প্রতিবর্ত সংলাপিকা

প্রতিবর্ত সংলাপিকা

শেয়ার করুন:

হাফিংটন পোস্টে একটা লেখা পড়ে এখন আর নাম ইয়াদ করতে হচ্ছে না এমন এক এফবিফ্রেন্ড অ্যাক্টিভিস্ট লেখক ওই অ্যাপ্রোচ অবলম্বন করে একটা ফান পোস্ট লিখেছিলেন বাংলায়। বিষয় ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের বিচিত্র কর্মকলাপ। উনি স্বীকার করসিলেন রচনার শেষে যে সেই ইংলিশ ফানি আইটেমটা পড়ে ‘এত মজা লাগছে’ যে আর থাকতে না-পেরে বাংলায় ব্যাপারটা ট্রাই করেছেন লিখতে। এহেন অবস্থায় আমিও রচনাটায় ফানি কিছু ট্রু পর্যবেক্ষণ টের পেয়ে শেয়ার করে রাখি নিজের টাইমলাইনে। এখন, রচনাটা, হাফিংটোন পোস্ট পড়ে যারা তারা জানে, স্যাটায়ারিক হলেও লিটারেরি নয় অ্যাপ্রোচ তার, অন্তরালে ইল ইন্টেনশন মনে হয়, শেইমিং বুলিয়িং চোলাই করে লেখা। হাসান শাহরিয়ার, কবি ও গদ্যকার, আমার পাতায় শেয়ারের আগায় চিলতে কথিকার উত্তরে হ্যামার করেছিলেন অম্লান কড়া ভাষায়। আমি দ্বিরুক্তি করি নাই। কিছু উপাদান ওই লেখায় এমনই ছিল যা আপত্তি তুলবার মতো। মজাচ্ছলে লেখার বাহানায় ব্যক্তির মর্যাদাহানি ঘটানো। সময়টা ২৭ মার্চ ২০১৪। ওই সময়টায় এক লেখক আরেক লেখককে খেয়ালনজর করত। অবসরপ্রাপ্ত ও মন্ত্রী-হতে-উদ্যত সচিবের সঙ্গে সেল্ফি তোলার হিড়িক বাংলাদেশের লেখকসমাজে ব্যাপকতা পাইবার আগের এক সময়। সে বড় সুখের সময় ছিল, মনে হয়, সে বড় নষ্টেরও কম নয়। টেক্সটের সঙ্গে লেখকেরা ইন্টারঅ্যাক্ট করত অনেকটা স্বাভাবিক প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মতো। তখনও। পরে এমন আর থাকে নাই যদিও। অনেক দিন, পাক্কা বারো বছর, পরে ফেসবুকমেমোরি ফিরিয়ে দিলো কথাচারণাটা। আমার আর হাসান শাহরিয়ার যৌথতার। কোন লেখাটা শেয়ার করসিলাম, কার, উল্লেখ করাটা ব্যক্তির অধিকার ভায়োলেট করে। কেবল সময়টা, কত আগের, পাক্কা একযুগ আগের, আর কিছু অত জরুরি বিবেচ্য নয়। আর কিছু লক্ষযোগ্যও নয়। নিম্নোক্ত দুইবক্তার আলাপের পরপর দুইটা পার্টের পরে এই রচনা চ্যাপ্টার ক্লোজ করে ফেলবে। হ্যাভ অ্যা হ্যাপি রিড!

রচনার বানান ও ভঙ্গি বিকলনহীন আগের মতো রইল। কয়েকটা টাইপো শুধু সংশোধন করা হলো। পূর্বোক্ত জুন ২০১৪-র কথাগুলা গানপারে এই নিবন্ধের ছাঁচে ফেলতে ফেলতে মে ২০২৬। খ্রিস্টাব্দ।

 


ভোট গোপনে দেওয়াটাই নাকি দস্তুর। ভদ্রলোক সর্বদা আন্ধাইরেই কাম সারে। আমি অবশ্য অল্পই ভদ্রলোক, খুব বেশি না, লাইক দিয়ে বেশিরভাগ সময় একজনের ভালো হোক বা মন্দ হোক এফোর্টটাকেই সাপোর্ট ও সম্মান জানাই, ভাষা দিয়া লিখতে পারি না বলে কমেন্ট অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও দেওয়া হয়ে ওঠে না, আমি জন্ম ও কর্ম ও অন্যান্য সমস্ত সূত্রেও ভদ্রলোকপঙক্তিভুক্ত নইও যথেষ্ট, তদুপরি আজকে এই স্ট্যাটাসটা নজরে আসা মাত্র মনে হইল ভদ্রলোকির কম্বলখানা ধা করে এইবার ফালায়া দেই গা থেকে, যা হয় হবে তা বাদ-মে দেখা যায়ে-গা, ভোট দিয়াই ক্ষান্ত না-থাকিয়া তাই ব্যালটপেপারখানাই উঁচাইয়া ধরিলুম জনসমক্ষে। এহেন বিপ্লবী করিয়া তুলিতে পারে কি না এই স্ট্যাটাস, সেইটা ম্যান টু ম্যান, উওম্যান টু উওম্যান, এলজিবিটিকিউপ্লাস টু এলজিবিটিকিউপ্লাস ভ্যারি করে। ডেফিনিটলি। ভুক্তভোগী মাত্রেই ভুক্তভোগী দেখিয়া সিম্প্যাথি প্রকাশেন। তবে হ্যাঁ, এই স্ট্যাটাস শেয়ার করিয়া নিজের জন্যও একটা আয়না রাখিলুম। অবিকল হুবহু না-হইলেও অলমোস্ট কাছাকাছি জীবন ও ফেবুনৈতিক বাস্তবতা তো আমারও। স্ট্যাটাসঅথারকে ভোটই তো দিলাম, তো হুদা আর ধন্যবাদ দেই না।

 


হাসান শাহরিয়ার :  খোমাখাতায় যার যার কথা সে সে বলবে। কথাগুলা অদরকারি হইলেও কেউ একজন বলতেই পারে তার কথা। এইটা ঠিক কথাগুলা যদি ক্ষতিকর হয়, তবে বুঝনেওয়ালা যে, সে স্ট্যাটাসদাতারে তিরস্কার করতে পারে, এইটাতে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো আপত্তি নাই। জনৈক লোক, যার স্ট্যাটাস শেয়ার দিলেন আপনে আর সমর্থনও করলেন, সেইখানে মানুষের এমনকিছু আপত্তিকর কথা নাই যা শব্জি অথবা আমিষখোর কাউরে বিরক্ত করতে পারে। আমি ধইরা নিলাম তিনি প্লাস্টিক কিছু খাইয়া পেটের পীড়ায় আহত হইয়া এইসব বিলাপ বিলাইতেছেন। সেলেব্রেটি মনে হইতেছে। তাইলে মুফতের কাস্টমারও ধইরা রাখার ব্যপারখান থাকে। যাইতে যাইতে আরেকটা কথা বইলা যাই, কারো এইধরনের স্ট্যাটাস যদি কারো বিরক্ত উত্‍পাদন করে, তাইলে ভালো হইল তারে না পড়া। আমার কাছে যেইটারে এমন মনে হয় আমি ফিড অফ কইরা রাখি। তাদের নিয়া তামাশা করার সাহস আমার নাই!

জাহেদ আহমদ

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you