ডিটার্মাইন্ড ছিলাম যে আর-যা হতে হয় হব কিন্তু কোনোভাবেই বাবা অ্যামেরিকান সিটিজেন আমি অন্তত হব না। ফাইন্যালি অ্যামেরিকান সিটিজেন আমায় হতেই হলো পুরাটাই সিনিক্যাল একটা কারণে, এবং কারণটা আর কিছু না, আমি ইউএসের ইনহ্যারিট্যান্স ট্যাক্স পে করার ঝামেলাটা অ্যাভোয়েড করতে চেয়েছি।
আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব। শুধু আমিই না, আমার হাজব্যান্ড এবং আমার বাচ্চারাও দ্বৈত নাগরিক। আমাদের পাসপোর্ট মোটমাট আটটা। আমরা আস্ত পরিবার যখন কোথাও কোনো দেশে বেড়াইতে যাই, পাসপোর্টের ভারেই আমরা আধাব্যাঁকা থাকি।
টিভিতে উল্টাপাল্টা বহুকিছুতে অভিনয় ইত্যাদি করে বীতশ্রদ্ধ হয়ে একটা পর্যায়ে এসে মনে হলো যে এইবার অভিনয়ের একটা ট্রাই করা দরকার, সত্যিকারের অভিনয়ের জন্যে চেষ্টা করে দেখাটা দরকার, এবং কিছুদিনের মধ্যেই হাতে এল ‘ল্যভলি অ্যান্ড অ্যামেইজিং’ ম্যুভির স্ক্রিপ্ট। গল্পটা দারুণ এবং অত্যন্ত সৎ, চরিত্রগুলা আমার মতো অসংখ্য নারীর সমস্যা নিয়া আবর্তিত গল্পের ভিতরে, নারীর নিরাপত্তাহীনতার সঙ্কট নিয়া কাহিনির ভিতর চরিত্রগুলা বাস্তবের মুকাবিলা করছিল। সুযোগ পাবো বলে মনে হচ্ছিল না তারপরও চমৎকার এই স্ক্রিপ্টটায় কাজ করার মওকা পাই কি না চেষ্টা করে দেখতে আমি ভীষণ উদ্বোধিত হয়েছিলাম একদমই ভিতর থেকে।
ছোটবেলা থেকেই আমি ভীষণ লাজুক, সবসময় নিজেরে নিয়া ভিতরে ভিতরে সন্দেহ আর আত্মদ্বন্দ্বে ভুগতাম। অভিনয়কর্মী হিশেবেও আমি ভীতু প্রকৃতির, ব্যর্থ হবার ভয়ে একদম গুটিয়ে থাকতাম কোণায়, এবং এইসব কারণে ক্যারিয়ার এবং আমার গোটা অস্তিত্বটাকেই আমি বিশাল হাসিঠাট্টার একটা ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছিলাম।
এখনও আমি লাজুক আর জড়সড় একটা মানুষ, এমনকি আমি আমার বাচ্চাদের স্কুলে শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশগুলায় একদমই সপ্রতিভ নই। ধীরে ধীরে ঠোক্কর খেয়ে খেয়ে একসময় আমি শিখতে শুরু করলাম কীভাবে নিজেরটা চাইতে হয়, নিজেকে কেমন করে প্রকাশ করতে হয়, এবং ইত্যাদি। কিন্তু অনেক পানি পুকুর-সমুদ্রে গড়ানোর পরে একসময় আমি নিজের ভিতরটাতে দেখলাম একটা সাহসের সঞ্চয় ঠিকই আছে এতদিন যা ঠাহর করি নাই। ঠিক যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখনই আমার সাহসটা তার কাজ শুরু করে। এমন কোনো কাজ দুনিয়ায় নাই যেইটা করতে যেয়ে আমি সিঁটিয়ে থাকব ভয়ে এবং এমন কোনো শক্তি নাই দুনিয়ায় যা আমারে চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখবে।
চয়ন, সংকলন ও অনুবাদন : বিদিতা গোমেজ

COMMENTS