উইলি নেলসন মার্লি হ্যাগ্যার্ড : দুই লিজেন্ডের যুগলবন্দি

উইলি নেলসন মার্লি হ্যাগ্যার্ড : দুই লিজেন্ডের যুগলবন্দি

শেয়ার করুন:

এমন নয় যে ষাইট ও সত্তইরের দশকের কান্ট্রিমিউজিকের কিংবদন্তিরা এই ধারার ইতিহাসে সেরা গানের সম্ভারই গড়ে তুলেছিলেন শুধু, বরং তারা সবাই একে অপরের সেরা বন্ধুও ছিলেন; এবং এই বন্ধুত্ব শুধু মঞ্চেই নয়, বাস্তব জীবনেও। তারা একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটাতেন, কাজ করতেন একসঙ্গে এবং একে অপরের গান কাভারও করতেন। প্রতিযোগিতা আর প্রফেশন্যাল ঈর্ষার কথা ভুলে এই প্রবীণ কিংবদন্তিরা নিজেদের গানের চেয়ে একে অপরের গানই বরং বেশি উপভোগ করতেন। শ্রোতাদের সঙ্গে স্টেইজে অ্যালবামে শেয়ারও করতেন একের গান অপরে।

এমনই এক অ্যালবাম সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে যেখানে গ্রেইট কান্ট্রিসিঙ্গার মার্লি হ্যাগার্ডের একগোছা কালজয়ী গান করেছেন আরেক গ্রেইট উইলি নেলসন। ‘ওয়ার্কিং ম্যান : উইলি সিঙস মার্লি’।

দুনিয়ায় এখন এত এত চমৎকার গান রয়েছে এবং হপ্তায় হপ্তায় এত এত অ্যালবাম প্রকাশিত হচ্ছে, এন্তার সিঙ্গেলস রিলিজ হচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে নব্বই বছর বয়সের ন্যুব্জদেহ কোনো কান্ট্রিশিল্পীর এমন একটা অ্যালবামে প্লে বাটন চাপার আদৌ প্রয়োজন আছে কি না যেখানে তিনি এমন সব গান গাইছেন যা আগে অগণিতবার গাওয়া ও কাভার করা হয়েছে এই জিনিশটা নিয়াই নিবন্ধে এক-দুইটা আলাপ তুলব। উইলি নেলসন কী সত্যিই মার্লি হ্যাগার্ডের এই গানগুলোর কোনোটির মূল ভার্শনের সাথে পাল্লা দিতে পেরেছেন? অথবা, আরেকভাবে একই জিজ্ঞাসা, পারবেন মূল গাওয়া ছাড়িয়ে যেতে?

অ্যানিওয়ে। তেমনধারা আলাপ যারা তুলবেন, তাদের কাছে এই অ্যালবামের একটি বিশেষ দিক দেখাইতে চেষ্টা করি। তিনি, উইলি নেলসন, শ্রোতাদের কাছে মার্লি হ্যাগার্ডের বহুল পরিচিত ও শ্রোতাগ্রাহ্য গানগুলাই নিজের মতো করে প্রেজেন্ট করেছেন অ্যালবামে। এমন গান খুঁজে বের করেন নাই যা মার্লির বা উইলির শ্রোতারা আগে শোনেন নাই। ‘ওয়ার্কিন ম্যান : উইলি সিঙস মার্লি’ অ্যালবামের এগারোটা গানই শীর্ষস্থানীয় হিট। কোনো এক সময়ের চূড়া স্পর্শ করেছিল গানগুলি। কিন্তু উইলি নেলসনই পারেন পুনরায় জাদু সৃষ্টি করতে এবং এমন এক উষ্ণ অনুভূতি জাগাতে যা অন্য কোনো শিল্পীর পক্ষে পারা সাধনাসাপেক্ষ। মহান শিল্পীরা পারেন এমনকি কাভার গেয়েও সংগীতের সেই জাদু তৈয়ার করতে যা সমুজদারের আরাধ্য। উইলি তা পেরেছেন অত খ্যাতিপ্রতিপত্তির পরে এই পরিণত বয়সেও।

সংকলনটা আউটস্ট্যান্ডিং। তা হবার অনেক কারণের মধ্যে এক কারণ হচ্ছে অ্যালবামটা রাতারাতি রেকর্ড করা হয়নি। এইটা প্যান্ডেমিকের দুইহাজারকুড়ি খ্রিস্টাব্দের আগে অস্টিনে উইলির স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল, যখন উইলির দীর্ঘদিনের ড্রামার ও ম্যানেজার পল ইংলিশ এবং তার বোন ববি জীবিত ছিলেন। উইলির লাইভ বেসপ্লেয়ার কেভিন স্মিথও সংকলনে অংশ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, দুইহাজারবারো সালে কিংবদন্তি বি স্পিয়ার্স মারা গেলে তিনি তার স্থলাভিষিক্ত হন। পল ইংলিশের ভাই বিলি ইংলিশও এই অ্যালবামে আছেন। প্রযোজক হিশেবে কাজ করেছেন উইলি নিজে এবং সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের হার্মোনিকাবাদক মিকি রাফায়েল।

মোদ্দা বাত হলো, ‘ওয়ার্কিন ম্যান : উইলি সিঙস মার্লি’ সত্যিই উইলি নেলসনের কিংবদন্তিতুল্য ফ্যামিলি ব্যান্ডের শেষ মৌলিক অ্যালবাম। ফলে এর গুরুত্ব অনেক। উইলির পূর্বেকার অ্যালবামগুলার মতো নয়, লাস্ট দুই দশক ধরে রেকর্ডেড অ্যান্ড রিলিজড উইলির অ্যালবামগুলার সঙ্গে এর ফারাক স্পষ্ট ও বৈশিষ্ট্যগতভাবেই পৃথক। সত্তরের দশক থেকে উইলির লাইভ শো শ্রোতাদের পছন্দশীর্ষ হলেও বহু মানুষের কাছে সেই প্রিয় ফ্যামিলি ব্যান্ড সাউন্ডটি মিসিং ছিল রেকর্ডে। এখানে এই অ্যালবামে যেন ঘরোয়া আবহটুকু সযত্ন ধরা হয়েছে। এর গানগুলো হয়তো মার্লির, কিন্তু ‘ওয়ার্কিন ম্যান’-এর সাউন্ডটি উইলি নেলসনের এক অনবদ্য সৃষ্টি।

অবশ্য বলতেই হবে যে এই অ্যালবামটা যতটা উইলিকে নিয়ে, ঠিক ততটাই মার্লিকে নিয়েও। এগুলো এমন গান যা উইলি আগাগোড়া গাইতে পারেন, ঘুমের মধ্যেও আবৃত্তি করতে পারেন এবং বছরের পর বছর ধরে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অনুশীলনও করেছেন গানগুলি বিভিন্ন সময়ে। এইটা স্পষ্ট হয়েছে যে রেকর্ডিঙগুলো সরাসরি এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে করা হয়েছে, কোনো বাহুল্য বা ওভারডাব ছাড়াই। রিভার্বের যন্ত্রণা ব্যতিরেকে। রেকর্ডিঙে অসম্পূর্ণ অংশগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং মূল গানগুলোর কোনো ব্যাখ্যা বা সংযোজনের তেমন কোনো চেষ্টা করা হয়নি। শুধু উইলি নেলসনের নিজস্ব কণ্ঠমেজাজ ও গায়নশৈলীতে গানগুলো পরিবেশন করা হয়েছে, যার মধ্যে তাঁর অনন্য কণ্ঠের প্রকাশভঙ্গিও অন্তর্ভুক্ত।

না, মার্লি হ্যাগার্ডের এই কিংবদন্তিতুল্য গানগুলো শোনার ইচ্ছা জাগলে আপনি মূল গানটির পরিবর্তে উইলির কাভার-করা ভার্শনটি বেছে নেবেন, এমনটা না বলি। কিন্তু রাতের বেলা ভাত বাড়বার সময় কিংবা খাবার গরম করতে করতে, স্যে ফর এক্সাম্পল অতিথি আপ্যায়নের সময়, কিংবা কোনো অলস বিকেলে স্রেফ বসে থাকার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে চালায়া রাখার জন্যে এই অ্যালবামটা আদর্শ হতে পারে। এইটা কান্ট্রিমিউজিকের দুইজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রিয় গানে এবং সুরে আমাদের মুহূর্তগুলো ভরিয়ে তোলে, যা মার্লির প্রতি উইলির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

ফাইরুজ রাইহান


ফাইরুজ রাইহান রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you