মিসিসিপি ডেল্টার দার্ঢ্য দ্রাঘিমায়, — ম্যালকম এক্স যাঁদের ফিল্ড নিগার বলতেন, তাঁরা পাঁজর ভাইঙ্গা গাইয়া উঠসিলেন ব্লুজ।
গাঙ্গেয় ডেল্টার রকনরোল, বাঙালির দাপের, বাঙালির উত্থানপর্বের, রক্তাক্ত রূপকথা উদ্গীরণ করে!
এই কথা লিখতে লিখতে আমি চোখের সামনে দেখতেসি, — আজম খান, ১৯৭১-এ মেলাঘরের ক্যাম্পে খালি পেটে, খালি বাসন বজায় গান গাইতেসেন।
আইয়ুব বাচ্চু, একবার নিউইয়র্কে, আজম খানকে তাঁর উচ্চারণ আর গাইবার বিশেষ ভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন করসিলেন, গুরু ভ্রূক্ষেপ মাত্র না কইরা বললেন, উনার গায়কীর বিশেষ ভঙ্গি কমলাপুরের ফকিরদের ভিক্ষা চাইবার গান নকল করতে করতে হইয়া গেসে।
এর সাথে মেলান জিংগা শিল্পীগোষ্ঠীর নাজমা জামানের বিশিষ্ট ও পশ উচ্চারণ, তাঁর সেক্সি নাচ, নবাববাড়ির ছেলে খাজা সাব্বির কাদেরের ব্যান্ড আইওলাইটস, যেখানে আলমগীরও একসময় গান গাইতেন।
ভুইলেন না অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের কথা, ঢাকার মিউসিকসিনে অনেকদিন টেলফার জন্সনরা গিটার বজায়, ড্রাম বাজায় রাজত্ব কইরা গেসেন।
সেগুনবাগিচায় টমাস আন্সেলের বাড়িতে পিয়ানো বা বেহালা বাজায় গান হইসে অনেক।
আর “আজ রোববার, আজ হলিডে / আজ শুধু ম্যানড্রেক্স আর ম্যানড্রেক্স / আজ ম্যানড্রেক্স, আজ মাইসেল্ফ / আজ হু-হু-হু, আজ হোহ্ হো / আজ লাল্লা”…
আর্লি ৮০’স-এও আমি ইন্টারকনের চামেলী রুমে নিলয়দার সাথে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের বাজাইতে দেখতাম। এখানে জাফর ইকবালের ব্যান্ড রাম্বলিং স্টোনও নিয়মিত বাজাইত, এককালে।
নিলয় দাস, আমার দেখা ঢাকার বেস্ট গিটারিস্ট, তাঁর সাথে পরিচয় করে দিসিলেন সঞ্জীবদা।
সঞ্জীবদারে তখন কবি আর ফিচারলেখক হিসাবে চিনি, যদিও ভোরের কাগজ অফিসে উনারে মাঝে মাঝে চিৎকার কইরা ডন ম্যাক্লিনের ‘স্টারি স্টারি নাইট’ গাইতে শুনতাম।
ঢাকা কলেজের উল্টাদিকে মরণচাঁদ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বইসা নিলয়দা আর সঞ্জীবদার সাথে আড্ডা আজও ভুলতে পারি না বা প্রমিথিউস-এর বুলবুলের তাজমহল রোডের বাড়িতে হালিম খাইতে খাইতে নিলয়দার বাজনা শোনা।
মরণচাঁদে এক বিশেষ বিকেল কাটসিলো মেঘদল-এর শিবু (শিবু কুমার শীল) আর মুস্তাইন জহিরের সাথে, তাঁদের তখন কৃতজ্ঞতা জানানো হয় নাই — আজ জানায় দিলাম; যদিও শিবুকে আর্টিস্ট হিসাবে চিনতাম, গায়ক বা ফিল্মমেকার হিসাবে না তখন, অত বছর আগে।
হেরোইন আর ডাইলের ৮০-র দশকেই আমি এক বড়ভাইকে দেখসিলাম জি-৩ রাইফেল হাতে ওয়াকম্যানে স্কর্পিয়ান্স আর আইরন মেইডেন শুনতে শুনতে ছাত্রশিবিরের রগকাটা অভিযান একাই মোকাবেলা করতে।
তাই যখন গেরিলা নামধেয় সিনেমাটার স্ক্রিনপ্লে লিখতেসিলাম, আমি খুব খুঁজতাম, আরবান গেরিলা রুমি ১৯৭১-এ কি রকনরোল শুনতেন? আলমভাই ? বাচ্চুভাই? আমার হিরো, ট্রু লাইফ মাসুদ রানা, শাহাদাত চৌধুরী?
স্বাধীনতার দাবি তোলার আগুনঝরা দিনগুলোর ভুলে-যাওয়া সৈনিক, দুই হাতে দুই রাম দা নিয়ে মিছিল করা বডিবিল্ডার খসরু, বাবু কি রকনরোল শুনতেন?
তাঁরা যে রকনরোল শুনতেন তা আমি জানি, কি শুনতেন তাও জানি, এসব কথা বলব সামনের দিনগুলোতে।
কৃতজ্ঞতা জানাই প্রবর রিপনকে; তাঁদের ‘হায়েনা এক্সপ্রেস’ শুনতেসি এখন … অনেক কথা মনে আসতেসে আর অনেকদিন পর বাঙলা ভাষাও জেগে উঠতেসে বুকের ভিতর …
আর কৃতজ্ঞতা আজম খান, রকস্ট্রাটা, আর্টসেল, ইন ঢাকা, ফুলমনিস সরর্স, ওয়ারফেজ, মাইলস, লাকি ও হ্যাপি আখন্দ, ম্যাকভাই (মাকসুদুল হক), শিবলীভাই (লতিফুল ইসলাম শিবলী) সহ অগুনতি রকনরোলারদের …
… …
- In all departures there is an arrival & other poems || Roushan Hasan - September 11, 2026
- সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত - September 10, 2026
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026

COMMENTS