প বলতো, গল্প শুনতো। অরণ্যচারী খাদ্যসংগ্রাহক থেকে শুরু করে কৃষিজীবী কিংবা আধুনিক যন্ত্রনির্ভর মানুষও গল্পাসক্ত। এমনকি সভ্যতার ক্রমবিকাশেও রয়েছে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সত্য-মিথ্যা, বাস্তব-অবাস্তব-পরাবাস্তব, মনগড়া, কাল্পনিক, আষাঢ়ে ইত্যাদি হরেকরকম গল্পের মুখোমুখি হই আমরা প্রতিনিয়ত।
তবে সবাই গল্প বলতে পারে না। তার জন্যে চাই মুনশিয়ানা। তাছাড়া কেবল শিক্ষিত হলেই হয় না, গ্রামে-গঞ্জে এমন মানুষও দেখেছি, যাদের অক্ষরজ্ঞান পর্যন্ত নেই, অথচ তারা গল্প বলতে শুরু করলে যেন সৃষ্টি হয় ইন্দ্রজাল! শুনতে হয় মোহাবিষ্ট হয়ে!
কোনো কোনো মানুষ স্বভাবজাত গল্পকার। রণেন সরকার (আমরা ডাকি রুনুদা), আমার দেখা এক কথার জাদুকর। নেত্রকোনার কেন্দুয়া সরকারি কলেজে বাংলা পড়াতেন, সম্প্রতি অবসরে যান। সুমিষ্ট কোমল স্বরে, ধীর লয়ে তিনি যখন কোনো কাহিনি বর্ণনা করতে থাকেন, তখন নিবিষ্ট শ্রোতা না হয়ে উপায় থাকে না। তাঁর এক মামাতো দাদা, মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, প্রখর পাণ্ডিত্যের অধিকারী, প্রয়াত খগেস কিরণ তালুকদারও ছিলেন একজন সুলেখক ও বাগ্মী। তাঁর গল্প শুনেও অভিভূত হয়েছি। পরিব্রাজক খগেসদা হুটহাট আমাদের বাসায় আসতেন, রাতভর গল্প করে ভোরে মোহনগঞ্জগামী লঞ্চ ধরতেন। আমরা তন্ময় হয়ে তাঁর বিচিত্র কাহিনি শুনতাম।

১৯৮৮ সাল থেকে রুনুদার সঙ্গে পরিচয়। ওই বছর আমার সেজদির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। অসংখ্যবার তাঁকে লেখালেখির জন্য তাগাদা দিয়েও সাড়া পাইনি। ব্যস্ত মানুষ। লেখালেখির সময় কোথায়! অবসরে যাওয়ার পরও মানুষকে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করা, বনায়নে উৎসাহিত করা, লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা ইত্যাদি নানান বিষয়ে তিনি সদা ব্যতিব্যস্ত। যা-ই হোক, অবশেষে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করলেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হলো তাঁর ‘শেষ বিকেলের গল্প’। পড়া শুরু করলে একনিশ্বাসে শেষ না করে ওঠা সম্ভব হয় না। অনবদ্য!
বইটি প্রকাশ করেছে ‘বিভাস’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।
রুনুদার কথায় এই বইয়ের গল্পগুলো ‘কল্পনাপ্রসূত বা কুড়িয়ে পাওয়া নয়’, এগুলো তাঁর ‘অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধির নির্যাস’।
‘শেষ বিকেলের গল্প’-এর লেখকের জন্য শুভকামনা। তাঁর লেখকজীবন উত্তরোত্তর প্রোজ্জ্বল থেকে প্রোজ্জ্বলতর হোক, এই কামনা করি। কলম যেন আর না থামে। আমরা যেন ঋদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাই।
কল্লোল তালুকদার রচনারাশি
গানপারে বইরিভিয়্যু
- In all departures there is an arrival & other poems || Roushan Hasan - September 11, 2026
- সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত - September 10, 2026
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026

COMMENTS