
ঢা কা, মা ই লা ভ!
‘হিরোশিমা, মাই লাভ’ নামে একটা উপন্যাস আছে সন্দীপনের, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের, ওখান থেকেই ধার করেছি শিরোনামটা, হে প্রিয়!
***
আলিফের ছোট বাসটায় যখন আমি আর মৃদুল উঠেছি, দুই বন্ধুকে বিদায় দিয়ে, তখন প্রায় আটটা বাজে। সিগ্ন্যালে গাড়ি আটকে আছে অনেকগুলো। ফারুক বোধহয় রবরব পরিবহনে উঠবে। গুলশান-১ এর মোড় পার হয়ে ফকরুদ্দিন বিরানীর পাশেই ৩ তরুণ আড্ডা দিচ্ছে। একজনের হাতে ধরা তার অতিকায় কুকুরের দড়ি। রাস্তায় জ্যাম। ভেঁপুর শব্দ অবিরাম বাজে।
আমি বলি, রনি (আহম্মেদ) ভাইরে পাইলে ভালো হইত। কিছুক্ষণ কথা বলা যাইত।
৭টার দিকে যখন বেঙ্গলে ঢোকার সময় দেখলাম, রনিভাই সিগ্রেট টানছে। কেউ-একজনের সাথে। লম্বা। সুদর্শন। গ্যালারি ঘুরে এসে আর পাই না আমরা। কিছুটা বিহ্বলতা কাজ করছিল ঐ মুহূর্তে। নির্ভানার সেই হাল্কা কিন্তু প্রবল হলুদের মতো।
আজকে জানলাম, রনিভাইকে নিয়ে ২০০৬-এ একটা ডকু বানানো হইছে। শিরোনাম ‘কবর থেকে আসে মানুষ কবরে ফিরে যায়’ (ভুল হলো কি, মৃদুল?)। ডকুর দাম ২০০ টাকা। কভারটা আগ্রহ তৈরি করে ব্যাপক। ‘গড অ্যান্ড বিস্ট’-এর ক্যাটালগ দেখছিলাম। ছাপা একটা জাদুকরী জিনিশ। এইটার একটা জিয়োমেট্রি আছে। অথচ কবিসাহিত্যিকরা ছাপার নন্দন নিয়ে ভাবে না বইলা মনে হয়! একদিন ছবির হাটে এক ফটোগ্রাফার বন্ধু, তীব্র উত্তেজনায় তার ফটোবইয়ের ডামি দেখাচ্ছিল, ল্যাপটপে। মানে ছাপার একটা আলাদা বিষয় আছে। নিজস্ব রঙ আছে।
***
বাসটা প্রথমে পাল্লা খেললো, হিমাচলের সাথে। ধুন্দুমার গতিতে। মহাখালি পর্যন্ত। তারপর আগারগাঁ পার হয়ে পাল্লা লাগলো বিহঙ্গ পরিবহনের আরেকটা বাসের সাথে। ইন্টারেস্টিং কিন্তু।
আমি মৃদুলরে কইলাম, দেখছস, শালা মনে অয় ঠিকমতো গাড়িই চালাইতে পারে না।
মৃদুল হাসল। আর বলল, ওরে কোনোকিছু কয়া লাভ হইব না।

***
মৃদুল কইলো, কি রে রাস্তা ফাঁকা ক্যান? আমি তো ভাবছিলাম, মহাখালী পার হইতেই একঘণ্টা লাইগা যাইব!
এই-যে আজ দ্রুত চলে এল বাসটা। এইটা ক্যামন জানি। রনিভাইয়ের ছবির মতো আর-কি। সব কী ব্যাখ্যায় মেলে? কেন ইউএফও আর মিথ একসাথে আমরা দেখি? কোনো দূরবর্তী ইশারায় ইউএফও আর মিথ এক হয়ে যায়। (UFO বা Unidentified Flying Object-এর কথা উঠলেই আমার ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’-র কথা মনে আসে। তাদের একটা অ্যালবামের নাম ছিল ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু’। অসাধারণ না? ইউএফও। ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু’ বা ‘ইউএফও’।)
***
গতকাল (১৬/০৯/২০১৫) রাত্রে ফিরতে ১০টা বেজে গেছিল। আজ বাজল ৯টা। বাসের জানালা ফুঁড়ে বাতাস আসছিল। জীবন, মন্দ নয় — আমি ভাবতেছিলাম। আর চীন থেকে মৃদুল (মাহবুব)-কে কেউ টেক্সট করছিল, এইটাও খারাপ না।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫
রেখাচিত্রগুলো গ্যুগল করে ওপেন সোর্স ইমেইজ হিশেবে পাওয়া, শিল্পীর খোঁজ করা যায় নাই। — গানপার
… …
- তপন বড়ুয়া : আদি ও আসল গাণ্ডীবধারী || বিজয় আহমেদ - April 22, 2026
- প্রেক্ষাগৃহে প্রধানমন্ত্রী || বিজয় আহমেদ - April 11, 2026
- আনন্দের দিনে || বিজয় আহমেদ - March 26, 2026

COMMENTS