আব্বা
পৃথিবী একটা ব্যস্ত মহাসড়ক—
আব্বা সেই মহাসড়কের বুকে
চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা সাদা জেব্রাক্রসিং;
নিজেকে বিছিয়ে রাখেন আমাদের
সমস্যা ও দুর্ঘটনার আগে।
আমরা আব্বার বুকে কদম ফেলে
দুর্ঘটনা এড়িয়ে নির্ভয়ে পার হয়ে যাই পৃথিবী।
মা
মা, তোমার শরীরে আজ মাটিদগ্ধ রমণী
ফুলের পাপড়িতে চিরদিন জেগে থাকা—
কুসুমের দেশে তুমি জোরালো সাঁতার—
উনুনের পাশে আঁকো খাদ্য-ভূগোল
গোলাকার রোদে তুমি ঝকঝকে পাতিল
তোমাকে বর্ণনায় আনি কম—হৃদয়ে বেশি
প্রণাম জেনো মা, আমি তোমার পুত্রপুরুষ মাটি।
ধুলার পুলসিরাত
তাবৎ তারার নিচে ধুলার পুলসিরাত
হাওয়ার শরীরে সে জাগে বিরামহীন
লুটে নিতে পারে সে চোখের মণি—
দূরে অদূরের সারা পৃথিবী।
চাঁদপুর নদীকূল—মিলনের ঘাট—
অতি তীব্র সেখানে ধুলার পুলসিরাত।
মেঘের মাদুর
শূন্যতার ওজনের নিচে ঘুমিয়ে আছে শহর
মেঘ মেঘ চোখে দুপুর আজ বৃষ্টিঘর—ঘুড়ি উড়ানো বাতাস
মুখোশ খসে গেলে চুয়ে চুয়ে পড়বে জলের কণা
আকাশ এখন অধিক সবুজ—মাটি ঘননীল অথচ চায়ের পাতায়
শ্রম এখনও জাগ্রত; আঙুলের ডগায় চলছে ফসল সংরক্ষণ
সঞ্চয়ী আকাশ পেতে রেখেছে মেঘের মাদুর…
রক্তমেঘের বালিশ
তোমার রক্তে ডুবুরি হয়ে কেটে যাচ্ছি গোধূলির ছায়া—
আরক্ত চন্দনের ডালে ঝুলিয়ে দিচ্ছো শুধু চোখের ইশারা
বনমোরগের পালকে লিখে রাখছি তোমার সব গল্প;
পাতাপাহাড়ে কীভাবে ডুবে গিয়েছিলাম দুজনে সময়ের শিথানে—
সবই তো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তবুও জেগে থাকি রক্তমেঘের বালিশে…
আশ্রয়
মেঘের ধুন্দুলে কাঁপে পৃথিবী
সবুজাত শিশিরে রক্তের কালিমা
বাতাসে নড়ছে বয়সের খুলি
পৃথিবী খুলে দাও দরজা;
জলের সাথে নদীর দেশে যাব
ঢেউয়ের ফালি ফালি চিৎকারে
নষ্ট করব এই জন্ম
যুদ্ধ ও রক্ত খেলার দেশে
মৃত্যুই বরং সুন্দর আশ্রয়।
চিরদিন নিজেকে ধরেছি এক
পৃথিবী চিরদিন একা
আপন কক্ষপথে ঘুরে ঘুরে
নিজের লাটিম স্বভাবে মিলিয়ে যাচ্ছে
ডালিমের দানার মতো
কোষ বিভাজনের গণিত নিয়ে
চিন্তিত হয়ে ভাবছে সৌরজগতের কথা
চাঁদের নকশা। সূর্যের দাঁড়িয়ে থাকা
আরও আরও যা কিছু আছে
শূন্য কিংবা মহাকাশ—ইন্দ্রজালের গরিমা
জলের অক্ষর—পর্বতের চূড়া
সবকিছুর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে একটি শূন্য
তবু মানুষজন্মে অঙ্কের হিসেবে
চিরদিন নিজেকে ধরেছি এক
এটা হয়তো হিসাব অথবা না…
রূপ
তোমার ভিতরে এক বন আছে—সে এক গভীর কঞ্চনের বন—সেখানে তরুর ছায়ায় হরিণ ঘুমায় সমস্ত ঋতু। জিহ্বার জিকিরে শিকারীর ধনুক নিশানায় চূড়ান্ত। তবু তুমি কোমল—ছটফটানিহীন; যৌনচেতনাপ্রবণ। আহা শারীরিকী মন—উজালা ঢেউ। শব্দের পাশে শব্দ করে কেমন করে ঘুমাও নিজের ভিতর! যতই রাখো থিয়েটারের অভিজ্ঞতা—বন সবসময় ঋতুদের কথা বলে।
ছল
কবিতা, সে তো দূরের মায়া—মার্বেলের ইশারা—রক্তস্রোতের ভিতরেও যার মুখ স্পষ্ট। আজীবন যাকে পাবো বলে প্রার্থনা করে চলেছি। শুনেছি ঈশ্বর মানুষকে ফিরিয়ে দেন না, তবু কেন ঈশ্বরের বাইরে গিয়ে মানুষ করে নিজেদের হিসেব! যদিও ধর্মের লাগামের বাইরে কিছু নাই তবু কেন পৃথিবীতে এত ছল?
হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ
মেরুন আলোয় হৃৎপিণ্ড বিছিয়ে রেখেছি
সন্ধ্যা, তুলে নিও ধুকপুক ধুকপুক শব্দ
পৌঁছে দিও পুঁজিবাদীদের কানে
যেন তারা শুনতে পায়
বৈষম্যের সমাজে না-খেয়ে থাকা
জীবনের হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ কেমন…
নিশ্চয়ই হৃৎপিণ্ডের আওয়াজে
ভাঙবে না ঘুম তাদের
তবু কম্পমান আকাশ
আমি মেলে দেবো তাদের কানে
কারণ ভাতের বিপরীতে
হৃৎপিণ্ডের শব্দই আমার প্রতিবাদ।
শূন্যতার ওজনের নিচে ।। রোদ্দুর রিফাত ।। জুলাই ২০২৬ গানপার
রোদ্দুর রিফাত। কবি, মূলত। জন্ম : ৫ মার্চ ২০০০। জন্মস্থান : ঘাগটিয়া, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ। পড়াশোনা : রাষ্ট্রবিজ্ঞান (স্নাতক সম্মান)। প্রকাশিত কবিতাবই : লালচোখের রোদ (২০২৩), রক্তমেঘের বালিশ (২০২৬)। ইমেইল : roddurrifat1@gmail.com
রোদ্দুর রিফাত রচনারাশি
গানপার কবিতার, কবিতার গানপার
- শূন্যতার ওজনের নিচে || রোদ্দুর রিফাত - July 29, 2026
- অ্যাআই বিজ্ঞান || সাইফুল ইসলাম - July 10, 2026
- ম্যাডোনার নয়া অ্যালবাম - July 7, 2026

COMMENTS