ছত্তার পাগলার ঈদ মোবারকের গান || সংগ্রহ ও ভূমিকা / সরোজ মোস্তফা

ছত্তার পাগলার ঈদ মোবারকের গান || সংগ্রহ ও ভূমিকা / সরোজ মোস্তফা

ছত্তার পাগলার পুরো নাম আব্দুস সাত্তার তালুকদার। জন্মস্থান এবং পিতৃভূমি নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার লালচাপুর গ্রাম। গ্রামবাসীর সঙ্গে বিরোধিতার সূত্র ধরে হাজারমনি ধানের পৈতৃক সম্পদ রেখে চলে আসনে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজলোর নুরুল্লাচর গ্রামে।

ছত্তার পাগলা মূলত রাস্তার গায়ক। নিজের তিন কন্যাকে সাথে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় গাইতেন জলজ্যান্ত জীবনের গান। তাঁর গালায় গান ছিল। প্রতিটি মানুষই হয়তো বেঁচে থাকে তার নিজস্ব গানে; কিন্তু গানের ইচ্ছাধীন খুব কম জনই হতে পেরেছেন। মুক্ত পাখির স্বভাবে ছত্তার পাগলা ছিলেন গানের ইচ্ছাধীন। কংস-মগরা-ধনু-ঘোড়াউৎরার বিপুল জনপদের ভাষাকে সুরে পরিণত করেছেন। লোকভাষার মায়া ও চরিত্রকে একটা অপূর্ব গায়কী দিয়ে রাস্তায়-রাস্তায়, সমাবেশে হাজির করেছেন। গানের কথায় ও আয়োজনে কোনো ভনিতা নেই, আছে চেনাজানা জীবনের নিঃশ্বাস। ‘ইঞ্জিন ছাড়া ঠেলাইয়া নেই খালি মালগাড়ি / সব ইঞ্জিন বন্ধ আইজকাল নাইগা ব্যাটারি’। কিংবা ‘হারভেইচ্ছারে তওবা কইরা বল খেলাডা ছাড় / আমি তরে না করতাছি পাগল(ও) ছত্তার / একটা বলে ২২ জন লাইত্থায় এইডা কী কারবার?’ — প্রশ্ন ও সরলতার যাপিত জীবনই হয়ে উঠেছে তাঁর কথা ও গান।

চারণকবিদের স্বভাব ও প্রকৃতি নিয়েই এই জনপদে বিচরণ করেছেন তিনি। মুখে-মুখেই তাৎক্ষণিক গান রচনা করতেন এবং সুর দিতেন। সুরের মাধুর্য নিয়ে গানের প্রতিটি কথাই মানুষের মনকে চুম্বন করেছে। স্বভাবকবিদের মতো জীবনের গূঢ় সত্যকেও সারল্যে প্রকাশ করেছেন। নিজের হাতে বানানো বিশেষ এক ধরনের বাঁশি বাজাতেন তিনি। কন্যারাই ছিল তাঁর দোহার। গান গাওয়ার সময় তার কন্যার হাতে থাকতে ডুগডুগি আর তিনি নিজের সেই বাঁশিটা বাজাতেন। ফকিরি তরিকার ভেতরে থেকে কিংবা সুফি চিন্তায় অবগাহন করেও প্রথাগত বাউলের মতো ছিল না তাঁর জীবন। মূলত জীবিকাই তাঁকে রাস্তায় নামিয়েছে। মাটি কাটার কামলাদের সাথে মাটি কেটেছেন আর গান বেঁধেছেন ‘কাঙ্গাল মাইরা জাঙ্গাল দিলে গুনা অইব তর’। ২০১৪ সালে বাংলার এই বাউল ও চারণকবি পরলোকগমন করেন।

কংস নদীর তীরে তাঁর ছোট্ট মাজার। ছেলে জয়নাল আবেদিন এই মাজারের পরিচর্যা করেন। ছত্তার পাগলা মৃত্যুর আগে তাঁর সব গানই অনুলিখন করে কবি রইস মনরমের কাছে গচ্ছিত রেখে গেছেন। উনার থেকেই এই গানটি সংগ্রহ করেছি। ‘ঈদ মোবারকের গান’ — এই দীর্ঘ কবিতাটিতে ছত্তার পাগলার মতো গরিব মানুষের ঈদ উদযাপনের ছবিই উঠে এসেছে।



ঈদ মোবারকের গান
শোনেন ওগো সুলতান বাবাজি, খাতা-কলম হাতে লইছি
ঈদ মোবারকের গান লেখতাছি, একটা কথাও যে (যেন) মিথ্যা হয় না
ঈদ মোবারক সবুজ সেনা, মোহনগঞ্জ নেত্রকোনা …(ঐ)

প্রথম আমি বিসমিল্লাহ কইলাম, পরে সভাত আসসালামু আলাইকুম দিলাম
তারপরে সবার কাছেই দোয়া চাইলাম, সারা পৃথিবীর মালিকরে যেন আমি ভুলি না। (ঐ)
এখন পিতা মো. আ. হাসিম তালুকদার, আমি আপনার ছেলে মো. পাগলা ছত্তার
দোহাই দিলাম শাহ সুলতান বাবার, আমি এই বিশ্বের মালিকরে যেন মোটেই ভুলি না। (ঐ)

আম্মাহুজুর আম্বিয়া খাতুন ও আরশের মা, আমার ভুল হইলে আপনি করবেন ক্ষমা।
কত যে কষ্ট করতাইন, পরাইতাইন প্যান্ট-শার্ট, জামা অই সমস্ত যে (যেন) আমি কোনোদিনই ভুলি না।
লালচাপুরের জানু তালুকদারের নাতি আমি আমার দাদা আছিন অনেক অনেক দামি
এই এত্ত বড় বংশের ইজ্জত আমি, কোনোভাবেই রাখতে পারি না….. (ঐ)

এলাহি ভরসা তুমি, ঈদের গান গাইতাছি আমি, দয়া করো দয়াল নবি
আলী সাব, হাসান, হোসেন মা ফাতেমা … (ঐ)
পাক পাঞ্জাতন করলাম স্মরণ, ধরলাম আমি সবার চরণ
বলেন এখন আমার কিতা করন, আমি তো কেউরেই বুঝাইতে পারি না … (ঐ)

শোনেন ওগো শাহ সুলতান বাবা তোমার মো. সত্তার পাগলার এই যে গানটা
সবাই যেন মন দিয়া শোনে, না-পছন্দ যেন কেউই করে না … (ঐ)
বাবা শাহ শারপিন, বাবা শাহজালাল, বাবা শাহ কুতুব, বাবা শাহ সুলতান
গাইতাছি আইজ ঈদেরই গান
গানের পাইল ধরতাছে মো. জয়নাল আবেদীন আর তার বোন সুলতানা … (ঐ)

ঢাকা মিরপুর ১নং শাহ আলী বাবার মাজারে গিয়া, দেখতাম যদি এই ঈদের গানটা গাইয়া
যদি বড় বড় প্রেমিকরার লাগত দায়ামায়া, তাহলে আমরারে সম্ভব দিত অনেক সান্ত্বনা … (ঐ)

হইল যখন দুই হাজার সাল, খাওনের কাম আছিন একটা খুব বড় বোয়াল
চাটমহল কাঁচা মরিচ অসংগত ঝাল, ভালা বেগুন নতুন আলুগোডা বেশি দিলাময় না … (ঐ)

ওরে আরো হইল ১৪০৭ বাংলা, ঈদের গান গাইতাছে মো. ছত্তার পাগলা
সারা পৃথিবী সোনার বাংলা, বিনাশ হইত আমি দিতে চাই না … (ঐ)
সনের প্রথম পহেলা বৈশাখ, খাইবান সবাই গিমাই তিতা, নাইল্লার শাক
হিদল আর কাঁচামরিচ ভর্তা বানাইয়া খাইয়া দেখলাইন না … (ঐ)
আমি হিদল ভর্তা খাইয়া, দুনিয়াডা দেখি চাইয়া
বেধুন্দা হইয়া রইলাম বইয়া বেশিকিছু বুঝতারি না … (ঐ)

ঈদে বাচ্চার মায় কয় কিনতো নতুন শাড়ি, হায় হায় এখন আমি কী উপায় করি
দিতে পারি না চার ছেলের প্যান্ট-শার্ট-লুঙ্গি, আরো পাঁচটি মেয়ের কামিজ-পায়জামা … (ঐ)
আল্লার মাল দুই তরফের নয়টি সন্তান
আমি ছত্তার পাগলার পুঞ্জি হইল কথা আর গান
ছোট আবুর কপালে কালি দিয়া তুলছে ঈদের চান
আবুর মার পরনে একটা কাপড় গোসল করে না … (ঐ)

আমি যদি কোনো কথা কই তারা আমারে
চাইয়া দেখে আড়ে আড়ে
আর রাগে খালি ফোত ফোত করে
আমার সাথে কোন কথাই বলে না… (ঐ)

এখন হায় কী করি, হায় কী করি সে তো প্রাণেশ্বরী
বেডি যদি বেজার হইয়া থাকে তাইলে আমার কোনতাই ভালা লাগে না … (ঐ)
হায় রে পোলাপানে খাইত চায় ঈদে সেমাই আমি করতে পারি না কোনো কামাই
আমি আব্দুর রহমানের ঝিয়ের জামাই, সাং নউল্লারচর হয় ঠিকানা … (ঐ)

বোঝে না আবু কয় তার মায়ের কাছে
পাশের বাড়িত তেলের পিঠা বানাইতাছে
আমরার কী আর মনে লয় না খাইতে, তুমি কেরে পিঠা বানাও না … (ঐ)

আবুর মা চানবানির বোন রব্বানী
আবুর কথা শুইন্যা চোখে আইলো পানি
রাগে কয় আমি পিঠা বানাইতে জানি
তোমার বাবায় কেরে জোগাল দেয় না … (ঐ)

আবুর বাপে কয়, ছাড়লাম লালচাপুরের তালুকদারি
এখন আমি কিতা করি
হাতে নাইগা পয়সাকড়ি
পানিডা সহ লাগে কেনা … (ঐ)

হাওলাত কইরাও যদি টাকা পাইতাম
তবেও-না পোলাপান লইয়া ঈদ করতাম
কওছেন আবুর মা এখন কিতা করতাম
সুদ আর গন্ডি ছাড়া কেউ টাকা দেয় না … (ঐ)
সুদি কইরা টাকা আনা, আমার মাতাপিতার আছে মানা
সুদ-গন্ডি-ঘুষ খাওয়া দোষ দেওয়াও দোষ, এই কথাডা লোকে কেরে মানে না … (ঐ)

গাউস, কুতুব, পির, আউলিয়া ফকির, দরবেশ
আমি ভাবনা কইরা হইতাছি শেষ
এই সারা পৃথিবী সোনার বাংলাদেশ
কী দশাডা যে হয় আমি কইতারি না … (ঐ)

শোন পোলাপান, শাস্ত্র-দলিল-কোরান-হাদিস
কেউ না মানলেও তোরায় মানিস
আমি কিতা কই ভালা কইরা শিখ
নইলে আমি তোরারে সন্তান বইলা মানতাম না।

আমি বলব খারাপ বেডির নষ্ট সন্তান
আমি ভালা কইলেও তারা করে অভিমান
এই সম্ভালা (এর চেয়ে ভালা) আমার কথাডা মান
তরার মায়েরে তরা দোষী মানাইছ না … (ঐ)

মো. মিলু মিয়া, খায়ের, সুজন, সুমন
তোমরা বন্ধুবান্ধব আছো যত জন
কামালপাশা চৌধুরীরে লইয়া
সবাই মিলিয়া ঈদের বোনাস দিতে পারো না … (ঐ)

আবুর মা রে, ছোটদের মাথা-পিঠ আতাইয়া
ভালোমতে দেও বুঝাইয়া
কও ঈদ করবা তোমরা বড় হইয়া
দেখো-না তোমারার বাপে এখন কামাই করতে পারে না … (ঐ)

আবুর বাপে কয় ছেলেরা ছোট, মেয়েরা বড়
আবুর মা রে তুমি আর কিবায় ঈদ করো
তুমি পোলাপান লইয়া বইয়া থাকো সাং নউল্লারচর
আমি অসুস্থ হইয়া গান গাইতে হই রওনা … (ঐ)

ওরে আমি পলিথিনের একটা ব্যাগ লইয়া
বাসাবাড়িত যাব চলিয়া
সেমাই আর পিডা আনব চাইয়া-চাইয়া
আর পুরান কাপড় আনতে পারি যদি কথাবার্তা কইয়া
ঈদ তোমাদের মন্দ হবে না … (ঐ)

হায় রে আমি লালচাপুরের ছত্তার পাগলা
সারা পৃথিবী সোনার বাংলা
এখন আর দিতে পারি না কামলা
শরীরে বেশি শক্তি পাই না … (ঐ)

দিছি সাং নউল্লারচর খেলন্তির দোকান
আছে শুধু সুলতানি চা জালালি পান
যার মনে চায় আসিয়া খান
না-খাইলে কেউরে আমি জোর করব না … (ঐ)

দোকানে বসেন কিছু আলাপ করি
দুপুর বারোটা বাজে ঘড়ি
কেন যাইতাগা চাইন তাড়াতাড়ি
আমার কাছে কি বওনেরও মনে চায় না … (ঐ)

দেখেন পাশাপাশি তিন দোকানদার
এইটা হইল আনন্দবাজার
দুবরাজ আলী আজিজ মাস্টার
এইখানে ছত্তার পাগলার প্রেমের কারখানা … (ঐ)

এই যে প্রেমপিরিতি ভালোবাসা
করি কিছু রঙতামাশা
মন মিললে মিলামিশা
না কইরা কেউরে ছাড়ি না … (ঐ)

আনন্দ কেলায় বেশি করে
শোনেন বলি ধীরে ধীরে
আজিজ মাস্টার আর পাগলা ছত্তারে
আনন্দ ছাড়া থাকতে পারে না … (ঐ)

মো. পারভেজ, নাছিমা, আনোয়রা, মমিন, নূর-ইসলাম, বধুমিয়া, কামাল, শামীম
পারভিনা, কল্পনা, জয়নাল আবেদিন, মো. সুলায়মান আর সুলতানা … (ঐ)
সুমনইয়্যা আর সুলতানইয়্যা এরা দুই ভাই তেঁতুইল্যার মাস্তান স্বপনইয়্যা

শুভ আকাশ মিয়া, টাইট হইল রিকশা কিইন্যা, আলাদিনে কেউ ধার ধারে না … (ঐ)
হীরামনি, তাসমিনা, পপি, শাপলা, সাজু, কেশরী, তোমরার কথা স্মরণ করি
আলমগীর, জাহাঙ্গীর, শামসু পাগলা মিলন মালা আর কলিমা … (ঐ)

লও আমরা সবাই মিইল্যা ঢাকা শহর যাই চলিয়া
আওয়ামী লীগের মিছিল কইর‌্যা দেইখ্যা আইগ্যা চিড়িয়াখানা … (ঐ)
চিন্তা করি ঘরে বইয়্যা, গান লিখতাছি বাতি জ্বালাইয়া
দেখবাম কামালপাশা চৌধুরীর পাশে গিয়া অনেকদিন ধরে আমি ঢাকা যাই না … (ঐ)
পরে রাজধানী ঢাকা গিয়া, নয়নের পানি ফালাইয়্যা
দেখবাম কয়ডা কথা কইয়্যা, কিতা করে মা হাসিনা … (ঐ)

বঙ্গবন্ধুর মেয়ে প্রধানমন্ত্রী, সম্ভব কথা শুইন্যা প্রাণে দিব শান্তি
অনেক ব্যথা পাইয়্যা গান লিখতাছি, আমি মনে জাইন্যা মিথ্যা কই না … (ঐ)
শাহাবউদ্দিন রাষ্ট্রপতি, এখন সংসদে কথা কইতাছি
জানি প্রজার সুখে রাজার শান্তি, দুঃখিত স্পিকারের নাম কেরে মনে থাকে না … (ঐ)
জানি হিন্দু আর মুসলমান, সবাই একই আদমের সন্তান
বাংলাদেশে থাকে যেন মান-ইজ্জত-সম্মান
আমি সত্তার পাগলার এই প্রার্থনা …  (ঐ)

খারাপ বেডির ছেলে তার বাপেরে ঠাইত মাইরালতো চায়
তার বাপে যদি ভালো ভালো কথা বলে, সে রাগে তার বাবার বায় কোদায়
বাপের সাথে রাগ করিয়া সবসময় তার মার সাথে থাকে খায়
মা-ও তার জি-পুত লইয়্যা স্বামীর বিরুদ্ধে একটা দল বাইন্দালায়

পুতে কয় আমি কামাই করি আমার মায়ের দোয়ায়
বাবা আমার বান্দা বান্দা, খুব ভালা হইত যদি মইর‌্যা যায়
বাপে বেশি দামের একটা শাল কিনে দিছিন এইডা তার শইল্যের তলে বিছায়
হি যে ৫০ টাকা দিয়া একটা কিনছে এইডা কান্দো লইয়্যা বেড়ায়
বাপে বলে মাথার ঘাম পায়ের পাতাত ফালছিলাম আমি ঝি-পুতের দায়
তারায় এখন সবসময় আমার দিকে রাগে চোখ রাঙায় …

বাপে বলে হায় রে আমি জনমভরা ভোট দিছি বঙ্গবন্ধুর নৌকায়
পুতে তার মায়রে লইয়্যা বিএনপি করে এখন কী করি উপায়
ছেলে বলে আমার ভোট আমি দিব মনে যারে চায় …
কোনোদিন ভোট দিব না আমি বাবা তোমার কথায়
বাবা কাইন্দা কাইন্দা বলে, দুই নয়নের জলে
পুত তুমি আমার ঘরের না, তোমার বিচার করে যে আল্লায়
এই পর্যন্ত করে ক্ষেন্ত মো. ছত্তারও পাগলায়।।


১৭ এপ্রিল ২০১৪ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৫০মিনিটে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলাধীন সিংধা ইউনিয়নের নূরুল্লারচর গ্রামে নিজবাড়িতে গণমানুষের কবি গীতিকার ও গায়ক ছত্তার পাগলা শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৭ বছর। লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতির এক কালপুরুষের অন্তর্ধান হলেও রইল লোকের-মুখে-মুখে-ফেরা তাঁর অজস্র রচনা। লোকগীতিকার বাউল আব্দুল সাত্তার তালুকদার ওরফে ছত্তার পাগলার গানগুলো গ্রন্থাবদ্ধ হয়ে বেরোলে বাংলাদেশের লোকগানধারার আরেকটি দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

এই নিবন্ধটি ‘ঈদ মোবারকের গান’ সংগ্রহ ও পাঠপ্রস্তাবের একটি ভূমিকা মাত্র। ফলে এইখানে গানপাঠ মুখ্য, ভূমিকানিবন্ধ অত জরুরি নয় পড়া। তারপরও কয়েকটি তথ্য ও অল্পকলেবর শিল্পীপরিচয় এইখানে দেওয়া গেল যা পাঠকের কিছুটা কাজে লাগতে পারে। শেষমেশ ছত্তার পাগলার নামের বানানবিভ্রাট নিয়ে একটি কথা। পাঠকের মনে খটকা জাগতে পারে — ছত্তার, ছাত্তার, সত্তার, সাত্তার — পাগলার নামবানান কোনটা গ্রাহ্য? উত্তরে এইটুকু বলা যায়, আমরা তাঁর হস্তলিপিত স্বাক্ষর দেখে নামবানান সাব্যস্ত করেছি। -কার ছাড়া, ছ দিয়ে, ছত্তার। আমাদের মনে হয়েছে ‘ছ’ বর্ণেই নিজনামের স্পেলিং পাগলার অভিপ্রায়। যেমন ‘ছফা’ নিয়া বা ‘হাছন’ নিয়া বাঙালি ‘শিক্ষিত’ মধ্যবিত্তের একটু সমস্যা হয়, ছত্তারেও তা-ই হবে হয়তো, হোক।

সরোজ মোস্তফা রচনারাশি

… …

COMMENTS

error: