মা দুর্গা || শুভ্র সরকার

মা দুর্গা || শুভ্র সরকার

শেয়ার করুন:

শরৎ, মেঘের নিশান
পৃথিবীর দুপুরঘরে আমাদের ছোট শহর
রোদ ওঠে বৃষ্টি নামে
নাগরিক আল্পনায়।

পাখি, আরেক আনন্দ
কেন আসো? আর থাকো
অল্প সময়
যেমন অল্প মেঘের বিদ্যুৎ
বিচূর্ণ হয়ে যায় মিলন বিরহ

কোথায় পাতা ঝরে, ধ্বনি ঝরে
এমন সময় তবে কার মন মনোহর হয়
আশ্বিনের উৎসব জেনে!

বাড়ির পাশে একটি মন্দির, সেই মন্দিরের
সামনে দাঁড়ালে
বাতাস শারদীয় পূজার মাহাত্ম্য নিয়ে আসে
শিশুরা আসে প্রতিমা বানানো দেখে
অসুর অস্বাভাবিক তা-ও দেখে
আর আমি ভাবি সব শিশুর মাঝে
যে-মা, অজর সত্তায়
তার রূপ তুমি নিশ্চয়ই মা দুর্গা।

তোমারে ডাকি, আমার ভেতরে বহুবার
ব্যবহৃত তোমার নাম
ছায়ালীন ছড়িয়ে পড়ছে সংসারে

সংসারে আপন আপন প্রত্যাখ্যাত দেখি
যেন সমস্ত তারার চিরপ্রভা
শাড়িতে জরির বেধ
অমিত মুখভরা ফুলবন, কেউ দেখেনি
দেখার সরলরেখা ধরে তবু উড়ে গেছি আমি
একা একা বলা যায়
বোধ করি, ভাবা যায়
তোমার পায়ের রঙের আলতা
রক্তচক্ষুর চেয়ে কতটা গাঢ়?

একদিন নারালি পূর্ণিমা রাতে
মা বললেন—
কোথাও বের হলে
‘দুর্গা! দুর্গা!’ বলে বের হতে হয়
আমি তখন সেদিনের সেই রাতে
মেঘের নকশায় মেঘ মোড়ানো
ত্রিকাল দেখেছিলাম
তাতে আমার দুঃখবোধ জানা মানুষদের
একজন আমিই—
কেবল বসে থাকার ভেতর বসে থেকেছি
যেন কোথাও, যেন কোথাও
মেঘের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ
চারিপাশে অসীম শৌর্য পড়ে আছে।

আঠাশে সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটা দিন আগে
এত উদার আকাশ
যেন ক্ষয়ের পরিতাপ আমি হৃদয়ে নিয়েছি
নিয়েছি অনেক দেখার ভিড়ে
অপেক্ষার অবদমন
শ্বেতপদ্ম ফুলেরা ফুটেছে তবে
জীবন বলছে সবুজ হ
প্রতিবেদনার তড়িতাহত পোড়াতে পারে

এখানে শরৎকাল
জানি না শিউলিফুল কারা কুড়াতে যায়
রোদন করে মৎস্যঘ্রাণের বুড়ি চাঁদ
সূর্যহনহন
আর যত আশ্চর্যসুন্দর সর্বগামী ফড়িঙের দল
ভীষণ রোদ,  যেন তোমার ত্রিনয়নের তেজ ঝাঁজ

এই যে পৃথিবীতে তোমার একবার নেমে আসা থেকে জেনেছি—
ঋষিপাড়ার দুর্গাপূজা থেকে দত্তবাড়ির দুর্গাপূজা
যুগপৎ একই আর্তনাদ ও উল্লাস
এই যে ভোরের ভেতর এত এমুখ ওমুখ
দূরত্ব অনেক
অন্ধকারে আমরা আরো কৃষ্ণকায়।


গানপারে দুর্গাপূজা
শুভ্র সরকার রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you