এই মুভি বিগস্ক্রিনে দেখার মজাই আলাদা। প্রচুর মাথাব্যথা নিয়ে সারারাত আধোঘুম আধোজাগরণে থেকে, আজ মুভি দেখতে পারব আশা করিনি। না-গেলে গ্রেইট মিস্ হতো৷
মুভি ভালোলাগার আরেকটা কারণ হলো, মুভিতে ডাক্তারদের হাতপা-বাঁধা দশা এবং সব কাণ্ডের শেষে ডাক্তারকে ভিলেন বানানোর পেছনের হোতাদেরও তুলে ধরা হয়েছে। মনে হয়েছে, সমাজ আমাদের ডিসঔন করলেও, কোথাও-না-কোথাও বিচার নিশ্চয়ই হবে।
পালস দেখে যদিও গর্ভাবস্থা নির্ধারণ করা যায় না, তবু পালসের গতিপ্রকৃতির কিছু পরিবর্তন আদ্যিকালের বদ্যিদের কিছু সংকেত দিত তো বটেই। পুরোপুরি ফেলে দেয়া যায় না। কোল্যাটারাল ড্যামেজ হিসেবে রেখে দিলাম এই সিনটা।
জওয়ান প্রকৃত অর্থে পলিটিক্যাল সিনেমা। দেশের গণমানুষকে রাজনীতির ব্যাপারে সচেতন করার জন্য এটা একটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব। রাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে তর্জনী তোলার কথা বলে জওয়ান। এই তর্জনী অধিকারের প্রশ্ন করে, এই তর্জনী কর্তব্যের রাস্তা দেখায়। এই তর্জনী আমাদের বিবেককে জাগানোর কথা বলে। জওয়ান গণতন্ত্রের অন্য এক সৌন্দর্যের কথা বলে। রাষ্ট্রকে বিবিধ প্রশ্নে জর্জরিত করার পরও জওয়ান সেন্সরবোর্ডের বাধা পার হয়েছে, সিনেমাহলগুলোতে ঝড় তুলেছে। আর মানুষকে জুড়ে দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান শাসনতন্ত্রের সাথে। সিস্টেমের ফাঁকগুলো তুলে ধরায়, মানুষ মুভির প্রত্যেক দৃশ্যে যেন নিজের জীবনকে মিলিয়ে দেখছে আর সত্যের বিজয়ে অভূতপূর্ব আনন্দে সিটিও বাজাচ্ছে।
সিনেমার অ্যাকশন, কমেডি আর মেসেজ সব মিলিয়ে যেন ‘এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ’। শাহরুখের ভাষায়, তিনিই ভারতীয় সিনেমার শেষ সুপারস্টার। তাঁর কথার সত্যতা প্রমাণ করে এই সিনেমা। প্রত্যেক দৃশ্যে শাহরুখের উপস্থিতি, ডায়লগ ডেলিভারি তার সুপ্রিমেসির কথা মনে করিয়ে দেয়। পরিচালকের মুন্সিয়ানা, ভিজ্যুয়ালাইজেশনের প্রশংসা করতেই হয়, এমন একখানা দুর্দান্ত বিনোদনপ্যাকেজ বানানোর জন্য, জনগণের পালস বোঝার জন্য। কাস্টিংও ছিল দেখার মতো। নয়নতারা, দীপিকা, সুনীল গ্রোভার চোখে লেগে থাকবেন তাদের অভিনয় দিয়ে। ছোট কিন্তু ইম্প্যাক্টফুল একটা চরিত্রে সঞ্জয় দত্তও ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
যা-ই হোক, টুপিখোলা অভিবাদন প্রিয় শাহরুখ, দুর্দান্ত কামব্যাকের জন্য। সাউথ এবং নর্থ, কাশ্মির এবং লাদাখ … পুরো ইন্ডিয়াকে এক করে ধামাকা লাগিয়ে দিয়েছো। ফিল্মইন্ডাস্ট্রিকে আরো অনেক কিছু দেয়ার আছে তোমার …
পেহলে কিয়া ছাইয়া ছাইয়া,
আব করো তা তা থাইয়া …
দীপিকা চক্রবর্তী, সিলেটে নিবাস, পেশায় চিকিৎসক।
- In all departures there is an arrival & other poems || Roushan Hasan - September 11, 2026
- সাম্যের দিকে যেতে যেতে লেখাপত্র || রোদ্দুর রিফাত - September 10, 2026
- bring me ease on anydays shaggy || Badruzzaman Alamgir - September 1, 2026

COMMENTS