আবের পাঙ্খা লৈয়া যাপিত সময়গুলি || রতন দেব

আবের পাঙ্খা লৈয়া যাপিত সময়গুলি || রতন দেব

শেয়ার করুন:

আবের পাঙ্খা লৈয়া  আমার অভিনীত বদরুজ্জামান আলমগীরের দ্বিতীয় নাটক। এর নির্দেশনাও আমার। এর আগে অহরকণ্ডল  নাটকে অভিনয় করেছিলাম কামালউদ্দিন কবিরের নির্দেশনায় ‘জন্মসূত্র’-র ব্যানারে। ঢাকা সহ দেশে এবং বিদেশে অহরকণ্ডল-এর ২০/২২টি প্রদর্শনী হয় এবং বেশ প্রশংসিতও হয়। আবের পাঙ্খা লৈয়া  নাটকটি প্রথম পাঠ করি যখন তখন সেটি কবিরভাইয়ের নির্দেশনায় বাজিতপুরে মঞ্চস্থ হওয়ার মহড়া চলছে। জন্মসূত্র  তাদের পরবর্তী প্রযোজনা হিসেবে নাটকটি মঞ্চে আনার কথা একবার ভেবেছিল, কিন্তু তখন রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা  নিয়ে ব্যস্ত থাকায় হয়তো এটি নিয়ে বেশি আগায়নি। অবশ্য অহরকণ্ডল-এর পর আর কোনো প্রযোজনা মঞ্চে আনতে পারেনি জন্মসূত্র, যদিও মুক্তধারা  এবং কোপেনহেগেন  এই দুটি নাটক নিয়ে অনেকদিন কাজ করেছিল।

আবের পাঙ্খা লৈয়ার মধ্যে ছোট্ট, সরল কিন্তু গভীর একটা ব্যাপার আছে। কোহিলউদ্দিন শেষজীবনে দেশের একমুঠো মাটি বহন করে নিয়ে যাবে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ঐ পারে যেখানে সে থাকে, কারণ সে চায় তার কবরে থাকবে এই মাটি। এই মাটি নিতেই সে ‘শেষরাত্রিন বিজন কোলাহলে’ মৈকুনের কবরের কাছে যায়, যে-আধাঅন্ধ মৈকুন তাকে বলেছিল তোমার জন্য আমার ঘরে আবের পাঙ্খা আইনা রাখছি। বলেছিল, আমার জন্য ভেবো না, এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়, বাইরে যাওয়ার সময়। সেই মৈকুনের কবরের মাটি নিতে গিয়ে কোহিলউদ্দিনের স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে শৈশবের লাটিম খেলা, আজিরউদ্দিনস্যার, কদমরসুল বিলের পিঠে জলডিহি আরশিছড়ির মরণপণ মারামারি, নিজামুদ্দিন, ডাকাত বটেশ্বর রায়, সিকান্দরের তীক্ষ্ণশিং ষাঁড়, মেঘনার পাড়ে পাকবাহিনীর সাথে অসম সাহসী যুদ্ধের কথা। কোহিলউদ্দিন ভাবে, মাটি তো নিলাম কিন্তু মৈকুন তুমি যে বললা আমার জন্য আবের পাঙ্খা আইনা রাখছ তোমার সেই আবের পাঙ্খা কৈ? মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সমাজজীবনে এবং সে-সময়ের মানুষের মনস্তত্ত্বে কী গভীর প্রভাব রেখেছে তার আঁচ পাওয়া যায় এই নাটকের আনাচেকানাচে।

‘উদীচী, সিলেট জেলা সংসদ’ নতুন নাটক মঞ্চে আনার জন্য যখন আমাকে দায়িত্ব দেয় তখন আবের পাঙ্খা লৈয়া  নাটকটি নির্দেশনার ব্যাপারে তাদের সাথে আলাপ করি। যেহেতু নির্দেশনার দায়িত্বটি আমাকে দেয়া হয় তখন নাটক বাছাইয়ের ব্যাপারটিও আমার উপর ছেড়ে দেয়। আমি এই নাটকটি করব বলে ঠিক করি। সবাইকে নিয়ে বসার আগে দুএকজনকে নাটকটি পড়তে দেই এবং ‘এটা কিভাবে করা সম্ভব’ এ-রকম একটা ব্যাপারের সম্মুখীন হই। তারপরও উদীচীর নাটক বিভাগের কর্মীদের নিয়ে নাটকটির পাঠ শুরু করি। মনে আছে প্রথম পাঠের পরই অনেক অভিজ্ঞ কর্মীদের মতামত ছিল এই নাটক মঞ্চে আনতে হলে এর একটা নাট্যরূপ দিতে হবে। আমি বললাম, যেটি নাটক হিসেবেই লিখিত সেটিকে আবার নাট্যরূপ দেয়া দরকার হবে কেন। আসলে আমাদের মঞ্চ নাটকের যে প্র্যাকটিস তাতে চরিত্রের মুখে সংলাপওয়ালা নাটক হলেই আমরা এক ধরনের আরামের মধ্যে থিয়েটারটা করে আমাদের ‘সামাজিক দায়িত্ব’ পালন করার ‘মহৎ’ কর্তব্য সম্পাদন করি। যারা নাট্যরূপ দেয়ার কথা বলেছিলেন তারা আসলে তুলনামূলক অ্যাক্টিভ কর্মী, অন্যদের এ নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য নেই কারণ তাদের মতে নির্দেশক ঠিক করে দিবেন কী করতে হবে। তারও বাইরে কয়েকজন আছেন যারা এই নাটক পাঠের পর এক ধরনের ‘চাপের মুখে’ পড়েছিলেন যে কীভাবে কী করা যায় অর্থাৎ তাদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সিলেটে আমাদের মধ্যে সেলিম আল দীনের কল্যাণে বা ঢাকা থিয়েটারের কারণে বর্ণনাধর্মী নাটকের একটা বোধ বা ‘ভালোই’, ‘কঠিন’, ‘ঢাকা থিয়েটারই শুধু করতে পারে’ এমন একটা চিন্তা বা আড্ডা-আলোচনা ছিল। কিন্তু এর আগে এই ধরনের নাটক করার কোনো চেষ্টা তেমন একটা দেখা যায়নি। আসলে আমার মনে হয় তেমন কোনো পাণ্ডুলিপিও সিলেটের নির্দেশকদের আকৃষ্ট করেনি। আর সেলিম আল দীন ও ঢাকা থিয়েটার  যুগলবন্দীর কারণে উনার নাটকের ব্যাপারে আর কেউ তেমন আগ্রহ দেখায়নি বলে আমারও ধারণা। যদিও ‘বাসন’ নাটকটি নান্দিক নাট্যদল  মঞ্চে এনেছিল এবং অনেক বছর ধরে এখনো প্রদর্শনী করছে। এই কারণেই আবের পাঙ্খা লৈয়া  সিলেটে করতে চাইলাম ব্যাপারটি এমন নয়। ব্যক্তিগতভাবে বদরুজ্জামান আলমগীরের নাটক আমার কাছে ঐসব ‘মহৎ কাজের’ বাইরে জীবনের কাজ বলে মনে হয় এবং এই নাটকটিতে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি খুবই আবেগঘন এবং শক্তিশালীভাবে এসেছে যা মুক্তিযুদ্ধের ক্লিশে সাহিত্যের বিপরীতে মূলগত ভাবনায় মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে।

আবের পাঙ্খা লৈয়ার মতো এ-রকম একটা ‘কঠিন’ নাটক সিলেটের মঞ্চে উপস্থাপনের কাজটি যে সহজ হবে না এটি তো বুঝতে পেরেছিলাম প্রথমেই। আলমগীরভাইয়ের অন্য অনেক নাটক পড়া ছিল, ঐকিক  প্রযোজিত ‘পুণ্যাহ’ দেখা ছিল, ‘অহরকণ্ডল’ করা ছিল, কিন্তু আবের পাঙ্খা লৈয়া  সত্যিই মঞ্চে করাটা কঠিন হবে এটা বুঝেছিলাম। বিশেষত বিভিন্ন দলের বিশিষ্ট নাট্যকর্মীদের নিয়ে একটি থিয়েটার করা আর কোনো দলের প্রযোজনা হিসেবে একটা নাটক করার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখানে দলের জন্য অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হয়, আবার যেহেতু দলের প্রযোজনা তাতে দলের প্রত্যেক কর্মীর অন্যরকম ইনভলভমেন্টও থাকে এটাও ঠিক। এইসব পজিটিভ নেগেটিভ মিলিয়ে নাটকটি মঞ্চে আনার জন্য মহড়া শুরু করলাম। অনেকেই অবস্থাদৃষ্টে ভাগল দিলো, এর বিপরীতে অনেকেই আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরল এবং আটকে গেল। আস্তে আস্তে একটা আদল পেতে থাকল। এর মধ্যে আমরা অর্থাৎ উদীচী সিলেট জেলা সংসদ  এই নাটকের জন্য নতুন নাট্যকর্মী আহ্বান করলাম।  নতুন কয়েকজন কর্মী পেলাম যারা অনেক পরিশ্রম করল এবং একসময় নাটক প্রদর্শনীর তারিখ ঠিক হয়ে গেল। সেট ডিজাইন করল উদীচীরই অভিনেতা, ডিজাইনার নির্দেশক অর্ধেন্দু দাস, কস্টিউম করল অভিজিৎ দাস জয়, লাইট ডিজাইন করল দর্পণ থিয়েটারের সদস্য হুমায়ূন কবির জুয়েল, স্টেজ ম্যানেজার হিসেবে ইয়াকুব আলী নাটকটি শো-এর দিকে নিয়ে যাওয়ার জোগাড়যন্ত্র করল এবং যা হয় যতই শো-এর দিন ঘনিয়ে আসতে থাকল ঐসব প্রথম দিকের দোদুল্যমানতা দূর হযে যেন অন্য এক উন্মাদনা আমাদেরকে আস্তে আস্তে গ্রাস করল যা যে-কোনো নির্দেশকের জন্যই খুবই আরাধ্য এবং ভালো প্রদর্শনীর জন্য প্রয়োজনীয়। নাটকটির প্রথম প্রর্দশনী হয়েছিল একটি উৎসবে। ‘একুশের চেতনায় নাট্যোৎসব’ বলে পক্ষকালব্যাপী প্রতি বছর একটি উৎসব হয় সিলেটে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের উদ্যোগে এবং এই উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক দল নতুন নাটক করার চেষ্টা করে। খেয়াল করলাম উদীচীর এই নাটকটি নিয়ে দর্শক বিশেষত নাট্যকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, এর একটি কারণ এইবারের উৎসবে নতুন নাটক কম ছিল এবং আরো একটা ব্যাপার যে এটি বর্ণনাধর্মী নাটক বলে ইতিমধ্যেই জানা হয়ে গিয়েছিল। মার্চের ছয় তারিখে প্রথম প্রদর্শনীর সাথে আরো একটি ব্যাপার জড়িয়ে গিয়েছিল কারণ ছয় মার্চ উদীচীর জন্য বিশেষ দিন। ১৯৯৯ সালে যশোরে অনুষ্ঠিত উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলায় দশজন শিল্পীকর্মী ও সাধারণ মানুষ মারা যান। সেইজন্য ৬ মার্চের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে আমাদের মধ্যে ভালো করার অন্যরকম একটি তাড়না কাজ করেছিল এবং প্রদর্শনীটি ভালো হয়েছিল।

অনেক নির্দেশক ‘টোটাল নাটক’ করার জন্য নাটকে অনেক কোরিওগ্রাফি, আলোর বিশেষ ব্যবহারে অনেক নাট্যমুহূর্ত তৈরি করা এবং নাটককে জম্পেশ করার চেষ্টা করেন। বড় নির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদের নাটকে এসব দেখি, কামালউদ্দিন নীলুর নাটকে দেখি, এই সময়ের প্রতিভাবান নির্দেশক রেজা আরিফের নাটকে দেখি, বাকার বকুলের নাটকে দেখি, মুগ্ধ হই, কিন্তু আমার কাছে সেসব জম্পেশ করার প্রচেষ্টা বেশি গুরুত্ব পায় না। একটা ব্যাপার স্বীকার করা যায়, আমার সেইসব কোরিওগ্রাফি বা টোটাল থিয়েটারের ক্ষমতা কম আর এইসব করার আগ্রহও কম। এর মানে এই নয় দর্শক আমার নাটক পছন্দ করুক আর না করুক তাতে আমার কিছু আসে যায় না, বরং এর উল্টো। আমি আসলে চাই নাটকের বক্তব্য ছাপিয়ে শুধু উপস্থাপনের ক্যারিশমা আমাকে ভালো নির্দেশকের তকমা না দিক।

নাটকের প্রথম প্রদর্শনীর পূর্বের দুরুদুরু অবস্থা কাটিয়ে প্রদর্শনীটি ভালোভাবেই শেষ হলো। নাটক শেষে দর্শকের অভিনন্দনও জুটল। আর আমাদের মধ্যে যে একটা আনন্দ ভর করল তাতে অনেক রাত পর্যন্ত আমরা নিজেরা আড্ডা এবং ভালোলাগার একটা বোধের মধ্যে কাটিয়ে দিলাম। দর্শকের মধ্যে একটা ভাবাভাবির ব্যাপার লক্ষ করেছিলাম যা আমাকে আনন্দ দিয়েছিল। নাটকের ভাষাশৈলী বা শব্দচয়ন আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য ভাষার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন এবং আমরা এই আপাত কঠিন অব্যবহার্য শব্দাবলির সংলাপ কীভাবে কমিউনিকেট করাব সেটা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু দেখলাম দর্শক সেসব শব্দাবলি এবং সংলাপ বোঝার চেষ্টায় যেন কিছুটা অধিক মনোযোগ দিয়েছিল। এর মধ্যে সবাই নাটকটিকে বা থিয়েটারটা পছন্দ করেছিল তা নয়, কেউ বললেন এইসব নাটক ঢাকায় চলে আমাদের এখানে ভালো হয় না, কেউ আবার নাট্যকারের খোঁজখবর জানতে চাইলেন এবং বললেন এ-ধরনের সাহিত্যনির্ভর নাটক আরো বেশি হওয়া উচিত। মোটকথা নাটক ‘ভালো হয়েছে’ ‘ভালো হয়নি’-র বাইরে আরো কিছু কথাবার্তা চলেছিল এবং একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

নাটকটির তিনটি প্রদর্শনী হয়েছিল। এখন যখন এই লেখা লিখছি তখন অনেকদিন এই নাটকটির কোনো প্রদর্শনী হয় না, কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে যারা নাটকটি দেখেছিল তারা এই নাটকটি আর শো হবে কি না জানতে চান। আমরা উদীচীতে বা বন্ধুদের আড্ডায় নাটকটি আবার করা যায় কি না এ নিয়ে আলাপ করি। কোনো কোনো দর্শক অন্য নাটক দেখার ফাঁকে যখন আমাদেরই কোনো অভিনেতার কাছে এই নাটকটির প্রশংসা করেন, তখন আমাদের ভালোলাগাটা আবার চারিয়ে ওঠে। এই নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার কিছুদিন পর একটা ব্যাপার লক্ষ করলাম, আমাদের মধ্যে যারা লেখক তাদের লেখায় কখনো কখনো কোনো কোনো শব্দচয়ন বা বলার ভঙ্গিতে যেন হঠাৎ বদরুজ্জামান আলমগীরের একটা ছোঁয়া পাই, ব্যাপারটা আমার বদরুজ্জামান আলমগীর প্রীতির কারণে মনে হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু এই নাটকের পর কিছুদিনের মধ্যেই থিয়েটার মুরারীচাঁদ প্রযোজনা ইয়াকুব আলীর নির্দেশনায় বদরুজ্জামান আলমগীরের পানিবালা  এবং অর্ধেন্দু দাশের নির্দেশনায় নগরনাট প্রযোজনা গোলাম শফিকের বাইচাল  এই দুটি আখ্যাননাট্যের সফল মঞ্চায়নে আমার আনন্দের মাত্রা একটু বেশিই ছিল।

অনেকদিন পর উদীচী সিলেট  নতুন নাটক এনেছে মঞ্চে। তরঙ্গভঙ্গ। আমার নির্দেশনায় সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ’র এই নাটকের দুটি প্রদর্শনী হয়েছে। ভাবি যে এই দীর্ঘ সময়ে উদীচী  মাত্র দুটি নাটক মঞ্চে এনেছে, অন্য দলগুলোও নতুন নাটক এনেছে, কিন্তু ঐরকমই কয়েকটি প্রদর্শনীই হয় একেকটি নাটকের। খুবই অনিয়মিত। দর্শক নাই তাই নাটক কম হয়, আবার ভালো নাটক কম হয় তাই দর্শক তৈরি হয় না, এ-রকম দুষ্টচক্র থেকে বেরোনো যাচ্ছে না। সিলেটে মঞ্চনাটকের একটা রেওয়াজ আছে এবং অনেক আগে থেকেই ঐসব ঢাকামুখিনতার বাইরে একটা স্থানিক আন্দোলন বা চর্চার ঐতিহ্য আছে, প্রতিবছর প্রায় মাসব্যাপী মঞ্চনাটকের একটা উৎসব হয়, দিনাজপুরেও শতবর্ষী দিনাজপুর নাট্য সমিতির উদ্যোগে মাসব্যাপী নাট্যোৎসব এবং প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু এর বাইরে চট্টগ্রাম আর বরিশাল ছাড়া আর কোনো জেলায় নিয়মিত মঞ্চনাটক হওয়ার রেওয়াজ কম। আমাদের সতেরো কোটি মানুষের দেশে ঢাকার বাইরে কোথাও সপ্তাহে বা মাসেও একটা মঞ্চনাটক হয় না। দেশে নাকি উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, তবে যে শুনি কোন দেশ কত উন্নত তা বোঝা যায় তার থিয়েটার দিয়ে?


রতন দেব। অ্যাক্টার, থিয়েটারডিরেক্টার, সিঙ্গার, ভয়েসআর্টিস্ট, কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট।

রচনাটা আগে একবার প্রকাশিত হয়েছিল ‘বদরুজ্জামান আলমগীর : বৃক্ষ একটি মনোহর’ সংকলনে, যেখানে কবি ও নাট্যকার বদরুজ্জামান আলমগীর মূল্যায়ক পঞ্চাশেরও অধিক রচনা আঁটানো হয়েছে। বেজায় বিশাল বইয়ের বপু ও কলেবর, অনধিক পৃষ্ঠাসংখ্যা পাঁচশোর উপর। সংকলনটা লালন নুর সম্পাদিত, দুইহাজারতেইশের সেপ্টেম্বরে জলধি  ঢাকা থেকে প্রকাশিত। বদরুজ্জামান আলমগীরের সৃজনবিশ্ব সম্পর্কে এ-সংকলন পাঠক সাধারণের অনুসন্ধিৎসা বাড়াবে। এবং, আরেকটা তথ্য, লেখকের অনুমতি নিয়ে এই রচনাটা গানপারে অ্যারেইঞ্জ করা হলো।—গানপার


রতন দেব রচনারাশি
থিয়েটার গানপার
গানপারে বদরুজ্জামান আলমগীর

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you