লিটলম্যাগলিপ্ত বছর বিশেক আগে আর পরে

লিটলম্যাগলিপ্ত বছর বিশেক আগে আর পরে

কবিগিরির ১৪ বছরে কী হয়? কবিতা চতুর্ভূজ না চতুর্দশী?
দশক যে ফুরায়ে গেল, কে কে অন্যতম কণ্ঠস্বর?
আমজাদ সুজন, কবি ও সম্পাদক  উল্লেখ, পত্রিকার ১৪ বছরপূর্তিতে ২০১৪ সালে স্ট্যাটাস আপড্যাটেড অন সোশ্যাল মিডিয়া

কবিতা গোল, পুরোটা তা-ও নয়, একটু যেন স্তনাকৃতি — বলিলেন মুচকি হেসে এবং অট্ট কেশে এক কলেজমাশ্টর কবিতাপণ্ডিত। কবিতাসাক্ষর হইলাম আমি, কৃতজ্ঞতনু-নতজানুচিত্ত চমৎকারা। আর কবিগিরির ১৪ বছরে ছেচল্লিশটা নিরীহ বন্ধুকে একহাত দেখে নেয়া যায়, এইটা অবশ্য খুবই মিনিম্যাল স্ট্যাইটমেন্ট ইন দিজ রিগার্ড, একুশটা বন্ধুকে তেড়ে যাওয়া যায় নাক-বরাবর মোহাম্মদ আলির ফিস্ট বাগিয়ে, তেরোটা বন্ধুর মুখ ম্লান করা যায় বিবিধ উসিলায়, এবং সর্বোপরি তিনশ  সাতাত্তরটা বন্ধুকে বাদ দেয়ার সম্পাদনাসাফল্য অর্জন করা যায় বিভিন্ন সংকলনভুক্তি থেকে। এইসব তো মামুলি ব্যাপার নয়। এইসব তো মহাকালে যাইবার রিলায়েবল রাস্তা বটে।

শেষ প্রশ্নের উত্তর এইবার। হে আবহমান বাংলা সাহিত্য, লহো মোর বাণী চিরন্তনী : নির্ঘাৎ সেই কণ্ঠস্বরটা, আর কেউ নয়, আমি! দ্বিতীয় কে আর, মুই ছাড়া! আমিই একমাত্র, হারাধন বাংলাকাব্যের একটামাত্র পোলা আমি, গোল্ডের টুকরা, অ্যাওয়ার্ড-প্রাইজমানি ও কাভারেজ পাওয়া দেদার লক্ষ্মীমন্ত সোনামণি কবি আমি, ওনলি ওয়ান, ওয়ান অ্যান্ড ওনলি, আমি হো ভিন্না। আমার মতন কেহ নাই ৫ মহাদেশ আর ৭ মহাসাগরে। অমুক? — ধুর! অমুক তো প্রভাব! … তমুক? … ধুর! তমুক তো পুরো অভাব! প্রমুখ? — ধুর! প্রমুখ তো অনুত্তরাধুনিক স্বভাব! মুই একমাত্র, পোলার বাপ, বাপের ব্যাটা, শাহজাদা দারাশিকোহ, সুবেবাংলার কৃষ্ণগৌর নবাব! মুইই তো, অবিকল্প, পোয়েট একমাত্র। পোয়েট-ল্যরিয়েট স্যাশখানা পাইবার পার্ফেক্ট হকদার তো আমিই! একমাত্র, অদ্বিতীয়! … হোপ য়্যু গট মাই পয়েন্ট? অ্যানিওয়ে, বেড়ে লিখেছেন হে! বেহতর লাগিল। দুর্ধর্ষ! টেরিফিক! তোপধ্বনি। হ্যাপি রিস্টার্ট! উল্লেখযোগ্য হউক পুনর্যাত্রা। ‘উল্লেখ’-এর শুভযাত্রা কাম্য সর্বান্তকরণে।

২.

‘কবিতা গোল, পুরোটা তা-ও নয়, একটু যেন স্তনাকৃতি — বলিলেন মুচকি হেসে এবং অট্ট কেশে এক কলেজমাশ্টর কবিতাপণ্ডিত!’ — হ্যাঁ, আর, ‘হ্যাপি রিস্টার্ট’ … যারা ঢাকা শহর থেকে অনেক দূরে থাকে, যারা ফেসবুক, ব্লগ, ওয়েবম্যাগ, কিবোর্ড, পাসওয়ার্ড বোঝে না, চা-কবি সংগঠনের সান্নিধ্য পায় না বা পছন্দ করে না তারা অনেকে হ্যাপি রিস্টার্ট  পছন্দ করবে…
আমজাদ সুজন, কবি ও সম্পাদক  উল্লেখ, পত্রিকার ১৪ বছরপূর্তিতে ২০১৪ সালে স্ট্যাটাস আপড্যাশনের পরে কমেন্টবক্সে রিডার্স রেস্পোন্সের রিপ্লাই

বিলক্ষণ! সরব অথবা নীরব, সরোষ নয়ন অথবা সক্রন্দন, প্রতিরোধের প্ল্যাটফর্মগুলো কোনো-না-কোনো ফর্মে হাজির থাকুক। সূচ্যগ্র মেদিনী বিনাযুদ্ধ যাইতে দিলে মুখ দেখানো মুশকিল হবে সন্ততিদের কাছে। এখন তো প্রতিরোধ অনেক ধরনে, অনেক দিক থেকে, অনেক ভাব ও বয়ানে, যে-কোনো পূর্বসময়ের চেয়ে বেশি করেই দরকার। স্রেফ নিজের অস্তিত্ব রক্ষার মামলা এ নয়, সে-রকম হইলে তো ঝাঁকে মিশে গেলেই হয়, তাতে টিকিয়া থাকা যায় বেশ তো রসেবশে, টিকি ও পৈতে দেখায়ে বেশ বদমায়েশি করে বেড়ানো যায়।

এখন মামলা তা নিয়া না। নাউ-অ্যা-ডেইজ তো পরধনপোদ্দারদের পোয়াবারো। মোচ্ছব-মজমা বেপারিদের ভিড়ে বাজার সয়লাব। পরিস্থিতির শিকার হয়ে কেলিয়ে কেষ্টঠাকুর হাস্য হেসে শ্বাস না নিয়ে, অ্যাওয়ার্ড বাগিয়ে মোটা ফ্রেমে মানিক বন্দ্যো. মার্কা ফোটো না-খিঁচিয়ে বাঁচতে চাইলে, এমনতর ও অন্য অনেক গভীরতর কারণে প্রতিরোধ-উদ্যোগটা জারি রাখা জরুর। নয়তো নাতি-নাতনিদের মুখ ভেংচানি দেখে দেখে কব্বরে যেয়ে হেঁদিয়ে কানতে হবে। উল্লেখ থাকুক, ও অন্য দুইয়েকটা সাহসী নিশানের স্পর্ধাবাতাস, উদাহরণের মতো দ্রষ্টব্য। আমাদের আয়ুর সমান, অন্তত আমাদের আয়ুর মাপে, বেঁচে থাকুক প্রতিরোধগুলা আমাদের।

তিতুমিরের কেল্লা যদিও, উল্লেখসম ছোটকাগজগুলো, তবু তাতে রেজিস্ট্যান্সের প্রেজেন্সটা প্রামাণ্য। বর্তমানে কেল্লাগুলি নিয়া ঠাট্টাট্রোল হলেও অতীতে এর অবদান অনস্বীকার্য।

জাহেদ আহমদ ২০১৪


পত্রিকার চোদ্দবর্ষ পূর্ণ হবার লগ্নে এডিটর আমজাদ সুজন তাঁর ফেসবুকপাতায় এহেন সওয়াল ছুঁড়সিলেন, সখেদ সকৌতুক, উদ্ধৃতি দিই : “কবিগিরির ১৪ বছরে কী হয়? কবিতা চতুর্ভূজ না চতুর্দশী? দশক যে ফুরায়ে গেল, কে কে অন্যতম কণ্ঠস্বর?” সাড়া দিতে যেয়ে ফ্যান্টাসাইজড কণ্ঠে এই নিবন্ধের কথাগুলো কমেন্টাকারে লেখা হইসিলো। অনেকদিন পরে মেমোরিতে ফেসবুক ফিরায়া আনলো, গোছায়া রাখা গেল তাই।

অপ্রাসঙ্গিক হবে না বলা, নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকে শেষবারের মতো ছোটকাগজ/লিটলম্যাগ ভূমিকা রাখতেসিলো নয়া টাইমের বিশেষত কবি ও কবিতার ধাত্রীসদন হিশেবে। একের পর এক এবং এইভাবে একঝাঁক অলাভজনক অপ্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকার পাখনায় গা ছেড়ে দূরপাল্লার উড়ানের প্রস্তুতি নিতেসিলেন ‘শূন্য দশক’ সময়ের কবিসাহিত্যিকেরা।  উল্লেখ  ছিল ওই টাইমের একটা ক্ল্যানের মুখপত্র/বুলেটিন। গোষ্ঠীভিত্তিক (চিহ্নিত/অচিহ্নিত) এমন অসংখ্য পত্রিকা হাজির ছিল ওই টাইমটায়। উল্লেখ  সম্ভবত দুইটা মাত্র ভলিয়্যুম বাইর হইসিলো। পরে, যেমন হয় ইউজুয়্যালি, এইটা আর বাইর হয় নাই।

কিন্তু, কন্টিনিউ করে নাই যে-কাগজগুলা আর যারা কন্টিনিউ করতেসে এখনও, পরিবর্তিত মাধ্যম ও মর্মজগতের এই সময়ে এখনও ছোটকাগজ বা আর-কোনো সংজ্ঞায় যে-পত্রিকাগুলা বাইর হচ্ছে, এসবের ইউটিলিটি ও ইম্প্যাক্ট আদৌ রয়েছে কি নাই তা আলাপচক্রে আনা দরকার; আলাপ যে-ফর্মে যে-ভাবে যেনতেন প্রকারেণই হোক না কেন, দরকার করা।

আর, উপরোল্লিখিত রচনাটা ফেসবুকমেমোরিসের সুবাদে পাওয়া, ২০১৪ সালের পোস্ট থেকে, এইখানে একটু ঘষেমেজে রাখা হয়েছে। — লেখক ২০২৪


গানপারে বইরিভিয়্যু/বইনিউজ
গানপারে লিটল ম্যাগাজিন

COMMENTS

error: