গোলাপের কাছে যেতে চেয়ে || আহমদ মিনহাজ

গোলাপের কাছে যেতে চেয়ে || আহমদ মিনহাজ

এইসব এলোমেলো কথা কেন লিখছি জানি না। হয়তো আপনার (মানে, লেখকের সঙ্গে গানপারসঞ্চালকের মেইলসংলাপে উত্থাপিত প্রসঙ্গ গানপার) ফিকশন-ননফিকশনের ছুতো ধরে বাক্যগুলো লিখিত হচ্ছে। হয়তো আমি এভাবে যেতে চাইছি একো-র গোলাপের কাছে। আখ্যানের শর্ত চুরমার করে থিসিস-অ্যান্টিথিসিস ও সিনথেসিস-এ জারিত সে-কাহিনির দিকে। যেটি খুনের তদন্তে শার্লক হোমসের বাস্কারভিলকে ফিরিয়ে আনে এবং চুবিয়ে দেয় মধ্যযুগের পোপশাসিত রোমানদের জগতে, যা এখান থেকে বসে দেখে-ওঠা জটিল মনে হয়। একসময় ফেলিনির ‘স্যটাইরিকন’ (satyricon) যেমন দুর্বেোধ্য ঠেকেছিল। যদিও পরে সেটা কেটে যায় প্রাচীন রোমান জীবন ও তার ইরোটিসিজম সম্পর্কে টুকিটাকি পাঠ-পাঠান্তরের সুবাদে

‘গোলাপের নাম’, যেটি জেনেসিস দিয়ে শুরু হয় :— In the beginning was the Word and the Word was with God, and the Word was God.  সাত দিবসের শেষে যখন ঈশ্বর বিশ্রামে যাবেন মনে হচ্ছিল তখন মঠে হত্যাগুলো ঘটে চলে। চার্চের ঘড়িবাঁধা সাতটি নিয়মের ছকে সাতজন অথবা সাত দিন অথবা সাতশ বছর খুন হয়ে চলে। অথবা সেই দরোজা, যেখানে হত্যার মোটিভ পাওয়ার মুহূর্তগুলো তৈরি হলো বুঝে একো অনর্গল তোড়ে সে-দেরাজকে বর্ণনা দিয়ে যায়। এইসব চিহ্ন ও টেক্সট, যেটি প্রকারান্তরে থিওলোজি ও ইতিহাসের আরকে চোবানো, একে উদঘাটনে সফর সারতে হয় পোপ-চার্চ শাসিত দীর্ঘ মধ্যযুগ, যেটি বিস্মৃত করায় আধুনিক যুগ বলে কোনোকিছুর অস্তিত্ব বা চিহ্নায়নকে, যেটি ফিরিয়ে আনে ইতিহাসের সেইসব হারানো ছিন্নসূত্র, যেমন ও যেভাবে ফুকো যৌনতা কিংবা পাগলামির ইতিহাস লিখে…ফিকশন ও ননফিকশনের দোটানা নয়, একো বাতিল করে কাঠামোছকে কাহিনিবয়ন। যেখানে দাঁড়ানোর পর কোনও প্রস্থানভূমি কিংবা ভাষার সরবতা নজরে দৃষ্ট হয় না :— All I can do now is be silent.

এবং পুনরপি গোলাপের নামটিও দুর্বোধ্যই থেকে যায়; যেমন থেকে যায় এই স্বীকারোক্তি, কাহিনিটি একো-র মস্তিষ্কপ্রসূত নয়; এটি Abbé Vallet-এর ফরাসি অনুবাদসূত্রে পাওয়া; যেটি আবার Adson De melk উনিশ শতকে লাতিন থেকে ফরাসিতে অনুবাদ করেছিল; যা পনেরো শতকে Adso of Melk লাতিনে লিখেছিল ইত্যাদি। সময়ের এই জটিল প্রবাহ আর রেফারেন্সের ঘোরপ্যোঁচে লেখকের নিজেকে গৌণ করে তোলার কারণে ফিকশন ও ননফিকশনের যুগলবন্দি হয়ে একো, ভ্যালেট, এ্যডসো ও এ্যাডসোন, প্রকৃতপক্ষে কার বয়ানে হত্যার সুলুক চলছে সেটা গুলিয়ে যায়। যেন আখ্যান আর আখ্যান থাকছে না, থিসিসের চাপে আখ্যানের ভিত্তি ফেটে যাচ্ছে।

the name of the roseগবেষণার এস্তেমাল ঘটানো হয় বিস্তর, যার সূত্র হয়তো একো রেখে যায় কেমনে থিসিস লিখিত হয় বহিতে। আবার গবেষণা থেকে পুনরায় সেটি ফেরত যায় ফিকশনে। আমাদের বঙ্গীয় কাহিনিবয়নের ট্রেন্ডে এটি বিপর্যয় এবং আমার ধারণা পাঠকের এটি নেওয়ার কথা নয়, নেওয়া উচিত নয়, যখন বঙ্গে কেউ এ-রকম আঙ্গিক ফেঁদে লিখতে গেলে ছিছিক্কার উঠবে নিশ্চয়। আমরা তো চিরকাল কনজারভেটিভ হই নিজের লেখার নিরীক্ষায় ভর করে আগানো বয়নে। লোকনাথ ভটচাজ কিংবা ওয়ালিউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’-ই আমাদের পরিপাক হয় না, বিদেশি মনে হয়। আর একো-র ছকে লেখা তো বিলকুল বাতিলমাল বঙ্গে।

তো সেই জটিল জেনসিসে ঢোকার প্রেরণা থেকে এইসব কথার সূত্রপাত হতেও পারে। যেটি ক্রমে প্রকাশ্য এবং মোড় নিতে পারে একো-র দিকে। তবে এখনই নয়। হয়তো কোনো-একদিন, যদি মনে হয় একো-র দিকে যাওয়া যাচ্ছে তবেই। আজ এ-পর্যন্ত। কাল বা পরশু হয়তো আগাবে এই কথামালা তার খেয়ালি তোড়ে।


লেখকের সঙ্গে গানপারসঞ্চালকের ইমেইলসূত্রে এই আলাপিকা তাৎক্ষণিকা আকারে বইরিভিয়্যু বিভাগে আর্কাইভড রইল। — গানপার

… … 

Satyricon

COMMENTS