হলিউডের শৈশবের সঙ্গে পরতে পরতে জড়িয়ে আছে এই অভিনেত্রীর নাম। গ্রেটা গার্বো। জন্ম ১৯০৫, জীবনাবসান ১৯৭৩। ম্যুভি অফ দ্য উয়িক শীর্ষক একটা সাপ্তাহিক সম্প্রচারানুষ্ঠানের কল্যাণে সেই নাইন্টিসের বিটিভিতে এই হিরোয়িনের বেশকিছু ম্যুভি আমরা দেখেছি, ইউটিউবযুগে এসে গ্রেটার সমস্ত গ্রেটনেস্ পরখিবার পাচ্ছি অবারিত সুযোগ। টরেন্ট ইত্যাদি লিঙ্ক মারফতে বা আরও যত ম্যুভিডাউনলোডিং অপশনগুলা আছে সেসব ইস্তেমাল করে যে-কোনো অবকাশদিনে গ্রেটা গার্বোর অভিনয়কলা আমরা অভিজ্ঞতায় নিতে পারি।
চোখ-ধাঁধানো গ্ল্যামার আর উজ্জ্বল ও পেলব লাবণ্যের সমাহারে প্রথম থেকেই কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন এই নায়িকা। সেই কিংবদন্তিকে আরও অমোঘ, আরও বাঙ্ময় করে তোলে তার রহস্যময় জীবন। খ্যাতির শিখরে থাকতে থাকতেই মাত্র ছত্রিশ বছর বয়সে নিজেই পর্দা টেনে দেন নায়িকাজীবনে। ক্যামেরা দূরের কথা, ছিনেজোঁকের-মতো-লেগে-থাকা সাংবাদিক ও ফ্যানদের সামনে আর কখনোই মুখ দেখাননি তিনি।
নিশ্চয় আরেক অভিনয়শিল্পীর কথা ইয়াদ হবে গ্রেটার এই লোকান্তরাল হবার প্রসঙ্গে। বাংলা ছায়াছবির প্রবাদপ্রতিম নায়িকা তিনি। সুচিত্রা সেন। সুচিত্রাও অবিকল গ্রেটার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন লক্ষ করব। ১৯৭৩ সনে গ্রেটা ইন্তেকাল করেন আটষট্টি বছর বয়সে। এর পাঁচ বছর পরে ১৯৭৮ সনে ইন্ডিয়ান বাংলা ছায়াছবির শীর্ষাসনে অধিষ্ঠিত সুচিত্রা আকস্মিক অব্যাহতি নেন ম্যুভিজগৎ থেকে এবং জনসমক্ষে এরপর থেকে তাকে দেখা যায় নাই আর। অবিকল গ্রেটার সঙ্গেই মিল পাওয়া যায় এক্ষেত্রে সুচিত্রার, তিনিও গ্রেটার মতো চল্লিশসংলগ্ন বয়সে আড়ালবর্তী হন এবং এরপরের প্রায় তিনদশক জীবনকালে দেখাসাক্ষাৎ দেন নাই কাউরে ফ্যামিলিমেম্বার্স ছাড়া।
গ্রেটা গার্বো জন্মসূত্রে স্যুইডিশ। ম্যুভিজীবনের বাইরে গ্রেটার মূল নাম গ্রেটা লোভিসা গ্যুস্তাফসান। সেই পোশাকি নাম বদলিয়ে সেলুলয়েডের ক্যুয়িন অবতীর্ণ হন গ্রেটা গার্বো নামে। এই নামটি দিয়েছিলেন স্যুইডিশ ম্যুভিডিরেক্টর মরিৎস্ স্টিলার। তিনিই গ্রেটার আবিষ্কারক। তার পরিচালনায় তৈরি ‘দ্য অ্যাটোনমেন্ট অফ গোস্টা বার্লিং’ সিনেমায় গ্রেটা গার্বোর আত্মপ্রকাশ। সেটা ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা।
১৯২৮ সালে ‘ফ্লেশ অ্যান্ড দ্য ডেভিল’ ছবির সাফল্যের জোয়ারে ভেসে গিয়েছে গোটা পৃথিবী। ‘মাতাহারি’, ‘গ্র্যান্ড হোটেল’, ‘নিনোচকা’, ‘অ্যানা ক্যারেনিনা’, ‘ক্যামিলি’ … ক্রমেই ইতিহাস হয়ে উঠেছে গ্রেটা গার্বো অভিনীত একটার-পরে-একটা ছায়াছবি।
গ্রেটা গার্বোর শেষ ছবিটি রিলিজড ইন ১৯২৪, ‘দ্য টু ফেসেড উয়োম্যান’ সেই সিনেমার নাম।

… …
- In all departures there is an arrival & other poems || Roushan Hasan - September 11, 2026
- সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত - September 10, 2026
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026

COMMENTS