আমার আম্মার বয়স নব্বই। শরীর দুর্বল। বেশিরভাগ সময়ই তার এখনকার কাজ হলো সময়মতো নামাজ পড়া, ওজিফা করা আর খাওয়া ঘুমানো। বয়স হয়েছে তার সাথে ধার্মিক হয়েছেন বিষয়টা এমন না। এইগুলো আগেও করতেন। কিন্তু তখন অন্য কাজও করতেন বলে এইগুলো চোখে কম পড়তো। বছর কয়েক আগে একবার বিষয়টা আমার চোখে পড়ে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডা আনা হলো বাসায়, তিনি তা খাবেন না। কেন খাবেন না জিজ্ঞেস করলে বললেন, এইগুলো ঘোষ বাড়ির মিষ্টি। তাই খাবেন না। কিন্তু এই আম্মার কাছেই আমরা চৈত্রসংক্রান্তির দিনে নানা রকম শাকভাত খাইতাম। তার মধ্যে পাটশাক, গিমাশাক থাকতোই। এখন উনাকে চৈত্রসংক্রান্তির কথা বলতে শুনি না। কালেভদ্রে কথা উঠলেও তিনি বলেন, এগুলো হিন্দুদের ঐতিহ্য। বলাই বাহুল্য এখানে তিনি ঐতিহ্য বলতে আদতে কালচারের কথাই উল্লেখ করেছেন। এক সময় যেগুলো আমাদের সবার কালচারের অংশ ছিল, তা এখন হিন্দুদের হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই হয়ে ওঠাটা কি করে হলো তা নিয়ে তথাকথিত জনতার সংলাপে (যেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফেসবুক, আড্ডায়) নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। যদিও এই আলোচনা মুখে থাকা যতটা স্বাভাবিক, তারচেয়ে বেশি থাকা প্রয়োজন ছিল নৃতাত্ত্বিক বা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায়।
কালচারকে ধর্মে, আর ধর্মকে কালচারে এই ভূমিতে রূপান্তর করেছে রাজনীতিবদরা। এইটা বোঝানোর দরকার ছিল সমাজতাত্ত্বিক বা বুদ্ধিবৃত্তিকদের। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই। সমাজতাত্ত্বিকরা বেশিরভাগই সমান দৃষ্টি নিয়ে তাকাতেই শেখেনি। ধর্মের ফিল্টারে সবকিছু যেখানে দেখা হয়, সেখানে আসলে এই প্রত্যাশা মেটা খুব কঠিন, বলিউডি সিনেমার ডনের মতো। তাকে রূপান্তর করা শুধু কঠিনই নয়, অসম্ভব।
রচনাকাল ১৩ এপ্রিল ২০২৫
ইলিয়াস কমল রচনারাশি
- কালচার কোন পথে || ইলিয়াস কমল - April 16, 2026
- সিনেমাসিনারি || ইলিয়াস কমল - April 11, 2026
- শীতকালের দিকে তাকিয়ে বসন্তের চিঠি ও অন্যান্য || ইলিয়াস কমল - March 25, 2026

COMMENTS