বাংলাদেশের কবিতায় যে-কালখণ্ডটি দ্বিতীয় দশক হিশেবে এরই মধ্যে পরিগণিত, কবিদের আবির্ভাবসময়ের নিরিখে এহেন দশকভাগা, মূলত অনলাইন প্রকাশনা মারফতে এই দশকের সক্রিয় কবিরা এরই মধ্যে বেশ অনেকদিন হয়ে গেল পাঠকসমক্ষে এসেছেন। লক্ষযোগ্য কয়েকটি চিহ্ন গোচরীভূত হতেছে এদের কবিতায়; যেমন, সম্ভবত, পূর্বজ কবিদের কাজে হেতুযুক্ত/অহৈতুকী বিমুগ্ধতার বাইরে যেয়ে এ-সময়শীর্ষের বোধিদীপ্ত অংশের কবিরা চাইছেন নিজেদের কবিতা আগায়া নিয়ে যেতে। এই অধ্যায়ের, বোধিদীপ্ত এই অংশের, অন্যতম কবি রাজীব দত্ত।
গদ্যস্পন্দের ক্যামোফ্লেজে এই কবি নির্মাণ করে চলেছেন তার কবিতামায়াবী নিধুবন। দত্তারণ্যে অ্যাবসার্ডিটি আছে, স্যুরিয়্যাল ইল্যুশন আছে, এবং রয়েছে অভাবিত কল্পনাসারবত্তা; তার কবিতায় চিন্তানুক্রমভাঙা ভাববিন্যাস কৌতূহলোদ্দীপক; যদিও জোরাজুরি নাই, অহেতু শব্দচণ্ডালপনা নাই, বিচ্ছিন্ন ও অচৈতন্যপ্রশাসিত ছল-বল-কৌশলের এস্তেমাল নাই; আছে বনবিধৌত মৃদু বিষাদ, আছে শান্ত আমোদ, আছে অবাক স্বতন্ত্রাভাস।
অভিষেক ঘটেছিল এ-বইটি দিয়েই চিরপ্রবাহিতা বাংলা কবিতার বনে এই চিত্রল কবির। বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৫ সনে। এর পরেও কবিতাবই বেরিয়েছে এই কবির। এবং এরই মধ্যে এই কবি চিত্রশিল্পী হিশেবে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। সবিশেষ বাংলা বইপ্রকাশনাশিল্পে তার প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণসজ্জার কাজ অত্যন্ত শক্তিমত্তাবহ।
লেখা : আতোয়ার কারিম

COMMENTS