চিত্রজগৎ এবং তা সম্পর্কিত ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্প ও কলা, রিকশা পেইন্টের কন্ট্রাক্টরি, কোকস্টুডিও, এরা, তারা, উনারা খণ্ডিত রসুনটুকরা নহে।
গরিব আর ওয়ার্কিং ক্লাসরে বিনোদনের সাবজেক্ট ওগো প্রিয় পারিক্ষ বানায়া তব গরিব আর ওয়ার্কিং ক্লাসরে সিনেমাহল থেকে খেদানোর সাদা সাদা কালা কালা লৌড়ানি ফন্দির ঘটনাই হচ্ছে গিয়া হালের নিকেতন থেকে সাপ্লাইড বাঙলা সিনেমার কায়কারবার।
খাড়ায় যাওয়া কমেডিয়ান যে ঢাকার জ্যাম নিয়া, কম ও ভুল ইংরেজি জানা মাস্টাররে নিয়া শুকনা ও জঘন্য চুটকি কহে আর ঐ শুনে যারা হো হো করিয়া বসে বসে হাসে আর যে কন্টেন্টক্রিয়েটর কলম্বাসের ছোটভাই, আবিষ্কার করে লোকাল খাদ্যরসনা, ফুডপ্রোগ্রাম; তারপর খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুইকা পড়ে উৎসুক পর্যটন নিয়া বিভিন্ন স্ট্রাটার ভোজনরসিকরা অথবা যে কন্টেন্টক্রিয়েটর ফেসবুকে ড্রোন চালায়া জঙ্গলে শিয়ালের বাড়িতে সার্ভাইলেন্স পাঠায় ওরা একেকজন আরেকজনের দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে ওঠা। উঠতেছে যেন ঘুম ভেঙে সহসা উত্তরাধুনিক এক ঈশপের গল্প অবলম্বনে বুনোয়েল পরিচালিত এক দুষ্টামিতে ভরপুর করুণ কমেডির কিমাকার। আর ফেস্টিভাল ফেলোজ রুচিশীল চিত্র ও বিজ্ঞাপন পরিচালকেরা টেবিলের তল থেকে বাহির করিয়া রাখিছে উনাগো মডিফাইড কালচারের হাত। আঙুলগুলি খামচি দিবার চাহে।

২
‘মৌনতা মানে এই না যে আমি কথা বলছি না
এ তোমার ব্যর্থতা
তুমি আমার মনের কথা শুনতে পাও না’
‘নীরবতা ফ্যাসিস্টের ভাষা’ এইটা অর্ধসত্য এক্সপ্রেশন। ফ্যাসিস্টের নীরবতা আলাদা, আল্লাহ্-খোদার নীরবতা অর প্রেমিকার নীরবতার থেকে। মৌনতা প্রেমিকার ভাষাও হইতে পারে, যদি কান পাততে পারে কেউ। মাটির মানুষ যখন খোদাগিরি করতে যায়, অন্যরে তুচ্ছ জ্ঞান করে, অন্য সব স্বর ভাষ্যরে মিউট করে রাখার ম্যাকানিজম করে, আওয়াজ গায়েব করে দেয় যেইটারেই হয়ত পণ্ডিতরা বলছেন বা জিগাইছেন যে সাবঅল্টার্নে কি কথা কইতে পারে নাকি? মানে অন্য সবাইরে চুপ করায় দিয়া, ফ্যাসিস্ট তার নাকডাকার শব্দ শুনতে বাধ্য করতেছে বা সরকারপ্রধান আপনারে চুপ করায় দিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়া, সংবাদ সম্মেলনেও আপনার বা কোনো গোষ্ঠীর দাবি দাওয়া অ্যাড্রেস করল না।
খোদার নিরানব্বইটা যে নাম আছে ইসলামে, সবগুলিই বিশেষণ মানে গুণবাচক সম্ভবত। এখন শাসক যখন ধরাছোঁয়ার উপরে উইঠা যায়, জনগণ আর রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একশ একটা পর্দা আর বাবল থাকে, কোনো জবাবদিহি থাকে না, থাকে শুধু আঙুলের ইশারা আর প্রেসনোট আর পরে প্রেসসচিবের স্টান্টবাজি ঐটা হইল কাইন্ড অফ খোদাগিরি। মানে এত পাওয়ারফুল যে জনগণরে বা অন্যমতের লোকজনরে পাত্তা দেয় না, একটেবিলে আর বসে না, ধমক দিয়া বা ভয় দেখায়া চুপ করায়ে দেয়। নীরবতাই রাষ্ট্রভাষা হয়া ওঠে, কারণ তখন ৫৭ ধারা, ডিজিটাল অ্যাক্ট এগুলি থাকে। ‘অ্যানাদার ব্রিক ইন দ্য ওয়াল’-এ বা আমরা অনেকেই স্কুলকলেজে যা পাইছি যে মাস্টাররা বেত দিয়া পিটায়, কেউ নির্ভয়ে কিছু জিগাইতে পারে না। মানে ক্ষমতা সম্পর্কে ইকুয়ালিটি নাই। তাই নীরবতাই একটামাত্র সিগ্নিফায়ার, দমন নিপীড়ন গুম আর নজরদারির। ‘নাম বললে চাকরি থাকবে না’-র ভয়। মানে একমাত্র জনগণরে নীরব করায় দেয়ার মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট জনগণের সাথে ডায়লগ করে। মানে নীরবতা দিয়া এনকাউন্টার করা হইতেছে ফ্যাসিজমের নীরবতা হয়ত। সেই চর্চা এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অ্যান্ড ফ্রেন্ডসদের মধ্যেও আছে।
আর খোদা যেহেতু অনন্ত এক অসীমের রাজ্যে বিরাজ করেন যেইটা হয়ত ভাষাজ্ঞানের যে রিয়ালিটি ঐটার ঐপারে, যেইখানে সাধনা দিয়া পৌঁছাতে হয় হয়ত, মানে ধ্যান টাইপ কিছু, ধ্যান করতে গ্যালে ত মৌনতাই গোলাপ জল। প্রেমিক বুইঝা নেয় প্রেমিকার ইশারা, কারণ প্রেমিকা নীরবতা দিয়ে হয়ত তার অ্যাজেন্সি ক্লেইম করে। আর প্রেমিক অর ধ্যানে যে থাকে তার মন থাকে জিকিরের মধ্যে অথবা ঘোরের মধ্যে, ঐখানে নীরবতা নদীর ঢেউয়ের মতো, যেইখানে বিশ্বাস অর প্রেম হইতেছে জোছনা-বিছানো আকাশগঙ্গা। আর ‘আকাশ’ শুধু মাটির পৃথিবী থেকেই দেখা অর ফিল করা যায় সম্ভবত। আকাশ থিকাই বৃষ্টি ঝরে, মহাকাশ থেকে না।
২০২৪-’২৫

৩
যদিও আসলে জানি না এই মুহূর্তে মেসি না রোনালদো কে সৌদি/কাতার/কুয়েত/মার্কিন লীগে খেলে কিন্তু প্রবাসী শ্রমিক, ইমিগ্রেন্ট, মাইগ্রেন্ট, রোনালদো, মেসি বা গ্ল্যাডিয়েটর উনারা প্রায় একই জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার দুইটা প্রান্তে (যেমন সাহারা মরুর সাথে এক অসামান্য সম্পর্কে জড়ায়ে আছে অ্যামাজনের বনাঞ্চল) বিলং করে সম্ভবত। মানে বিদেশগামী ইমিগ্রেন্ট ওয়ার্কিং ক্লাস গ্লোবাল পুঁজির যে স্ট্রাটাতে ইন্দুর বা শান্ডা ডিক্লেয়ারড হয়ে রক্ত আর ঘাম ঝরায় জুম-আউট করে দেখলে বা শ্রেণীবিচারে উনাদের শুরুটা একই বর্গে।
সেইখানে নব্বই মিনিটের সেকেন্ড জেনারেশন শ্রমজীবী পরিবার থেকে আগত ফুটবলার আর গ্লাডিয়েটর কাছাকাছি চরিত্রই আর জীবনানন্দ দাস না, দাশ। নানান ক্লাবে পেশাদারি ফুটবল খেলেন যারা, বিশেষত দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়রা, বিশ্বকাপ আসলে উনাদের লাইফস্টোরিগুলি আসতে থাকে বা ইউরোপের দলগুলির মধ্যে অভিবাসী সন্তানরা খেলেন, মেসি যে স্পেনে না খেইলা আর্হেন্তিনায় খেলছে এইটা নিয়া দেশপ্রেমিক বঙ্গীয় টিনেজরা আপ্লুত থাকেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল টিমে বৈশ্বিক পুঁজির কাঞ্চনজঙ্ঘার (অঞ্জন দত্ত, কাঞ্চনজঙ্ঘা গানে ভাগ্য খুঁজতে ক্যালিম্পং থেকে কলকাতায় আসা মানুষটার যেই গল্পটা শোনাইছেন, ঐ গল্পটাকে উড়োজাহাজে উঠায় দিলে আমরা যেই ডায়াসপোড়া গল্পটার মুখ দর্শন করব) ঝিকিমিকি হাতছানি এণ্ড দেশীয় ও ব্যক্তিগত সংকট মোকাবেলায় অভিবাসী হওয়াদের সন্তানরা ট্রায়াল দিতে আসেন ইদানীং। গ্লোবাল পুঁজির হিসাবনিকাশে ক্লাস-সলিডারিটির কালেক্টিভ একটা যোগাযোগ হয়ত আছে। কিছুদিন আগে, অভিবাসী হওয়া বা প্রার্থী বা প্রত্যাশী ‘গ্লোবাল সাউথ’ অভিবাসীদের এই রোনালদোর মুখে সৌদি যাওয়ার বিজ্ঞাপনটা দেখে এগুলি মনে হইল আরকি।
২০২৪-’২৫
নাফিস সবুর রচনারাশি
- ভাগেযোগে বিকট জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা || নাফিস সবুর - May 5, 2026
- ডিসক্রিট চার্ম অব এডুকেটেড বাঙালি মিডিল ক্লাস (কালচারাল) || নাফিস সবুর - May 1, 2026
- একটা ডিলেট করা সিনের মধ্যে ঢুকে বসে আছি || নাফিস সবুর - March 27, 2026

COMMENTS