কেন এই নিঃসঙ্গতা || পার্থ বড়ুয়া

কেন এই নিঃসঙ্গতা || পার্থ বড়ুয়া

কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা
আমাকে ঘিরে
কেউ না-জানুক কার কারণে
কেউ না-জানুক কার স্মরণে
কোন পিছুটানে
তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে
জীবনের নিয়মে।।

স্বপ্নগুলো অন্য কারো, ভুলগুলো আমারই
কান্নাগুলো থাক দু-চোখে, কষ্টরা আমারই
ভেবে নেবো প্রেম আলেয়ার আঁধারই

কেউ না-জানুক কোন বিরহে
দিন চলে যায় আজ কীভাবে
কোন পিছুটানে …

ইচ্ছেগুলো থাক হৃদয়ে, ব্যর্থতা আমারই
সুখ না-হোক অন্য কারো, দুঃখরা আমারই
ভুলে যাব মন কেন আজ ফেরারী

কেউ না-জানুক কোন হতাশায়
দিন চলে যায় নীরবে হায়
কোন পিছুটানে …
কথা : কবির বকুল ।। সুর : পার্থ বড়ুয়া ।। ব্যান্ড : সোলস্

এই গানটা তৈরি হয়েছে এক-ধরনের নিঃসঙ্গতা আর মৌনতার মধ্য দিয়ে অনেকটা হঠাৎ করে। তখন আইয়ুব বাচ্চু সোলস্  ছেড়ে দিয়েছেন।

’৯৪ সালের ঘটনা। বিটিভির প্রযোজক ফিরোজ মাহমুদ গীতিবিচিত্রা  অনুষ্ঠানের জন্য ভিন্ন-ধরনের একটি গান চাইলেন আমার কাছে। গানটা তিনি চাইলেন দু-একদিনের ভেতর দিতে। তখন সোলস্-এ আজাদ, তানিম এরা সবাই ছিল। তো, এদের নিয়ে একদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চেষ্টা করেও মনের মতো কোনো গান করা গেল না। রাত প্রায় সাড়ে-বারোটা/একটার দিকে সবাই প্র্যাক্টিস্ বন্ধ করে বিষণ্নতা নিয়ে গেলাম তাজ হোটেলে খাওয়াদাওয়া করতে। খেতে খেতে হঠাৎ ডিসিশন নিলাম কবির বকুলকে দিয়ে গানটা লেখানোর।

কবির বকুল তখন থাকতেন তপন চৌধুরীর বাসায়। যেই ভাবা সেই কাজ, চলে গেলাম সেখানে। গিয়ে কবির বকুলকে ধরে নিয়ে আসলাম। রাত প্রায় একটা-দেড়টার দিকে সবাইকে বিদায় দিয়ে আমি আর কবির বকুল এসে আমার বাসায় বসলাম। গভীর রাত, আশেপাশে কেউ নেই, সবকিছুই যেন নিস্তব্ধ। এমনি এক নিবিড় মৌন পরিবেশে বসে কবির বকুল লিখে চললেন কেন এই নিঃসঙ্গতা কেন এই মৌনতা  গানটি, আর আমিও সুর করে চললাম একটানা।

মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটের মধ্যেই আমরা গানটির প্রথম অন্তরা পর্যন্ত কমপ্লিট করে ফেললাম। পছন্দ হয়ে গেল গানটি। তাই পরের অন্তরাটুকুও কমপ্লিট করে ফেললাম। মজার ব্যাপার হলো, গানটি করার সময় কিন্তু ছন্দ বা ওই ধরনের কিছুর দিকে লক্ষ রাখা হয়নি। ঠিক তাৎক্ষণিকভাবে যা লেখা হয়েছে তা-ই কম্পোজ করা হয়েছে। মোট কথা, গানটা যা লেখা হলো তা-ই কম্পোজ করা হয়েছে, কোনো প্রকার কমানো-বাড়ানোও হয়নি।

পরদিন ভিটিআর। তাই পরদিন দুপুরে গিয়ে গানটির রেকর্ডিং শেষ করলাম। তাড়াহুড়োর জন্য নিখুঁতভাবে তেমন কিছু করা গেল না, খসড়া যা হয়েছে সেটাই জমা দিলাম বিটিভিতে। ঠিক ওভাবেই গানটি প্রচার হলো এবং তুমুল জনপ্রিয়তাও পেয়ে গেল।

পরে অবশ্য অ্যালবামের জন্য গানটার মিউজিক রেকর্ডিং মোডিফাই করে নেওয়া হয়েছে। গানটা রেকর্ড করেছিলাম অডিও আর্ট স্টুডিওতে আর রেকর্ডিং করেছিল চারু এবং মিক্সড করেছিলেন বাবু।

রচনাটি অনুলিখিত। প্রথম প্রকাশকাল ২০০০ খ্রিস্টাব্দ। প্রথম প্রকাশস্থান আনন্দভুবন  ঈদসংখ্যা, বর্ষ ৪ সংখ্যা ১৬, ০১ জানুয়ারি ২০০০। ‘জেনেসিস ২০০০’ শীর্ষক একটি ফিচারের ভিতর থেকে পার্থজবানিতে যে-কথাগুলো উৎকলিত হয়েছিল, সেইটুকু নিয়া গানপারে এই রচনাটা গ্রন্থিত। অনুলিখন যৌথভাবে এম. এস. রানা ও রাসেল আজাদ — গানপার

… …

গানপার

COMMENTS

error: