তপনদাকে আমার মনে পড়ে, প্রায়শই। এমন অসাধারণ আর কোনো বড়ুয়ার সাথে আমার পরিচয় হয় নাই জীবনে।
প্রথম প্রথম ভয় পাইতাম, এত্ত হাই প্রোফাইলের মানুষ। গাণ্ডীবের সম্পাদক। গুরুগম্ভীর কণ্ঠ। কিন্তু আজিজে মেশামেশির পর, মনে হইত তপন বড়ুয়া আসলে ‘বিরাট শিশু’। মিরপুর ১-এর দিকে থাকতেন। আমাকে অসম্ভব স্নেহ করতেন।
বলতেন, যারা ম্যাথে পড়ে তাদের আমি পছন্দ করি। তুই কেমন আছিস?
আর চুয়েট থেকে ছুটিতে এলে, আজিজে দেখা হলেই বলতেন, এই পড়ালেখা ছেড়ে দিস নাই তো?
০২
কত্ত বছর দেখা হয় না তপনদার সাথে। তপনদাকে প্রচণ্ড মিস করি আমি। তাঁর গল্পের ঝুলি অসাধারণ। সবই সাহিত্য ও সাহিত্যিক কেন্দ্রিক। মূলত ’৮০-র কবিসাহিত্যিকদের নিয়েই গপ্প। অনেক অজানা নিষিদ্ধ কথাও অবলীলায় বলতেন। তসলিমা নাসরিনকে নাকি দেখা যেত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। উনি নাকি অনেক সুন্দরী ছিলেন। সাথে থাকতেন এক বিখ্যাত সাহিত্যিক। গল্প করতেন সৈয়দ মুস্তফা সিরাজকে নিয়েও।
অনেকের প্রশংসা করতেন। অনেকের উপর খাপ্পা ছিলেন। তাদের গালাগালি করতেন। হইছিলেন গল্পকার। হওয়ার কথা ছিল কবি।
মনে পড়ে, কাজলদার (কাশা) প্রশংসা করেছিলেন তখন। উদাত্ত সেই প্রশংসা, কাছিমগালা নিয়ে।
আমি একদিন তপন বড়ুয়ার সাথে কথা বলতে চাই। কারো কাছে উনার ফোননাম্বার থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন।
কিছুটা বোঁচা নাক। ভারী ধাঁচের শরীর। কুঁকড়া চুল ছিল কি উনার? সেই সময়ে থ্রিকোয়ার্টার পরে আসতেন। রাঙ্গুনিয়ার মানুষ কি ছিলেন এই অলীক মানুষটা!
তপনদাকে মনে পড়ে…
১৭ এপ্রিল ২০২৬
বিজয় আহমেদ রচনারাশি
গানপারে ছোটকাগজ
- তপন বড়ুয়া : আদি ও আসল গাণ্ডীবধারী || বিজয় আহমেদ - April 22, 2026
- প্রেক্ষাগৃহে প্রধানমন্ত্রী || বিজয় আহমেদ - April 11, 2026
- আনন্দের দিনে || বিজয় আহমেদ - March 26, 2026

COMMENTS