একদিকে আগারগাঁ বা উত্তরা বা খিলগাঁর মতো অনেক জায়গায় মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত আবার উচ্চমধ্যবিত্ত কেউ কেউ ফুটপাতে নানা ফর্মে খাবার বিক্রি শুরু করছেন, যদিও উনাদেরটারে টং না বইলা কার্ট বলার চল হইছে, করোনার সময় শহর থেকে বাড়িতে ফেরত গিয়া থাকতে থাকতে বাসায় রান্ধাবাড়ি করে খাবার সরবারহ করার ব্যবসা, ফেইসবুকে পেইজ খুলে নানা জিনিসপাতি বেচাবিক্রির একটা অনলাইন কুটিরশিল্প ইন্ড্রাস্টিও হইছে দেশে। যেইটা আবার অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফুড ব্লগিং, ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি, গিগ ইকোনমির সমান্তরালেই আগাইছে বোধ হয়। একটা শিফট যে হইছে সমাজে ঐটারই নিদর্শন হয়তো এগুলি।
আগে যেমন সমবায় সমিতি ছিল বা এখনো আছে, যেইখানে সেলুনের নাপিত, মার্কেটের দোকানদার বা বাসার মা-খালারাও টাকা জমাইতেন মানে ক্ষুদ্রঋণ যেমন গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীরে টার্গেট করছিল; উপজেলা, মফস্বল, জেলাশহরগুলিতেও এনজিওকারবারিরা ননফর্মাল আর ফর্মাল ইকোনমির মাঝখানে একটা বাফার জোনে জায়গা করে ছিল। সেইটা যেই ইকোনমির পার্ট সেইখানে প্রযুক্তি আর সোশ্যাল মিডিয়া, গিগ ইকোনমি, বিকাশ, নগদ, ফুডপান্ডা, অনলাইন বেইট, আইপিএল, বিপিএল, য়্যুটিউব, টিকটক, লাইভ ব্যাকারি নতুন ব্যঞ্জনা-আন্দোলন নিয়া ঢুকে পড়ছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়তে আসেন উনারা গ্রাম গঞ্জ ও এই সাব আর্বান অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকেই, এগুলি পাড়ি দিয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়া একটা বিকট জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পেশাজীবী জীবনে ঢোকেন।
যারা ভালো জানেন তারা বলাবলি করতেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ক্যাম্পাসের ইনফরমাল ইকোনমির সাথে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের খানা খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সুলভে বা হাতের নাগালে পাওয়ার অর্গানিক সম্পর্কের কথা। আরও যারা ভালো জানেন, উনারা ধারণা করতেছেন শিবিরের লোকজন নিজেদের রাজনীতি আরও জমকালো করতে পুরান দোকানপাট ও বন্দোবস্ত সরায়া নিজেদের মতো নিজেদের লোক দিয়া একটা অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করতে চায় যেইটা ক্যাম্পাসগুলিতে তাদের রাজনীতিরে একটা বেইজ দিবে। জামাতশিবিরের মেস, হোস্টেল, কোচিং সেন্টার, ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যবসা ত ছিলই। আমরা এও জানি জামাত শিবির, শিক্ষার্থীদের আর্থিক-প্রাতিষ্ঠানিক নানান সুবিধার ব্যবস্থা করে তাদের রাজনীতির কলা ও কৌশল হিসাবে।

যারা ভালো জানেন তারা বলাবলি করতেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ক্যাম্পাসের ইনফরমাল ইকোনমির সাথে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের খানা খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সুলভে বা হাতের নাগালে পাওয়ার অর্গানিক সম্পর্কের কথা। আরও যারা ভালো জানেন, উনারা ধারণা করতেছেন শিবিরের লোকজন নিজেদের রাজনীতি আরও জমকালো করতে পুরান দোকানপাট ও বন্দোবস্ত সরায়া নিজেদের মতো নিজেদের লোক দিয়া একটা অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করতে চায় যেইটা ক্যাম্পাসগুলিতে তাদের রাজনীতিরে একটা বেইজ দিবে। জামাতশিবিরের মেস, হোস্টেল, কোচিং সেন্টার, ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যবসা ত ছিলই। আমরা এও জানি জামাত শিবির, শিক্ষার্থীদের আর্থিক-প্রাতিষ্ঠানিক নানান সুবিধার ব্যবস্থা করে তাদের রাজনীতির কলা ও কৌশল হিসাবে।
এখন পূর্ববঙ্গীয় মুসলমান সমাজের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরণের ভাঙা সেতু হিসেবে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ফাংশন করে, তাতে লুম্পেন, টোকাই, গরিব, নিম্নবিত্তের সাথে শিক্ষার্থীদের কালেক্টিভ সম্পর্ক আওয়ামী লীগের সময়ে এবং জুলাই-পরবর্তী সময়েও সেই রকমই আছে অথচ রিকশাওয়ালা নিয়ে একটা ক্যাম্পেইন করছেন জুলাইয়ের পিআররা। অনেক রিকশাচালক ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের সাথে ছিলেন, মোরালি এবং রাজপথে জুলাইতে। হাড্ডি খিজিরের কথা আমরা কেন ভুলব?
ছাত্রলীগ বাইরে থেকে টোকাই লুম্পেন এনে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পিটায় এ-রকম কথা চালু ছিল মানে টোকাই-ছিন্নমূল বিদ্বেষ। কামরাঙ্গির চর থেকে উদ্যানে ঘুরতে এসে কয়েকবার লুম্পেনরা যে নারীশিক্ষার্থীদের হেনস্তা করে নাই এমনটাও যেমন না, ছাত্রলীগের নানা স্তরের নেতা বা সহপাঠী, সিনিয়র, শিক্ষক, প্রশাসনও নারীশিক্ষার্থীদের হেনস্তা অ্যাবিউজ করছে।
বনসাই জাতীয়তাবাদের ধারক ও বাহক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন প্রতিনিধিরা ডিসিপ্লিনারি নিয়ন্ত্রণের যত খাত আছে সেগুলিতে এখন নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে লাফঝাঁপ দিতেছে। হেডম প্রতিষ্ঠা করতেছে। গণরুম থাকবে না, র্যাগ থাকবে না কিন্তু হলে-ক্যাম্পাসে মোরাল পুলিশিং থাকবে। ছোট দোকানদার, হকার, ভবঘুরে, পাগল তাড়ায়ে বড় মহাজনদের এবং শিক্ষার্থীদের বুঝাইতে চাইতেছে এখন এদেরকে সালাম দিয়া চলতে হইব। হাসিনার পলিটিক্যাল ইকোনমি আর জামাতের পলিটিকাল ইকোনমিতে খুব-একটা কাঠামোগত ফারাক নাই সম্ভবত। নগদ ও টেক যেমন লীগের ছিল, নানান ব্যবসা খাত নিয়ন্ত্রণে ছিল, জামাতশিবিরের এ-রকম টেকনো কর্পোরেট পর্দানশীন নিওলিবারাল দেশপ্রেম ও শ্রেণীঘৃণা পয়দা করতে থাকবে। ছাত্রদল আবারও ব্যর্থ হইল, কোনো আলাপেই নাই মনে হয়।
নির্বাচনের পর হয়তো বসুন্ধরা, যমুনা, এসআলম এরা বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তখন ভাগেযোগে একটা মিলমিশ হবে আরকি।
অক্টোবর ২০২৫

COMMENTS