হিরণ মিত্রকে চেনায়ে দেবার কিছু নাই। হিরণ মিত্রকে চেনেন সবাই।
লিটলম্যাগের সুবাদে যে-কয়জন চিত্রশিল্পী চিনতে পেরেছিলাম আগাগোড়াই, হিরণ মিত্র অগ্রগণ্য সেখানে। এই কথা কবুল করি যে এই শিল্পীর ‘বড় কাজ’ বা ক্যানভ্যাসে কেমন করেন উনি তা তো বলতে পারব না, ক্যানভ্যাসে দেখি নাই উনারে, দেখেছি লিটলম্যাগের পাতায় পাতায়, অনুষ্টুপ কবিতীর্থ রক্তমাংস প্রভৃতি বিচিত্র নামের সমস্ত পত্রিকায়। বিগত দুই যুগের মতো সময় হিরণ মিত্র ‘জারি বোবাযুদ্ধ’ পত্রিকায় রেখায়-লেখায় নিয়মিত উপস্থিত লক্ষ করি। নিয়মিত লক্ষ করি হিরণ মিত্রকে এমন অসংখ্য পত্রিকায়।
তাঁর রেখা ও লেখা, তুলি ও কলম, এমনই যে তা পাঠক ও দর্শক উভয়কেই নিবিষ্ট করে। ফোকাসড রাখে।
এবং, অবশ্যই, চিত্রশিল্পীর দেখার চোখ ও ভঙ্গিটার কাছাকাছি যেতে লেখা সাহায্য তো করেই।
নিজের সাথে কথা বলার তাগিদ থেকেই এই ছবি-লেখার উৎপত্তি। কেন সেই তাগিদ? যখন বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ে, তখন যেখানেই থাকি গাছের তলা, ছাদের তলা, বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচবার দায় থেকে নিজের কাছাকাছি চলে আসি। এক ভেজা বিশ্বপ্রকৃতি। পরিবেশটা আর্দ্র। আমার মনটাও ভিজে ওঠে। স্যাঁতস্যাঁত করে। নিজে তখন মুখোমুখি বসি। আমার অবর্তমানটা কিছুক্ষণের জন্য বর্তমান হয়। এই আমি লিখছি, কলম চলছে বা আঁকছি। তুলি দিয়ে রঙ গড়ায়। তার সাথে মন গড়ায়। একটা আকুলি শব্দে ও রেখায় প্রতিফলন ঘটায়। তাতে কত দেখা অ-দেখা শোনা না-শোনা ভাবা না-ভাবার ভাণ্ডার খুলে যায়। সেই ভাণ্ডার প্রশ্ন করে না। শুধু উত্তরের চেহারা নিয়ে অথবা প্রশ্নের ভিতর উত্তর এবং উত্তরেই নতুন প্রশ্ন আমাকে বিস্মিত করে। তখন আমি শুধু তারই সঙ্গ করে চলি। এখানে রূপে যেমন আলো ও ছায়া বিধৃত হয় তেমনি ভাষায় ব্যাখ্যান এসে পড়ে। এখানে অক্ষর-প্রতীক ভাব-এর দরজায় কড়া নাড়ে। আমি তখন মুখটা বাড়িয়ে দিই। ওপ্রান্তে আবার আমারই মুখ ভেসে ওঠে!
এই কথাগুলি হিরণ মিত্র বলে রেখেছেন বইটার গোড়ায়। রেখায় লেখায় একাকার এক বই।
বইটার ব্যাপারে আরেকটু আন্দাজ দিতে এর ব্যাককাভারের ইমেইজটি দিচ্ছি। দেখুন তো, জুম ইন করে, পড়া যায়?

এই বইয়ের আকারটি বিশেষ। সেন্টিমিটারে এর দৈর্ঘ্য সাড়েচব্বিশ, প্রস্থ আঠারো ও উচ্চতা বা বইয়ের পুট এক সেমি।
বইয়ের কলেবর প্রায় সাড়েসাত ফর্মা। পৃষ্ঠাসংখ্যায় একশবাইশ। বইয়ের দাম দুইশপঞ্চাশ আরএস।
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026
- অপূর্ণ জীবনের নান্দনিক সহমর্মিতা || আয়াজ আহমদ বাঙালি - August 30, 2026
- মন হইলো…মানুষ মূলত… || রোদ্দুর রিফাত - August 30, 2026

COMMENTS