‘এক যে ছিল দেশ’ নিঃসন্দেহে তপন সিংহের স্মরণীয় সৃষ্টি। তাঁর আগের ছবিগুলি দু-একটি যা আমরা দেখেছিলুম, ভুলে গেছি। কিন্তু এটি সম্পর্কে স্লোগান তুলে বলব, ভুলছি না!! ভুলব না! কেননা, আরো শত শত বাংলা ফিল্মের ওপর এই শাকগর্ভ ছোটখাটো আঁটিটি চাপিয়ে তপন সিংহই শেষপর্যন্ত বাংলা কমার্শিয়াল ছবির ভরাডুবির ব্যবস্থা করলেন। এ তাঁর অক্ষয় কীর্তি। এই ছবির জন্য তাঁকে এ কারণেই জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আলোকেন্দু বোধ নিকেতন ছবিটির প্রযোজক। আসলে জড়-বুদ্ধিরাও যে ফ্যালনা নয় তথা বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পে তাদেরও যে একটা অবদান থাকতে পারে — এ ছবি তারই প্রামাণ্য দলিল।

যে-ছবি এর আগে আমরা শত শত বার দেখেছি, সে-সম্পর্কে এর বেশি বাগবিস্তার করা কত কঠিন। সেই স্টক দৃশ্য, স্টক অভিনয় — বড়ুয়ার আধলা কেক যেন, প্রতি কেকেই যথাপূর্ব স্থানে মোট সাতটি কিসমিস। প্রকাশভঙ্গিমার চূড়ান্ত দারিদ্র্য ও চরমতম ব্যর্থতা। তথাকথিত আই.এস্. জোহার বা মেহমুদকৃত ‘ইয়ে বোম্বে হ্যায় মেরি জান’ প্রমুখ হিন্দি ছবিগুলি কেমন হয়ে থাকে ‘এক যে ছিল দেশ’ দেখে তা অনুমান করা যেতে পারে। এ এমনই এক হাস্যকরতা যা হাসি-কান্না, রাগ-অভিমান ইত্যাদি মানব-রিপুগুলির কোনো একটির খোপেও ঢোকে না। আগাগোড়া হইহই করে দর্শকরা এর তেজস্বী অপদার্থতাকে বাহবা জানায়।
এমন টোটাল ডিরেক্টর্স ফিল্মও আমরা এর আগে দেখিনি। একমাত্র কাহিনি ছাড়া — গীতরচনা, সুরারোপ, আবহসংগীত, সিনারিয়ো, নৃত্যপরিকল্পনা ইত্যাদি কতকগুলো বুঁদির কেল্লা যে এই একা-কুম্ভ রক্ষা করেছেন! অবশ্য, এ ব্যাপারে কাহিনিকার শংকরের ভূতগ্রস্ত উন্মাদনার কাছেও তিনি নিশ্চিত ঋণী। কিংবা, তাদের সম্পর্ক হয়তো নিছক ঋণস্বীকারের নয়। বস্তুত, গল্পের বলিহারি কাহিনিই একটি মামদো ভূতের মতো ঢুকে পড়ে পরিচালক সহ এই ছায়াছবির সকল কুশীলবকে ঘণ্টাদুই দৌড়ঝাঁপ করিয়ে ছেড়েছে।

ছবি শুরু হবার আগে, রূপালি পর্দার ওপর একটি প্রোলোগে বলা হয় যে, এক যে ছিল দেশ যেখানে থাকতেন ডাক্তার, মোক্তার, দার্শনিক, চিত্রকর, গায়ক, কবি ও দেশপ্রেমিক ইত্যাদি — এবং — একটি কাট করে সহসা ‘একজন বৈজ্ঞানিক’! এই বৈজ্ঞানিক টাকের ওষুধ বের করতে গিয়ে যে কেলোর কীর্তি করলেন তাই নিয়েই গল্প।
‘একজন বৈজ্ঞানিক’-এর পরে-পরেই একটি জাম্প কাট যোগ করে আমরা বলতে চাই, ‘এবং একজন পরিচালক’ …
- সংগ্রহসূত্র / চলচ্চিত্র চঞ্চরী, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, প্রতিক্ষণ পাব্লিকেশন্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা ১৯৯৫
… …
- In all departures there is an arrival & other poems || Roushan Hasan - September 11, 2026
- সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত - September 10, 2026
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026

COMMENTS