বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসড়কে মানবপাচারের ঘটনাবলি মিডিয়ায় ফাঁস হবার পর থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে সাম্প্রতিক ২০১৫/’১৬ নাগাদ বহুল আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে এইটে একটা। কাগজে এবং টেলিভিশনে এসবের বিস্তারিত দেখতে পাই আমরা। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়াগামী বহু বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা রাস্তামধ্যেই মারা যায়। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে আবিষ্কার হয় বহু গণকবর।
মানবপাচারের এই মর্মান্তিক ঘটনাধারাটাকে কেন্দ্র করে স্বকৃত নোমান লিখেছেন ‘শেষ জাহাজের আদমেরা’ উপন্যাসটি। ২০১৭ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ‘শেষ জাহাজের আদমেরা’। আর উপন্যাসটা পাব্লিশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ।
লেখকের এইটা অষ্টম উপন্যাস। প্রকাশপ্রাক্কালে লেখকের বরাতে সামাজিক সংযোগমাধ্যমে জানা যায়, চারশ’ বছর আগেও মগ-ফিরিঙ্গি হার্মাদরা বাংলার উপকূল থেকে নিরীহ অসহায় মানুষ অপহরণ করে নিয়ে যেত। দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত আরাকান ও দাক্ষিণাত্যের বন্দরে বন্দরে ইংরেজ, ফরাশি এবং ওলন্দাজ বণিকদের কাছে। চারশ’ বছর পর প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্বজুড়েই নানান ফর্মে দেখতে পাচ্ছি আমরা। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে বিশেষভাবেই মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের ঘটনা ঘটেছে এবং তা এখনো অব্যাহত। ঘটনার সাদামাটা বিবরণ বা সাংবাদিকী প্রতিবেদন নয়, ইতিহাস ও সমকালের দুইটা বাস্তবতা উপন্যাসের আঙ্গিকে ধরতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপন্যাসিক।
উপন্যাসের কাহিনিতে দেখা যায়, চারশ’ বছর আগে মগ-ফিরিঙ্গি হার্মাদরা অপহরণ করে সিতারাবানুর স্বামীকে। সিতারাকে তাড়া করে ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্ন : তার শিশুপুত্রকে গিলে ফেলেছে সাগরের মস্ত এক কুমির। চার শ বছর পর নূরনিসাকে তাড়া করে আরেক দুঃস্বপ্ন : ধনেশ পাখি হয়ে উড়ে গেছে তার এক শিশুপুত্র। স্বপ্ন কি বাস্তবে রূপ নেয়? নইলে সমুদ্রস্নানের সময় কেন উড়ে যায় নূরনিসার পুত্র শিবু? ভাগ্যান্বেষী শত শত মানুষ কেন চলে যায় হাঙর-কুমিরের পেটে?
পাঁচশ’ তিরাশিজন যাত্রী নিয়ে এমভি সাউথ বেঙ্গল-৩ নামে একটি জাহাজ যাত্রা করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। এই জাহাজেরই একজন যাত্রী রাহাত কমল। মূলত সে গবেষক। তার গবেষণার বিষয় ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকায় সমকালীন প্রসঙ্গ।’ তাকে অপহরণ করে জাহাজটিতে তুলে দেয় পাচারকারীরা। চারশ’ বছর আগের সিতারাবানুকে দেখা যায় চার শ বছর পরেও! বঙ্গোপসাগরের তীরে সে স্বামীর ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। দুই শতাব্দীর মানবপাচারের দুই ঘটনাকে লেখক গেঁথে দিয়েছেন শৈল্পিক সুতোয়।
শেষ জাহাজের আদমেরা একটি উপন্যাস। লেখকের নাম স্বকৃত নোমান। প্রকাশক অনিন্দ্য প্রকাশ। প্রকাশকাল ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ।
প্রতিবেদন / সুবর্ণ বাগচী
… …
- কেন লিখি? || হামীম কামরুল হক - April 17, 2026
- মানিকের সানগ্লাস || সোহরাব ইফরান - April 12, 2026
- শামীম কবীর : দেহ পেয়ে গাইবার জন্য গান || শাহ মাইদুল ইসলাম - April 12, 2026

COMMENTS