যেমন বলেন জয়

যেমন বলেন জয়

এই লেখাটি যিনি পড়ছেন, মুহতারাম ও মুহতারিমা আপনে যে-ই হোন, ঠকবেন না। আপনে এর আগে এতবার ঠকেছেন, ফলে এই দিনলিপিকারের দেয়ালগাত্র বয়কট করে চলবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, এই একটিবার আপনি ঠকবেন না কথা দিচ্ছি। কিন্তু ঠকাঠকির কথা যখন উঠলই, তো চকমকি পাথরের কথা বলি, জিনিশটা আপনি রিসিভ করার কালে যদি জিনিশটার বাইরের এন্তার বিষয়ব্যাপার মাথায় রাখেন তো সুবিবেচনার কাজ হবে না সেটা। মানে হলো গিয়ে, দেখুন, এই জিনিশটা যা আমি আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি তা আমার না। আমি রিটেইলার মাত্র। মহাশয়! আমি রিটেইলার, আমি সুগম হাটে বিক্রেতা মাত্র। উৎপাদনের সঙ্গে এ-জীবনে তেমন যোগ গড়ে উঠল না আমার, আফসোস! বলছিলাম, এটি পড়ে একটা ভালো অনুভূতি নিয়ে দেয়ালান্তরে যাবেন আপনি। বিকজ, যত কথা পাবেন এখানে একটু পরে, এটা আমার লেখা না। আদৌ কোনো রচনা না এটা। আলাপচারিতার, একজন কবির কথাবার্তার, নির্বাচিত কিছু অংশ। ফলে, এ-লেখা আস্বাদন উপভোগ্য হতে যাচ্ছে আপনার নিকট, মোটামুটি আমি কনফার্ম।

জয় গোস্বামীকে চেনেন না এমন কবিতাপাঠক ভুবনে না-হোক ভূবাংলায় বিরল। কবিতা লিখেই তিনি আমাদের চেনা চৌহদ্দির মানুষ হয়ে উঠেছেন, কথিত কোনোপ্রকার কবিতারাজনীতি-সিন্ডিক্যাট ইত্যাদি না-করেই, সম্ভবত। সম্ভবত বলছি কারণ জয় বিদেশি, ইন্ডিয়ান বাংলা, তাঁর কবিতা জানি আমরা ডানহাতের তালুর ন্যায় নিবিড় ও ঘনিষ্ঠভাবে, কিন্তু তাঁকে সেভাবে আর কতটুকুই-বা জানি! ঠিক যে, একের-পর-এক জয়ের কাব্যগ্রন্থ যেমন তেমনি জয়লিখিত কতরকম গদ্যলেখা আর সাক্ষাৎকার পড়ে আসছি বিগত দিনগুলোতে ব্যাপকভাবে। এ দিয়ে একপ্রকার চেনাজানা আমাদের হয়েছে অবশ্য। গত দশক-তিন ধরে লিখে চলেছেন জয়। এর মধ্যে খ্যাতিযশ প্রভৃতির পাশাপাশি মিডিয়ানুকূল্যও পেয়েছেন প্রভূত। সবই জানেন আপনি, নিউলি রিলিজড্ কোনো ম্যুভির ডেব্যু এক্টর না জয় যে তাঁর পরিচিতিমূলক ইন্ট্রো দরকার পড়বে।

এই সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে দেশ   তথা আনন্দ   কোম্পানির ত্রৈমাসিক একটা প্রোডাক্ট বইয়ের দেশ   চলতি সংখ্যায় (ঠিক ইয়াদ নাই কবেকার, সম্ভবত ২০১৩/’১৪ সালের সংখ্যা, ওই সময়েই ফেসবুকনোটে এই রিভিয়্যুটা আপ্লোড করা। নিবন্ধকার)। এই কোম্পানির জিনিশপত্রের কদর যথেষ্ট রয়েছে এখানকার বাজারে। এইটা আপনারা জানেন। কদর এমনি এমনি নয় নিশ্চয়, আবার খুব-যে দ্রব্যগুণে কদর তা-ও নয়। এ নিয়া বাগবিস্তারের জায়গা এইটা না। আপনারা জয়গাথা শুনতে এসেছেন, প্রথমবাক্যে সেই ইঙ্গিতপূর্ণা আমন্ত্রণ আমিই দিয়েছি আপনাদেরে। এখন, চলুন, খুব দেরি হয়ে যাবার আগে আমরা জয়ের কথার ভেতর চালিত হই। কিল্ করার মতো টাইম আজকাল কম মানুষেরই হাতে রয়েছে। আর আপনাকে-আমাকে তো অনেককিছু করতে হয় নিয়ত প্রতিদিন, যেমন ডজনখানেক ওয়ালভিজিট থেকে শুরু করে চ্যানেল সার্ফিং খোদ বাংলাতেই বিশ-বাইশটা মিনিমাম। হরর ম্যুভি আর বেক্কলের কাতুকুতু-শো তো রয়েইছে। সেসব ফেলে এতক্ষণ রইবেন শুধু জয়গাথা শুনতে আমারই সঙ্গে, এতটা আশা করি কী করে! সে-যাকগে।

নেশা আর পেশা যে আমার জীবনে মিলে যেতে পেরেছে, এর কারণ ঈশ্বরের করুণা। আমি আজীবন ঈশ্বরে নির্ভর করি। তাঁর কাছে দয়া চাই। তাঁর দয়া বিভিন্ন রূপ ধরে আমার কাছে আসে। সেই জন্যই আমি লেখাপড়া না শিখেও দু’বেলা দুটো খেতে পাই। আমার প্রতিদিনের অন্নের সংস্থান আজ পর্যন্ত তিনিই করে দিচ্ছেন বলে আমার মনে হয়। এই যে বিড়ালছানারা আমার কোলে উঠে ঘুমোয় আমার লেখার সময় — এই সুযোগও তাঁরই দান। এটা একটা বড় সুযোগ আমার কাছে। কারণ, সব মানুষের মতো আমিও নানা বিষয়ে মনে আঘাত পাই বাইরের পৃথিবী থেকে। রিফ্লেক্সবশত মন প্রত্যাঘাত করতে চায়। আর লিখতে বসলেই লেখার মধ্য দিয়ে সেইসব প্রত্যাঘাত ফুটে বেরোতে চায়। কিন্তু যখনই দেখি কোলে ওরা ঘুমিয়ে আছে কিংবা আমার গায়ে গা ঘষছে, তখনই মনটা কোমল হয়ে আসে। কাউকে প্রত্যুত্তর দেয়ার ইচ্ছে চলে যায়। কত অল্প দিন আমাদের আয়ু! তার মধ্যে অনেকগুলো দিন দখল করে রাখে বিদ্বেষ আর কলহ। তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে ঈশ্বর এসব অবলা প্রাণিদের আমার কাছে পাঠিয়েছেন।

মনে হচ্ছে বড্ড বেশি রাবীন্দ্রিক, না? আজকের রগড়ের দিনে এমন সহজ শান্ত উক্তিমালা মানায়? এই যে ঈশ্বরের কথা বলে গেলেন কবি শিশুস্বচ্ছ উচ্চারণে, এই ঈশ্বর কার ও কোন ঘরানার ঈশ্বর? সনাতন? সেমেটিক? ইনি কি স্পিনোজার? নাকি জীবনদেবতা ধারণা — বাবু রবীন্দ্রনাথের ন্যায়? এত দুশ্চিন্তা নিয়া নাওয়াখাওয়া-দখিনহাওয়া যাপনজীবন করা যায় কি, আপনারাই বলুন? জয় যেহেতু বলছেন, তো জয়েরই ঈশ্বর। আপনি বললে আপনার, আমি বললে আমার। অত হাঙ্গামা কেন এ নিয়ে? দেখুন বরং গর্বের ধন আমাদের পড়াশোনা নিয়া গোসাঁইয়ের একটি উপলব্ধি :

যদিও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাপদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যাইনি বলে জীবনের ধকল এবং প্রতিবেশীদের চাপ কী করে সামলাতে হয়, তা শিখিনি। বলা যায় অনেক দেরিতে শিখেছি। সাধারণত সহপাঠীদের কাছ থেকেই এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের মুখোমুখি হতে হতে মানুষ চলতে শেখে। … লেখাপড়া শিখিনি বলে আফসোস আছে। সকলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির বিষয়টা অল্প বয়সে চুকিয়ে দিতে পারলেই ভালো হয়। আমার জীবনে সেটা প্রৌঢ় বয়স অবধি গড়াল।

তথ্যটা আদৌ মুখস্থ রাখার দরকার নাই, তবু উপরের কথার প্রেক্ষিতে একবার মনে করাই যে, মাত্র একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ইশকুলের বিদ্যে পেটে নিয়ে জয় একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় প্যারাডিম শিফট্ ঘটিয়েছেন কবিতার বাংলায়। এমন অবশ্য নতুন নয়। এমএ-বিএ পেরিয়ে গিয়ে কে আর কী গিরিবিজয় করিতে পেরেছে তেমন! অবশ্য রবীন্দ্রনাথের সাতবার মেট্রিক ফেলের গল্পগুলজনিত ঘটনা খামাখা গ্লোরিফাই করার মানে নিজেকেই ছোট করে ফেলা। আমরা নিশ্চয়ই চাইব ক্রমশ বড় হয়ে উঠতে!

পুরস্কার লেখককে সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। অনেক আলো পড়ে লেখকের মুখে। এসে পড়তে থাকে অভিনন্দনের ঢেউ। তাতে নিজেকে ভুল বোঝার সম্ভাবনা থাকে। কেননা, আলোটা তো সরেও যায় দ্রুত। কারণ, ওই যে বললাম সাময়িক। যখন ঢেউ আসছে, ঢেউয়ের সঙ্গে নুলিয়ার মতো আচরণ করতে পারলে ভালো। তবে গায়ে তো সমুদ্রের নোনা জল, বালি লাগবেই। লেগেই থাকবে। তাই লিখতে বসার আগে আরেকবার স্নান করতে হয়। কারণ, লাইনগুলো যখন আবার আসবে, ঝড়ের মতোই আসবে, ওই তাড়নাটা ফিরে আসবে, লাইন জেগে উঠবে, লাইন হারিয়ে যাবে — তখন নিজেকেই সব সামলাতে হবে। হারিয়ে যাওয়া লাইন খুঁজে আনতে কোনও পুরস্কার সাহায্য করবে না, কোনও অভিনন্দনও। লেখার কাজ একার কাজ। লেখক যদি সচেতন থাকে তবে পুরস্কার তার কোনও ক্ষতি করতে পারে না।

তাই বলে একেবারে খালি হাতে ফিরে যাব! পুরস্কারহীন প্রস্থান! নো, উম্যান, নো! সোশ্যাল মিডিয়ার এই ঝলক-দিখলা-যা আমলে একদণ্ডও রহিবারে নারি আমি নিষ্পুরস্কার নির্মাস্তি নির্জীব। পুরষ্কার চাই, মুহুর্মূহু, থ্রি হান্ড্রেড থার্টিসিক্স লাইক এবং কমেন্ট অনুপাতমতো। পরিকল্পনামাফিক তর্কায়োজন। নইলে রসেবশে সার্ভাইভ করা যাবেনাকো। অবশ্য, কিবোর্ড মনিটর   প্রভৃতি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও জ্যাক লাগায়ে রাখব, ম্যান ফেসবুকার প্রাইজটা চালু হচ্ছে না কেন এখনো! এইজন্যেই এইদেশের কিসসু হবে না। বাংলাকাব্যে কেউ যদি অস্কার   বা কান /পাম   পায়, সে যেন অন্য কেউ না হয় এই শ্রীশ্রী আমি ছাড়া!!! আলবৎ!! বলে কি যে, লেখার কাজ একার কাজ ! সোশ্যাল সিংহাসনে বসে একটু উমদা ব্র্যান্ডের তরলসমেত দরবারি কানাড়া ছাড়া লেখা আদৌ হয়? হলেও সেটা দাঁড়ায়? নেতিয়ে থাকে। সেটাই।

১৯৯০ সালে আমি আনন্দ   পুরস্কার পাই। সেই পুরস্কারের খবর যখন পত্রিকায় আমার ছবি সহ ছাপা হলো, তখন আমি বুঝলাম পুরস্কার ব্যাপারটা কী। আমি যে ছোট্ট টাউনে বাস করতাম তখন, যেখানে আপনমনে ঘুরে বেড়াতাম রাস্তায় রাস্তায়, সেখানকার মানুষের জানাই ছিল না যে, আমি কবিতা লেখার চেষ্টা করি। একদিন সকালে হঠাত্ সমস্ত ব্যাপারটা উদ্ঘাটিত হয়ে গেল। যে-দোকানে ওষুধ কিনতে যাই, যে-মুদির দোকানে ঢুকি, যেসব প্রতিবেশীর সঙ্গে মুখোমুখি রাস্তাঘাটে দেখা হয়, তারা সকলেই জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘তুই এতদিন কী করতিস?… সে কী রে! তুই শুধু লিখতিস?’ এই প্রথম আমি বুঝলাম বাইরের পৃথিবীর সামনে নিজের মন প্রকাশ্য হয়ে গেলে কেমন লাগে। আমার লিটলম্যাগাজিনের কবিবন্ধুরা ছিল তখন, এখন আর তেমন বন্ধু কেউ নেই। কিন্তু সেদিন সেই বন্ধুরা ছিল আমার জীবনে মরুদ্যানের মতো। অল্প কয়েকজন জানত। এখন হয় কী, বাড়ি থেকে বেরোলেই সবাই জানে, আমি কবিতা লিখি। এটা সেই ৯০ সালে আমাকে অনেকখানি বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। ঢেউয়ের সঙ্গে নুলিয়ার মতো আচরণ করতে পারিনি তখন।

পাঠকের সঙ্গে স্রষ্টার দূরত্ব থাকা উচিত না উচিত নয় — এহেন প্রশ্নের জবাবে যে-কথাগুলো বলেছেন জয়, একেবারে আস্ত অংশটাই দিয়ে দিচ্ছি নিচে :

নিজেকে আমি একদিনের জন্যও স্রষ্টা মনে করিনি। কবিতার লাইন মাথায় আসে, আর তখন সেটা লিখতে বাধ্য হই। এইটা আমার স্বভাব। এক এক জনের স্বভাবের এক একটা ধরন থাকে। আমার কবিতা লেখার ইচ্ছেটা নিয়ে আমি আছি। এমনকি, নিজেকে কবি বলতেও আমার দ্বিধা হয়। আমার বন্ধু ঋতুপর্ণ একদিন বলেছিল গল্পচ্ছলে, অরণ্যকে যে-আগুন দহন করেন তাঁর নাম দাবানল, গৃহস্থের বাড়িতে যজ্ঞ অনুষ্ঠানে যে-আগুন উপস্থিত হন, তাঁর নাম হোমাগ্নি, কন্যা পিত্রালয় থেকে যে-আগুন হাতে করে শ্বশুরালয়ে প্রবেশ করেন তাঁরও কী-একটা নাম আছে, ঋতু বলেছিল, আমার মনে পড়ছে না। আর আত্মাকে দহন করে যে-অগ্নি প্রজ্বলিত হন, তাঁর নাম কবি। সুতরাং, অত বড় আমি নই। কবি একরকম আগুনের নাম। আর বোদল্যের বলেছিলেন, কবি এই জগত্সংসারের কোনো অন্যায়ের প্রতিকার করতে পারেন না। তিনি শুধু অন্যের দুঃখে নিজে দুঃখভোগ করতে পারেন। অন্যের পাপে অনুতাপ করতে পারেন নিজে। জগত্সংসারের কিছুই বদলাতে পারেন না তিনি।…আমি নিতান্ত সাধারণ ছাপোষা মধ্যবিত্ত মানুষ। আমার নামে কি কোনও আগুনের নাম হয়? আমি কবি নই, একজন কবিতালেখক। কারণ, আমি কোনও আত্মবিশ্বাস থেকে লিখে গেছি তা নয়, লিখেছি না-লিখে আমার উপায় নেই বলে।

বাংলা সাহিত্যে তাঁর নিজের অবদান কি, এই প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন :

আমার চেয়ে অনেক অনেক বেশি শক্তি ও যোগ্যতাসম্পন্ন কবিদের সঙ্গে একই সময়কালে আমি কিছু পথ হাঁটলাম, এটাই আমার মস্ত ভাগ্য। বাংলা সাহিত্যে আমার অবদান কিছু নেই।

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন প্রভৃতি ইঙ্গিতের উত্তরে :

জনসমাজে হাওয়ায় কথা ভাসে। জনশ্রুতি এমনই জিনিশ, তার সত্যিই কোনো প্রমাণের দরকার হয় না। মুখে-মুখে চলতে-চলতে একজন-দু’জনের ছড়ানো কথা সকলেই নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করে। তবে একটা শর্ত আছে। কথাটাকে কুকথা হতে হবে। অনেক লোকে যখন একযোগে একটা কথা বলতে থাকে, তখন সেই কথাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। কবি সেই মুহুর্তে কী লিখছেন, তার মান বিচার করার মতো মন তখন পঙ্গু হয়ে যায় সেই কথার প্রভাবে।…ক্যান্সারের চেয়ে বড় ব্যাধি হলো লোকে তোমার সম্পর্কে কী বলছে তাই নিয়ে ভয় পাওয়া। আমার তো এমনিই কয়েকটি ব্যাধি আছে শরীরে। নতুন এই ব্যাধিটিকে তাই আমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অধিকার দিতে চাইনি।…অন্যের কথা শুনে চলতে গেলে আমার কথা লেখার আর সময় পাব না। দিন তো সামনে বেশি বাকি নেই।

কবিতার জগতের, সাহিত্যজগতের, প্রতিদ্বন্দ্বিতা/প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে :

শুধু এইটুকু বলতে পারি, অপমান ছাড়া তো জীবন পূর্ণ হয় না। ব্যর্থতা ও অপমানের অভিজ্ঞতা জীবনকে জানার জন্য দরকার। তাই অপমানিত হতেই হয়। অপমানের প্রত্যুত্তর দেওয়া আমার লক্ষ্য নয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কবির কাজ। কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়া কোনও কবির কাজ নয়। প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই মানুষ দু’-চার লাইন লেখার চেষ্টা করে।

এইটা যা বললেন জয়, এখানে আমাদের পক্ষে উহা মেনে নেয়ার নয়। হ্যাঁ! বাপু! প্রতিহিংসাই জীবন, জীবনই প্রতিহিংসা। তা আর বলতে! লেখার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অন্যকে আঘাত করে নিজের আঘাতের ঝাল মেটানো অথবা নিজের খোসপাঁচড়া লুকিয়ে…ইত্যাদি। কুৎসা, ঈর্ষা, কূটচাল, পরচর্চা, পরশ্রীবিদ্বেষ, অন্যের মুখ ম্লান করে নিজে উজ্জ্বল হওয়া …সাহিত্য তো এ-ই, কবিতা…হায়!

আখেরি ইচ্ছা, প্রার্থনা, তাঁর ভাষায় উচ্চাকাঙ্ক্ষা, জানাচ্ছেন জয় শেষ সওয়ালের উত্তরে। শুনি জয়ের অ্যাম্বিশনত্রয় :

ঈশ্বরের কাছে আমার প্রার্থনা, যেন যতদিন বাঁচব মনের কথাটুকু লিখতে পারি, আর যেন আমার সব আপনজন সুস্থ থাকে এবং আমার মৃত্যুযন্ত্রণা যেন দীর্ঘ না-হয়। এই তিনটি উচ্চাশা এখন আমার জীবনসঙ্গী।

মুশকিল! বড় কবি হলে এমন কথাবার্তা নিশ্চয় বলতেন না জয়! নিশ্চয় না। বাঁচোয়া।

জাহেদ আহমদ

গানপার

COMMENTS

error: