সিনেমাসিনারি || ইলিয়াস কমল

সিনেমাসিনারি || ইলিয়াস কমল

শেয়ার করুন:

কয়েকটা সিনেমার শুরুর দৃশ্য আমি কখনোই ভুলতে পারি না। মগজের ভেতর খোদাই করে যেন দৃশ্যগুলো গেঁথে আছে। সিনেমার মুগ্ধতা সেইসব স্টার্টিংকে কখনোই অতিক্রমও করতে পারেনি আমার কাছে। কখনো আবার সিনেমার মাঝখানেও এমন কিছু দৃশ্য মনে দাগ করে স্থায়ী ক্যানভাসে ঝুলে থাকা পেইন্টিংয়ের মতো।

মফস্বলের কুয়াশার মতো অন্য কোথাও অন্য দুনিয়াতেও কুয়াশা ঘনীভূত হয়ে আসে তা জেনেছিলাম তারকোভস্কির নস্টালজিয়া  সিনেমার শুরুর দৃশ্যে। আরও বহু পরে সেই বিষণ্ন জাহাজের মতো নস্টালজিক চরিত্রগুলো আমাদের জীবনেও বাস্তব হয়ে ওঠে, যখন নাগরিক আগ্রাসনের মতো আবহাওয়ার আগ্রাসনও মফস্বলকে গ্রাস করে। আর আমরা দেখি, ধীরে ধীরে কুয়াশাবাহিত ভোর লীন হয়ে আসে মফস্বলেও। ঘন কুয়াশার শৈশব হারিয়ে যায়, পৃথিবীর আরেক প্রান্তে আরেক মৌনতায় তৈরি হয় আরও আরও নস্টালজিয়া।

বিজ্ঞাপননির্মাতা টারসেম সিংয়ের দ্য ফল  সিনেমার শুরুর যে-দৃশ্যটা, আমি বহুবার দেখেছি। বহুবার। অথচ এমন ডিটেইল সিনেমায় ততটা নেই। যেন প্রেমের কথা বলে বিবাহিত জীবনের বাস্তবতার গল্পকে টারসেম তুলে দিয়েছে সিনেমার পর্দায়। আদতে এতটা দূরতম নয় এই ভুলবোঝাবুঝির প্রেক্ষিত। বরং, বারবার সিনেমানির্মাতা যে-ভিজ্যুয়ালের স্বপ্ন হয়তো দেখেছিলেন, বাস্তবতার কারণে রূপায়ন করতে পারেননি তার একটা করুণ দলিলও হয়ে থাকতে পারে টারসেমের এই ওপেনিং দৃশ্য। আহা! স্লো-মোশনের এক মহাকাব্যই যেন একটি ঘোড়াকে বাঁচানোর চেষ্টার সেই গল্প।

তৃতীয় যে-দৃশ্য আমি ধরে বসে আছি অনেক বছর, তা হলো আচল মিশ্র পরিচালিত গামাক ঘর-এর শুরুর দৃশ্য। এত শাদামাটা, এত কাছের আর এত অন্তর্মুখী পথের বহুমুখী শুরু হওয়া যেন অসম্ভব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরীর সেই লাইন : ‘নাহি বর্ণনার ছটা, ঘটনার ঘনঘটা’ যেন ওই এক দৃশ্যে এসে উপস্থিত হয়েছিল।

মনে হয় যেন সেই দৃশ্যও আমাদের জীবন থেকেই তুলে নেয়া আরেকটা চিত্রকল্প।


ইলিয়াস কমল রচনারাশি

ইলিয়াস কমল
শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you