কমলকুমার মজুমদারকে কেন্দ্রে রেখে, কেন্দ্র করে, সম্পাদিত ও সংকলিত গ্রন্থ পত্রপত্রিকা বাংলা ভাষার বাজারে এন্তার আছে। এই বই বিশেষ। আলোচ্য গ্রন্থটির সঙ্গে বাজারের আর-পাঁচ বইয়ের কোনো সাযুজ্য নাই। এখানে কমলকুমার মজুমদারের মূল লেখাপত্রের বাইরে যে ভিন্নধরনের অজস্র লেখাপত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, সেগুলিই পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে আছে দুর্লভ কিছু রচনা, যা একসময়ে দৈনিক জনসেবক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। কমলকুমার মজুমদার উৎসাহী ছিলেন চিত্রনাট্য রচনা বিষয়ে, ‘বাংলার টেরাকোটা’ এই বইয়ে একটা অমূল্য সংযোজন। এছাড়াও আছে কয়েকটি মৌলিক ও অনূদিত ছোট প্রবন্ধ। মৌলিক প্রবন্ধগুলি মূলত নাট্য প্রযোজনার খুঁটিনাটি বিষয়ক।
আলোচ্য সংকলনটি সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে ‘শব্দকোষ’ নামক দীর্ঘ লেখায়। কমলকুমার মজুমদার সজ্ঞান ও আত্মস্থ বোধ নিয়েই শব্দ ও অর্থকে জুড়তে চেয়েছেন, এবং তাকে প্রবহমান পরম্পরায় বাক্যের জালে আটকাতে চেয়েছেন। এই অমুদ্রিত পাণ্ডুলিপিই এখানে ‘শব্দকোষ’। এখানে ‘অ’ থেকে ‘হ’ পর্যন্ত যেসব শব্দ তিনি নির্বাচিত করেছেন সেগুলির আভিধানিক অর্থের বাইরে এর ধর্মীয়, জাতি সংক্রান্ত ও পূজাবিধি বিষয়ক চরিত্র তুলে এনেছেন। কাজটি অসম্পূর্ণ হলেও অত্যন্ত মূল্যবান এবং আশা করা যায় ভবিষ্যতে এই কাজটি সম্পূর্ণতা পাবে।
সংকলনে রয়েছে এ-যাবৎ অগ্রন্থিত দুটি গল্প।
প্রকৃত অর্থে এই সংকলনের সবচেয়ে দীর্ঘ ও মনোগ্রাহী অংশ হচ্ছে এর ‘চিঠিপত্র’ অধ্যায়টি। এখানে যেমন রয়েছে কমলকুমারকে লিখিত তাঁর আত্মীয়পরিজন বা বন্ধুদের চিঠি, অন্যদিকে রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লিখিত স্বয়ং কমলকুমারের অনেকগুলি চিঠিপত্র। বোঝা যায় তিনি চিঠি লিখতে ভালোবাসতেন, দশটা বাঙালিরই ন্যায়, এমনকি তাঁর পরবর্তী কোনো গল্পাংশের ছেঁড়া টুকরো অংশও চিঠিতে পাওয়া যায়।

লেখাপত্রের মধ্যে নির্দিষ্ট সূত্র মেনে একযোগে গ্রথিত করার চেষ্টা দেখা গেছে বেশ কয়েক। তেমনই লেখার দুটি ভিন্ন অংশ ‘নির্বাচিত রচনা’ নামে এখানে এই বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলি মূলত লেখকের মৃত্যুর পর তাঁর লেখাপত্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, বইয়ের সম্পাদক তরফে জানা যায়।
আশা করা যায় এসবের মিলিত উপাচার ও উপহারে ঠাসা সংকলনটি পাঠকদের তৃপ্তি দিতে পারবে। এক প্রত্নবর্ণ দস্তাবেজের মলাটে এই বই চিত্তাকর্ষক। বইয়ের আকার চব্বিশ বাই আঠারো বাই তিন।
বইয়ের নাম ‘কমলকুমার মজুমদার : অগ্রন্থিত, অপ্রকাশিত রচনা ও চিঠিপত্র’, সংকলন ও সম্পাদনা প্রবীর গঙ্গোপাধ্যায়। পাব্লিশার প্রতিভাস। কলকাতা। সাড়েতিনশ পৃষ্ঠার বই। ইন্ডিয়ান আরএস বারোশ। বাংলাদেশের বইয়ের দোকানদারদের মুদ্রাবদলের অগোচর সূত্র অনুসারে এর দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পড়ে। এই প্রাইস বাংলাদেশের পাঠকের পার-ক্যাপিটায় ডিফিকাল্ট অ্যাফোর্ড করা। ভারত তো আর বাংলাদেশ বিবেচনায় রেখে প্রোডাক্ট লঞ্চ করে না নিশ্চয়। নাকি করে? আড়াই হাজার টাকায় একটা বাংলা বই কারা কিনে নিয়া যায় ঘরে?
সেই জন্যেই বলছিলাম, বাংলা ভাষায় ন্যাকাপড়া করা হাইলি এক্সপেন্সিভ। তুলনায় ইংলিশে ন্যাকাপড়া সাশ্রয়ী।
- আলুপোড়া : স্বাদ, স্মৃতি ও সত্তা || আহমদ সায়েম - October 22, 2026
- মানুষের নিঃসঙ্গতা || মেকদাদ মেঘ - October 22, 2026
- তপন চৌধুরী, প্রিয় নব্বই ও নেত্রকোনা || আরেফিন টিটো - October 22, 2026

COMMENTS