When I was young
I’d listen to the radio
Waitin’ for my favorite songs
When they played I’d sing along …
[ইয়েস্টার্ডে ওয়ান্স মোর গানের মুখ। দ্য কার্পেন্টার্স]
ভাঁটপাতা ভারী হয়ে আছে ভেজা আষাঢ়গাঢ় অবয়ব নিয়ে। এখনও অনেক দূরের দেশে আষাঢ়ের বাস, অন্তত দশদিন অধিকন্তু একমাস, তবু আগেভাগে এসে গেছে উহার সুবাস। ব্লটিং পেপারের মতো বৃষ্টিফোঁটা শুষেছে রাতভর ভাঁটপাতা আরণ্য উদাসীনতায়। এখন দুপুরবেলায় তাতানো রোদ্দুরেও চোষকাগজের ন্যায় ভেজা ভাঁটপাতাগুলো গম্ভীর সমাহিত-করা আভা চারিদিকের গাছগুল্মগুঁড়িগুলোতে ফেলছে। এদিককার ঘন অযত্নের জঙ্গল অলস মন্থর রঙ ধরে রেখেছে এখনও। মাটিও সোঁদা ঘ্রাণে রাতভর বৃষ্টিপাতের প্রমাণ দিনদুপুরে হাজির করছে। এখন অপরাহ্ন তোড়জোড় করছে অবতরণের। চারিদিকে ছায়া নামছে ক্রমে। নেমে আসবে একফাঁকে ঐরাবতের মতো রাত। সন্ধ্যা তার আগে একঝটকা মাস্তানি দেখাবে অবশ্য। ঝিঁঝিপোকায়, জোনাকিতে, এবং ভারী পাতা-অভিসারিকা আরণ্য জ্যোছনায়।
একথোকা বনকাঁঠালের দেখা পাওয়া যাচ্ছে বিনা আয়াসেই। তেঁতুল-দিয়া-মাখানো ভর্তা খাবার লায়েক হয়েছে সবে। বেড়ে উঠুক, পুরুষ্টু হোক, কোষাগুলো পরিপূর্ণ পক্ব হয়ে উঠুক। পায়ের নিচে লালরঙা মাটিতে কে যেন কবে একটা নালা খুঁড়ে গেছিল, খুন্তি দিয়া খোঁড়া সরু নালা, বোতলের ধারার মতো জল বইছে যেন চুইঁয়ে চুঁইয়ে সেই নালা দিয়া। তারও শব্দ রয়েছে একটা। ক্ষীণ কিন্তু শব্দ তো! কয়েকটা পাখির আওয়াজ একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্যে কে কোনটা তা নাম ধরে দেখা আদৌ অসম্ভব নয়, কিন্তু বনের ভিতরে কিছুই আলাদা করতে নেই। পৃথকীকরণ, জুধা করা, লোকালয়ের নিয়ম। অরণ্যে সেই নিয়ম খাটানোর জরুরৎ অতটা নাই। কিন্তু বনেলা আদার ঘ্রাণে তেজতপ্ত চনমনে বনের দুপুর আর আসন্ন অপরাহ্নপ্রচ্ছায়া মিলেমিশে এমন এক ঘোর তৈয়ার করেছে যা উপেক্ষার নয়।
বর্ষাকালের একটা ম্যাজিক হচ্ছে এ-ই যে, বৃষ্টির আওয়াজ মাত্রই লোকে ভাবে আষাঢ়িয়া বাদলি। কিন্তু বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র এমনকি আশ্বিনেও ডম্বরু-বাজানো ঘনশব্দ বারিপাত হতে পারে এবং হয়ও। তবু উপুত-হওয়া আসমানের পানিধারা মানেই বাংলায় আষাঢ়িয়া। কান শার্প রাখলে বর্ণিত প্রত্যেকটা মাসের বৃষ্টিকোয়ালিটি ডিস্টিঙ্ক্টলি ডিটেক্ট করা যায়। অ্যানিওয়ে।
দিন তো গুজরানো হলো রোদ্দুরে রোদ্দুরে। এইবার? রাতের খবর? বৃষ্টি হবে কি আজকেও? মনে হয়। বাতাসে সেই বার্তা পাওয়া যায়। ফিজিক্যালি সেই বার্তা আঙুল দিয়া দেখানোর নয়। কিন্তু ঘ্রাণেই যদি অর্ধেক ভোজন সম্ভবপর হয়, সেক্ষেত্রে বৃষ্টির রাতের ফ্লাইট প্রায় নিশ্চিত। গত মাসখানেকের লাগাতার অভিজ্ঞতাও সাক্ষ্য দিতেছে এর পক্ষে। এখন আপাতত ভাঁটগন্ধ কেন এত শরীর-জাগানো, তনুবিবশকারীও বটে, সেই বিষয়টা নিয়া ভাবা যাক চুরটের অবশিষ্ট অংশ সমাপনের আগে। এবং, অবশ্যই, বৃষ্টি হবে কি অদ্য রজনী ভিজিয়েও রোজকার মতো? বনের ভাঁটপাতা আরও ভারী ও বিবশ-করা মাতোয়ালা ঘ্রাণ প্রকাশিবে কি আপকামিং কালিকার দুপুরেও?
বনজ্যোছনায় বৃষ্টিনিশি, ইম্যাজিন! হয় টিগার্ডেন কিংবা রাবারবনে একটা-কোনো অতিথিনিবাসের দোচালা কাঠকেবিনের বারান্দায় বসে দেখা আশ্চর্য বৃষ্টিফ্যল, ওই দূরে আরও দূরে … উঁচুতে … উঁচুতে নয়, একদমই নিকটে, একেবারেই নিশ্বাসলগ্ন নৈকট্য প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের, এইটা ঠাহর করতে গেলে আজকের বাজারি বিশ্বে একটু খর্চাপাতি তো করা লাগেই।
লেখা / জাহেদ আহমদ ।। মে ২০১৬
… …
- বিস্মৃতির পরিভাষা ও অন্যান্য || শুভ্র সরকার - April 20, 2026
- ঊষর নগর, পরিচর্যাহীন মাতৃত্ব ও জীবনচক্রের সংকট : পাপড়ি রহমানের উপন্যাস : পরিবেশবাদী নারীবাদী পাঠ || উম্মে কুলসুম - April 19, 2026
- কেন লিখি? || হামীম কামরুল হক - April 17, 2026

COMMENTS