বইজীবন || রাহাত শাহরিয়ার

বইজীবন || রাহাত শাহরিয়ার

কচিকাল আর বিদ্যালয়


শুরু আরো অনেকের মতোই ‘আমার বই’ প্রথম ভাগ দিয়ে। কবিতা বাদ দিয়ে গল্পগুলা। বেতাল পঞ্চবিংশতি  আর Radiant Way  বইয়ের ছোটগল্প। স্কুলের জন্য পড়তে মোটেই ভালো লাগত না। বন্ধুদের হাত ধরে চাচা চৌধুরী  হয়ে সেবা প্রকাশনীতে পড়ে গেলাম। আর আমায় পায় কে! তিন গোয়েন্দাকুয়াশামাসুদ রানাকিশোর পত্রিকারহস্য পত্রিকা। বাসায় কড়া নিষেধ। কিছু নিষিদ্ধ ম্যগাজিন নিয়ে বমাল ধরা খাওয়ায়। তাই সবাই ঘুমোলে তবে। সেইসাথে অনুবাদ। জুলভার্ন মাথায় ঢুকত না। তবে আর্থার কোনান ডোয়েল মধ্যযুগ নিয়ে আমার অবসেশান তুলে দিলো। আইভানহো-তালিস্মান ধরে আমি নাইট হয়ে ঘুরে বেড়াই। নিজেকে বড় মনে হতো ১২ বছর বয়সেই। বঙ্কিম হজম করতে না পেরে শরৎ/গল্পগুচ্ছ। আমি ব্রাহ্মসমাজের একজন প্রায় হয়ে গিয়ে কোলকাতায় ট্রাম চড়ি।

উচ্চমহাবিদ্যাকাল


স্কুলের পর ক্রিকেটার হবার নেশায় চুর। তাই সে-সময় শুধু খেলাধুলার বই আর ক্রিকেটম্যাগাজিন। সময়টা নিষ্ফল একটু। সাইন্সে। কিন্তু আমার মন টানে বিপরীতে। টার্গেটমতো অনুবাদ না পেয়ে অনিচ্ছার সাথে রেমার্কের দুটো পেপারব্যাক কিনেছিলাম। ব্যস। আজও ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১/২ আমার প্রিয় বিষয়। এছাড়া পত্রিকা আর হুমায়ূন আহমেদ।

সমাজবিদ্যায়


একটা দুয়ার খুলে গেল। সাল-তারিখ মোটেও মনে থাকে না। তত্ত্ব নিয়েও তেমন মাথা ঘামাইনি। স্রেফ ইতিহাস। মার্ক্স কি বকেছেন তা না পড়ে আমি তার জীবনী আর সে-সময়ের ইউরোপ কেমন ছিল তা-ই জানতে বেশি আগ্রহী ছিলাম। রাতের পর রাত এসব পড়ে দরকারি পড়া আর হয় না। কারেন্ট নিউজ জীবনে কিনেছি বলে মনে পড়ে না। তো বি-মাইনাস। আশ্চর্য! আমার মোটেই খারাপ লাগেনি এজন্য।

ছাত্রজীবন পরে


হাবিজাবি, এটাসেটা, বাংলা পেপারব্যাক দেশের বাইরে দুর্লভ। ইংরেজি পেপারব্যাক কেনা মাঝে মাঝে।

তাজা খবর


একটা বই শুরু করলে শেষ না করে ছাড়া হতো না। টানা ৩৬ ঘণ্টা পড়েছি সে-কথাও হয়েছে। এখন প্রব্লেম একটাই। মহাদুশমন হচ্ছে হাতে-থাকা ফোন। দু-পাতা কিছু পড়ার পরেই অটোমেটিক ফোন আনলক করে এটাসেটা। আমার বইপড়ার জায়গাটা নিতে চায় মরার ফোনে …

রাহাত শাহরিয়ার রচনারাশি

… …

COMMENTS

error: