রেললাইনের ওই বস্তিতে
জন্মেছিল একটি ছেলে
মা তার কাঁদে
ছেলেটি মরে গেছে
হায় রে হায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ …
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।
কত আশা ছিল তার জীবনে
সব স্মৃতি রেখে গেল মরণে
মা তার পাশে
চেয়ে বসে আছে
হায় রে হায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ …
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।
কত মা-র অশ্রু আজ নয়নে
কে তা বোঝাবে তা কেমনে
যে চলে যায়
সে কী ফিরে আসে
হায় রে হায় বাংলাদেশ, বাংলাদেশ …
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।।
[কথা ও সুর : আজম খান ।। ব্যান্ড : উচ্চারণ]
বাংলাদেশ গানটি করি আনুমানিক ’৭২ বা ’৭৩ সালের দিকে। ’৭১-এর স্বাধীনতাযুদ্ধের পরপরই দেশের কি অবস্থা ছিল তা তো সবাই জানেন। গোটা দেশ তখন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। কোথাও এতটুকু খাবার নেই। চারিদিকে খাদ্যের জন্য হাহাকার পড়ে যাচ্ছিল। আর ক্রমেই তা দুর্ভিক্ষের আকার ধারণ করছিল। তাই খাদ্যের জন্য আর বেঁচে থাকার জন্য সবাই ছুটে আসছিল রাজধানী-শহর ঢাকাতে। সবার ভেতর একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মে গিয়েছিল ঢাকায় আসতে পারলে যে-কোনোভাবেই-হোক উপায় একটা হবেই। তাই দূর-দুরান্ত থেকে মানুষজন ঢাকায় ছুটে আসতে থাকে। আর এসে ট্রেন থেকে নেমেই কোনোক্রমে মাথা-গোঁজার একটু ঠাঁই করে নিচ্ছিল।
কমলাপুরে তাকালেই দেখা যেত শুধু মানুষ আর মানুষ। চারিদিকে অসহায় সব মানুষের আর্তচিৎকার। এরই মাঝে কত মানুষ না-খেতে পেরে মারা যাচ্ছিল তার হিসাবও ছিল না, বরং একজনের মৃত্যুতে মনে হতো যে একজন মানুষের খাদ্যের দুশ্চিন্তা কমলো। এসব আসলে সামনাসামনি না-দেখলে উপলব্ধি করা যায় না।
চারিদিকেই একটা হৃদয়বিদারক দৃশ্য। আমি বিকেলে যখন গানটান করে বাসায় ফিরতাম তখন এসব দেখে আমারও খুব খারাপ লাগত। কিন্তু আর কী করতে পারি! গানটান করে যে-ন্যূনতম টাকা পেতাম পকেট হাতড়ে সেটাই বিলিয়ে দিতাম। আমার এই সামান্য অনুদানে হয়তো তাদের কিছুই হতো না, কিন্তু যা-ই পারতাম দিতাম।
এসবকিছু দেখেই মূলত আমি বাংলাদেশ গানটি লিখি। এরপর বেশ কয়েকজনের দ্বারা গানটি রেকর্ড হয়েছিল। যেমন, ’৮২ সালে রকেট রেকর্ড করেন ঝঙ্কার স্টুডিওতে। ’৮৬ কি ’৮৭ সালের দিকে রকেট এবং মাসুম রেকর্ড করেন শ্রুতিতে। আবার এই সময়ের দিকেই আইয়ুব বাচ্চু রেকর্ড করেন সারগাম স্টুডিয়োতে।
গানপারটীকা : এই নিবন্ধটা আনন্দভুবন ঈদসংখ্যা ২০০০ থেকে নেয়া হয়েছে। এইটা ‘জেনেসিস ২০০০’ নামে একটি ফিচার আর্টিকেলের অংশবিশেষ। আর্টিকেলটি লিখিত হয়েছিল সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে। এটি গ্রন্থনা ও পাঠকসমীপে প্রেজেন্ট করেন যৌথভাবে এম. এস. রানা ও রাসেল আজাদ। প্রথম প্রকাশের স্থান ও কাল : আনন্দভুবন, বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৬, ০১ জানুয়ারি ২০০০। রচনাটির ভিতর থেকে যেটুকু আজম খানের জবানে উদ্ধৃতিচিহ্নের আওতায় ছিল, ওইটুকুই গৃহীত হয়েছে এইখানে এবং যথারীতি বক্তার নামে হাজির করা হচ্ছে এই নবপ্রকাশকালে। এম. এস. রানা ও রাসেল আজাদ শিল্পীর কাছ থেকে এই লিরিকের জন্মকথা বার করে এনেছিলেন বিধায় বাংলা গানের শ্রোতাদের চিরকৃতজ্ঞতাভাজন হয়ে রইবেন। — গানপার

COMMENTS