কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর ৫০ বছর পূর্ণ হইলো গতকাল। মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির সাথে ওই কনসার্টেরও। এই কনসার্টটা যে আন্তর্জাতিকভাবে কত গুরুত্বপূর্ণ এইটা আসলে ততটা বোঝা যায় না। কারণ, এর প্রভাব নিয়া তেমন আলোচনা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া এত এত গবেষণা, অথচ এই কনসার্টটা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংস্কৃতিতে কি রকম প্রভাব ফেলছিলো তার কোনও গবেষণা নাই। এরচেয়ে বড় যে কথাটা, সেইটা হইলো এই কনসার্ট দিয়াই বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও যুদ্ধের জন্য ঘরছাড়া শরণার্থীদের কথা আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়াইছিলো। সেইটা যে কী বিশাল বিষয় এইটা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। বহু মানুষ ওই কনসার্টের দরুণই বাংলাদেশ নামটারে প্রথম জানছিলো। এই ব্যাপকতারে প্রকাশ করারও তেমন এন্তেজাম দেখি না।
এই কনসার্টটা নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি হইছে বটে, তার ইনার স্টোরি নিয়া — কিন্তু তা-ই বা বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট মানুষ ছাড়া আর কতটুকুই ছড়াইছে! আসলে এইসব কথা বলতেছি একটা স্বপ্ন দেখছিলাম বলে। একদিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখলাম, কে যেন আমারে বলতেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়া একটা সিনেমার কথা — যেইটা আন্তর্জাতিক মানের ও বাজারের জন্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া বাংলাদেশের সবগুলো সিনেমাতেই এত বেশি মেলোড্রামা যে নির্মমতাকেও মাঝে মাঝে মেলোড্রামা বানায়ে ফেলে কখনোসখনো। এই জন্য এর বাইরে কিছু করার চিন্তা মাথায় আসছিলো। তো ভাবলাম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই বাংলাদেশী সিনেমা না বানায়ে একটা হলিউডি সিনেমা বানানো যায় কী না! তখন কনসার্ট ফর বাংলাদেশের কথা মাথায় আসলো।
রবিশঙ্কর আর জর্জ হ্যারিসন কীভাবে এই কনসার্টটা করলো, কেন করলো, এর প্রভাব কি — এইসব নিয়া একটা হলিউডি রিসার্চটিমের সাথে কোলাবোরেশন করে সিনেমা বানাইলে এইটা সেই আন্তর্জাতিক সিনেমাটা হইতো। বিশ্বের কাছে আরেকবার উন্মুক্ত হইতো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বীভৎসতা, আর কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর গুরুত্বও। এই সিনেমা বানানোর (নির্মাতা হিসেবে না) প্রস্তাবটা স্বপ্নেই দেখছিলাম। মান্নান মিয়ার তিতাস মলমের মতো।
- কালচার কোন পথে || ইলিয়াস কমল - April 16, 2026
- সিনেমাসিনারি || ইলিয়াস কমল - April 11, 2026
- শীতকালের দিকে তাকিয়ে বসন্তের চিঠি ও অন্যান্য || ইলিয়াস কমল - March 25, 2026

COMMENTS