অরবিন্দ দাস গুপ্ত : শিল্পের মতোই সৎ || শামস শামীম

অরবিন্দ দাস গুপ্ত : শিল্পের মতোই সৎ || শামস শামীম

নির্লোভ নির্জনতাপ্রিয় চিত্রকর অরবিন্দ দাস গুপ্ত — আমাদের অরবিন্দস্যার। ধ্যানী ঋষি হয়ে মগ্ন থাকতেন পটে। শিল্পসৃষ্টির ক্ষুধায় ভুলে থাকতেন দিনদুনিয়া।

তরুণ চিত্রকর শাহ্ আলম — অত্যন্ত অকালে প্রয়াত শিল্পী শাহ্ আলম — আমরা সবাই যাকে একশব্দে আলমভাই সম্বোধন করতাম; — আলমভাইকে আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত ছোটকাগজ জাঙ্গাল-এর কাভারের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। দুর্ভাগ্য, কথাবার্তা বলার কিছুদিনের মধ্যেই তরুণ এই মেধাবী চিত্রকর মারা যান।

আলমভাইয়ের আঁকা অনেক ছবি তখন অরবিন্দস্যারের জিম্মায়। দেবব্রত ঘোষ চৌধুরী বাপ্পাদার কাছে শাহ্ আলম ভাইয়ের ছবি দিয়ে জাঙ্গাল-এর কাভার করার কথা ব্যক্ত করি। তিনি শাহ্ আলম ভাইয়ের গুরু অরবিন্দস্যারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তখনই স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ।

অন্যদের মতো আমিও এই শিক্ষাগুরুকে স্যার ডাকতে শুরু করি। কয়েকদিন যোগাযোগের পর তিনি আমাকে বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে দেখি সবকিছু শাদামাটা। কাগজ, বই ছড়ানো চারদিকে।

একটি ব্যাগ থেকে শাহ্ আলম ভাইয়ের বেশকিছু ছবি বের করে কাভারের জন্য যে-কোনো একটি বাছাই করার কথা বলেন স্যার। আমি অনেক ভেবে শাদাকালো এই ছবিটি পছন্দ করি।

স্যার তাঁর শয়নকক্ষ থেকে বেরোনোর পর পছন্দের ছবিটি স্যারকে দেখাই। তিনি হাতে নিয়ে বলেন, স্ক্যান বা ফটোকপি করে মূল কপিটি দিয়ে যেয়ো। আর বললেন, তোমার পছন্দ মন্দ না। লিটলম্যাগ-উপযোগী।

স্যারের কল্যাণেই মূলত শাহ্ আলম ভাইয়ের আঁকা ছবি দিয়ে আমার কাভারক্ষুধা মিটিয়েছিলাম। তারপর বিভিন্ন কাজে সিলেট গেলে মাঝেমধ্যে স্যারের সঙ্গে দেখা হয়ে যেত।

অতিমারী করোনা কেড়ে নিলো প্রান্তের এক নিমগ্ন ঋষি শিল্পীকে। গেল ১৮ জুলাই ২০২১ তিনি বিদায় নিলেন। আমৃত্যু শিল্পের মতোই সৎ ছিলেন অরবিন্দ দাস গুপ্ত।

স্যারের আত্মার শান্তি কামনা করি।


শামস শামীম রচনারাশি

COMMENTS

error: