আমাদের দাদিযুগ

আমাদের দাদিযুগ

এই বয়সে এসে বুঝতে পারি যে, আমাদের দাদিদের জেনারেশন অনেক বেশি আনপ্রেডিক্টেবল্, অন্তত আজকের যুগের নারীদের তুলনায়, অনেক বেশি রেক্লেস্, অনেক বেশি সিদ্ধান্তগ্রহণক্ষম ছিল। অপার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ওই পরিসরটুকু করে নিতে পারতেন তারা। আজকে যেমন কর্পোরেট-কন্ট্রোল্ড উওম্যান এন্ট্রাপ্রেন্যুয়ার্শিপ দেখতে পাই, সেই জিনিশটা আগাপাশতলা যত বুক্নি, আমাদের দাদিযুগের উদ্যমী-ও-উদ্যোক্তা-হয়ে-ওঠা ব্যাপারটা ন্যাচারাল ছিল অনেক বেশি, জেন্যুয়িন ছিল অনেক। মুখে মুখে দাবি আদায়ের ধুয়া, অধিকার ফলানোর বারফট্টাই, সোয়ামির নিকট আব্দার করে পাওয়া বা না-পাওয়াজনিত ফোঁপরা-ফাঁপা আওয়াজ, ফুলে-ফুলে-ঢলে-ঢলে ফেমিনিজম প্রভৃতি ছিল না, তা মানছি। কিন্তু আমাদের দাদিরা, আমরা দেখেছি, অধিকারচিৎকার না-করে অধিকারচর্চা করেছেন চুপকে-চুপকে, যেই ডিউটি নিজেরা ভালো পারেন কম্প্যারেটিভলি সংসারের অন্য সদস্যের চেয়ে, সেই ডিউটি পালন করে গেছেন প্রয়োজনে গঞ্জনা সয়ে হলেও, অনুশীলন করেছেন আপন দক্ষতার, একসময় ঈগল-সিংহের চেয়েও মহাপরাক্রমশালী কর্তাব্যক্তি স্বামীও এন্ডোর্স করে নিয়েছেন অ্যাক্নোলেজ্ করেছেন তার সেই এক্সার্সাইজ্, অ্যাক্নোলেজ্ করতে বাধ্য হয়েছেন, নানান এক্সপ্রেশন দিয়া সংসারের আর-দশজনও সেই নারীর এক্সপার্টাইজ্ স্বীকার করেছেন, নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন করিৎকর্মা সেই নারীটির উপর। এইভাবে আমাদের দাদিরা তাদের অবস্থান করে নিয়েছেন বিপুলায়তন সংসারের অলমোস্ট কেন্দ্রে, একদম সংসারকেন্দ্রেই আসলে, ইভেন জমিজিরেত সামলানোর ন্যায় বাইরেকার জগতেও উনাদের দাপট ছিল দেখার মতো। দেখেছি এইসব, তখন-তখনই বুঝেছি এমন না, আজ বুঝতে পারি সেসবের মর্মার্থ।

কয়েকটা শব্দের তো খুব চল আমাদের মডার্ন সমাজস্পেসে, দেখে চলেছি বুঝ হবার পর থেকে, যেমন — স্বাবলম্বন, স্ব-ক্ষমতায়ন, স্বাধিকার ইত্যাদি। এইসব শব্দ যখন আমাদের কানে ও মগজে ঢুকতে শুরু করেছে, এবং ফুটতে শুরু করেছে খৈয়ের মতন মুখে আমাদিগের, তখন এইসব শব্দের কোনো দৃষ্টান্ত সেভাবে আমাদের নয়নসমুখে ব্যাপ্ত সমাজের চলনবিলে কোথাও হাজির ছিল বলা যাবে না। থাকলেও টর্চ জ্বালিয়ে দেখার মতন আবডালে এক-দুই উদাহরণ কেবল। অথচ এইসব জার্গনমার্কা শব্দের জন্মের আগে থেকেই আমাদের দাদিরা ইত্যাকার শব্দনিহিত এসেন্স ও গুণাগুণ তাদের  জীবনাচরণে তাদের যাপনে কেমন স্বভাবজারিতভাবে ব্যবহার করে চলেছিলেন, এইটা খেয়াল করার মতো। তখন শব্দগুলো ছিল না সোচ্চার, তবে দৃষ্টান্তগুলো ছিল চোখের সামনেই। কিন্তু অবাক লাগে ভাবতে যে, আমাদের সেইসব দাদিদের মধ্যে কেউ তো অক্ষর পেটে নিয়া সংসারযাপন করেননি। বেশি-থেকে-বেশি কেউ কেউ হয়তো কেবল দৈনিক পত্রিকাটা বাংলায় বানান করে পড়তে পারতেন, টিভিস্ক্রলগুলো বা নাটকের নামটা পড়ে ফেলতে পারতেন, সময় নিয়া নিজের নামটাও সই দিতে পারতেন জমির দলিল বা ব্যাঙ্কের চেকবুকে। এই বিদ্যা নিয়া তারা যা করে গিয়েছেন, তাদের সেই অ্যাক্টিভিটিলিস্ট দেখলে আজকের সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা মাথা খানিক নমিত করবেন বললে বেশি তো বলা হয় না। একগাদা ছেলেমেয়ে একা-হাতে বড় করেছেন, সংসারের বিরোধ ভঞ্জন করেছেন, জিইয়েও রেখেছেন অনেক, সেসবের সঙ্গে বিবদমান ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলোকে দাবড়িয়ে রেখেছেন, বংশের মানসম্মান ও গ্রামের দশজনের বিচার-অনাচার নিয়াও সোচ্চার হয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য লাইফ কাটায়ে গেছেন তারা। কারো প্রতি অনুযোগহীন চুপকে-চুপকে এক সত্যিকারের লড়কে-লেঙ্গে লাইফ। মর্যাদার, সাহসের, সঞ্জীবনের।

আমাদের দাদিদের জেনারেশন লক্ষ করলে একটা ব্যাপার চোখে পড়বে যে এদের বেশিরভাগেরই বৈবাহিক জীবনকালের মধ্যভাগে এসে বা প্রারম্ভিক অধ্যায়েই স্বামী পরলোকগত। বয়সব্যবধান তো আধাআধি স্ত্রী-স্বামীতে, কাজেই যাবার বেলাটার ফাঁকও হইত অনেক প্রকাণ্ড। বলছি না যে এইটাই একমাত্র ফ্যাক্টর আমাদের দাদিদের ব্যক্তিবিকাশের পেছনে, তবে এইটা একটা কারণ তো বটে। আমার মনে হয় এইটা একটা বড় কারণ। নিজের সংসারের ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন প্রয়োজনেই, শখে নয়, ফলে সাচ্চা ও স্বাভাবিক হয়েছে দায়িত্ব পালন। কৃত্রিমতা ছিল না তাতে, প্র্যাক্টিক্যাল পুরাটাই, দেখানোপনা বা নাসিক্য ক্রন্দনধ্বনির কোনো মেলোড্রামাও ফলে ছিল গরহাজির। আজকাল উওম্যান এম্পাওয়ার্মেন্ট যারা মাপজোখ করেন, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্সিং করেন যারা, তারা আমাদের দাদিমা তথা ঠাকুমাদের যাপিত জীবনের স্টোরিগুলো সংগ্রহ করে ইন্ডিকেইটর সেট করতে পারেন, বেঞ্চমার্ক ধরতে পারেন ওই নারীদের যাপনের অগ্রগমন-পশ্চাদপসরণের ফিডব্যাকগুলো।

সৈয়দ হকের অটোবায়োগ্র্যাফির দুইটা পর্ব আমাদের হাতের নাগালে আছে। প্রথম পর্ব প্রণীত জীবন  ও দ্বিতীয় পর্ব তিন পয়সার জ্যোছনা । প্রথম পর্ব জুড়ে তিনি তাঁর মায়ের জীবনের যে-ছবিটি এঁকেছেন, আমি জিন্দেগিতে ভুলব না। সেখানে একটা জায়গায় সৈয়দ হক বোল্ডলি বলছেন যে, তিনি দ্বিধাহীন এই সাক্ষী দিতে পারেন পরিণত বয়সে এসে, তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মাকে পরিপূর্ণ ব্যক্তি হিশেবে ডানা মেলতে দেখেছেন। পিতার বর্তমানে তার মায়ের যে-জীবন তিনি কালিতে বা কিবোর্ডে এঁকেছেন, সেই নিষ্ঠুর অথচ দরদী চিত্র দ্বিতীয়বার বর্ণনা আমার পক্ষে মনে হয় না সম্ভব। কিন্তু পাঠক মাত্রই বইটা পড়ে এই কথাটা স্বীকার যাইবেন যে, আমাদের জেনারেশন অব্দি নিজচোখে-দেখা মায়েদের জীবন তো এইটাই। স্বামীর ভালোবাসা-শাসন-সোহাগে চোখ-তুলিয়া-তাকাইবার ফুরসত না-পাওয়া এক জীবন। তো, আমাদের দাদিদের বিকাশ বুঝবার ক্ষেত্রে এই বইটা পাঠোপকরণ হিশেবে ভীষণ ভালো।

আমাদের দাদিরা যেই ফ্রিডম ভোগ করেছেন, আমাদের মায়েদের যুগে সেই ফ্রিডম অর্ধেকের নিচে নেমেছে, এরপর কি হইল না-হইল তা জানেন এনজিও-উদ্যোগপতি ও সমাজবক্তিমাবাজগণ। আমরা যা জানি, তা বলতে আপত্তি নাই, স্পন্সর পাইলে রেলগাড়ি চালাইতে চেষ্টা করব স্মৃতি-সত্তা-বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইশটিশন জুড়ে। এইখানে নিতান্ত প্রসঙ্গ এইটুকু যে, এই দাদিমাদিগেরে আমরা আমাদের গানে পাই না, আমাদের কবিতায় পাই না, নাটকে পাই না, ছায়াছবিতে পাই না, পূর্ণ-স্বল্প কোনো দৈর্ঘ্যেরই কোনো উপন্যাসে-গল্পে পাই না। আমাদের সাহিত্য যুগ-যুগান্ত ধরে করেটা কি তাইলে? ভেরেণ্ডা ভাজে? সেইটাও যদি ঠিকঠাক পারত তবে তো কথা ছিল না। “প্রাণে গান নাই মিছে তাই রবিঠাকুরমূর্তি গড়া” — আমাদের সাহিত্যে ‘একতা কাপুর এন্টার্টেইনমেন্ট কোম্প্যানি’-র দেশের নকলনবিশি হাইলি রেপ্যুটেড, প্রাইজম্যনি-শংসাপত্র-উত্তরীয় বরাদ্দ উহাদের তরে, তরুণ কবিটিও বুড়োদের আচরণ করে, আর বুড়ো অণ্ডকোষভাণ্ড কবিরা কাঁটাবনে-ইস্কাটনে রেস্লিং-স্যুমোকুস্তি লড়ে, ছেচল্লিশে এসেও নব্বই দশকিয়া ন্যাকামি তিরোহিত হয় না নকলনবিশ ইম্যাচিয়্যুর বুকরিভিয়্যুয়ারের! এ-ই আমাদের ষড়ঋতু, অপরূপা বাংলা সাহিত্য।

আমাদের ঠাকুমাদের, আমাদের দাদিদের, উপজীব্য করে লেখা গান বা কবিতা বাংলায় খুব-একটা আছে বলা যাবে না। বাংলা ছায়াছবিতে এক-ধরনের ফানমেইকিং আইটেম হিশেবে দাদি ক্যারেক্টারটা দেখা গেলেও যত্ন ও মমতা নিয়ে দাদিমাকে আঁকা হয় নাই সেভাবে। কদাচিৎ ইন্ডিরেক্টলি কবিতায় — যেমন জসীম উদদীনের কবিতায় “ওইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে” ইত্যাদি বা তার নকশিকাঁথা-সুজনবাদিয়া নাট্যাখ্যানে বা তার ‘বউ টুবানির ফুল’ উপন্যাসে পেয়েছি দাদিকে কাহিনির পার্পাস সার্ভ করার কাজে, কিন্তু এইগুলোও ঠিক দাদিমা ক্যারেক্টারটার পুরামাত্রার রোয়াব প্রকাশ করে না। শিশুসাহিত্যে, রূপকথায়, লোকোপাখ্যানে অবশ্য দাদিমা তার লড়াই-সংগ্রাম-মমতা-নিষ্ঠুরতা নিয়াই হাজির রয়েছেন তুলনামূলক ভালোভাবে।

একটা গান, বা এইটা আসলে গল্পও, ম্যুভি/সিনেমা বলতেই-বা আপত্তি কিসে, এইখানে সেঁটে দিচ্ছি। ক্রিয়েট করেছেন জন ডেনভার। আমাদের শৈশব ও আমাদের দাদিমাদের নিয়াই তো গোটা জীবনের সবচেয়ে ঝলমলে এপিসোড রচিত, কাজেই গানটা আমাদেরকে ঝলমলে করে তুলতে পারে, আমাদের অনেকেরই শৈশব অল্পকিছু মোটিফ এদিক-ওদিক করে নিলে ডেনভারের মতনই তো। শুনে দেখা যায়, এমনকি পড়লেও তো ক্ষতি হয় না। গানটা আত্মজৈবনিক, শিল্পীর অটোবায়োগ্র্যাফিক প্রচুর রেফ্রেন্স/ইনগ্রেডিয়েন্টস্ এই গানে যায় পাওয়া, গানের শীর্ষনাম Grandma’s Feather Bed, নিম্নে টেক্সট পুরোটুকু প্রোভাইড করা গেল :

When I was a little bitty boy, just up off a floor, we used to go down to
Grandma’s house every month end or so.
We’d have chicken pie and country ham, homemade butter on the bread.
But the best darn thing about Grandma’s house was her great big feather bed.
It was nine feet wide, and six feet high, soft as a downy chick
It was made from the feathers of forty-eleven geese,
took a whole bolt of cloth for the tick.
It’d hold eight kids and four hound dogs and a piggy we stole from the shed.
We didn’t get much sleep but we had a lot of fun on Grandma’s feather bed.

After supper we’d sit around the fire, the old folks would spit and chew.
Pa would talk about the farm and the war, and Granny’d sing a ballad or two.
I’d sit and listen and watch the fire till the cobwebs filled my head,
next thing I’d know I’d wake up in the morning
in the middle of the old feather bed.

It was nine feet wide, and six feet high, soft as a downy chick
It was made from the feathers of forty-eleven geese,
took a whole bolt of cloth for the tick.
It’d hold eight kids and four hound dogs and a piggy we stole from the shed.
We didn’t get much sleep but we had a lot of fun on Grandma’s feather bed.

Well I love my Ma, I love my Pa, I love Granny and Grandpa too.
I been fishing with my uncle, I ras’led with my cousin, I even kissed Aunt Lou,ew!
But if I ever had to make a choice, I guess it oughta be said
that I’d trade ’em all plus the gal down the road for Grandma’s feather bed.
I’d trade ’em all plus the gal down the road…
I’ll have to reconsider ’bout the gal down the road:

It was nine feet wide, and six feet high, soft as a downy chick
It was made from the feathers of forty-eleven geese,
took a whole bolt of cloth for the tick.
It’d hold eight kids and four hound dogs and a piggy we stole from the shed.
We didn’t get much sleep but we had a lot of fun on Grandma’s feather bed.
We didn’t get much sleep but we had a lot of fun on Grandma’s feather bed.

ডেনভার তার ছেলেবেলার অনেক গুমর ফাঁস করছেন এইখানে, এমনকি তা আমাদের ন্যায় একান্নবর্তী গিরস্তসংস্কৃতির সেমি-আর্বান অর্ধগেঁয়ো-অর্ধশহুরে দেশের দশক-দুই-পূর্বেকার শৈশবস্মৃতির সনে খাপে-খাপ না-হইলেও অনেকটাই মিলিয়া যায়। নিউক্লিয়াস ফ্যামিলি, ন্যানো পরিবার, ইত্যাদি তো সবেমাত্র প্রবেশিল বঙ্গমুলকে; — সেইসঙ্গে একতা কাপুরের স্যোপ-অপেরার কূটকচালভরা দাদিমারা। আগেকার দিনে এমন ছিল না হে, একতা কাপুর দিয়া মার্কেসগল্পের চেয়েও বৈভবভরা আমাদের দাদিমাদিগেরে ম্যেজার করতে যেওনাকো, বুঝলা ভায়া! কাকা/মামার সনে মাছ-ধরা, কাজিনদের সনে কুস্তি, দিনভর মাস্তি, এমনকি ছোটফুপি/খালামণিকে পিচ্চিবেলার প্রথম-পাপমনে চুমু করে ফেলা — গানে ডেনভার স্বীকার করছেন; বেশ তো, সদৃশ না? আর এইসব, সমস্তকিছুই, অব্লিভিয়্যনে গেলে ডেনভার সইবেন, এমনকি খিড়কি-লাগোয়া সাগরিকা ছায়াছবির নায়িকাচেহারার ন্যায় মিষ্টিশোভা মনোনীতাটিকেও জলাঞ্জলি দিতে নিমরাজি হয়ে যাবেন শিল্পী, কিন্তু গ্র্যান্ডমার ফিদারবেড হাতছাড়া করতে একদম নারাজ। আর আমাদের দাদিমার গোটা গতরখানাই কি ছিল না আমাদের জন্য পাখিবিছানা, পালকের ওম ও উষ্ণতাবাহী, তাতে লেগে থাকত না শ্যাওলাঘ্রাণের জলসবুজাভা আর পৌরাণিক কিচ্ছাকাহিনি-গীতালেখ্যসৌরভ?

আমরা কি ভুলিয়া যাইব আমাদের দাদিমাদের? আমরা কি বছরের এ-মাথা ও-মাথা একবারটিও স্মরণ করব না তাদের? করব, করতে পারি, ইউনিলিভার দিলে ডাক, অন্তত কোনো মুঠোফোনকোম্প্যানি। ইংরেজি একটা গানসূত্রে, ডেনভার কথানুষ্ঠানে, হেন প্রত্যয়ে শুখো-গলায় সমস্বরে বলিনু, — ত্রয়ী উল্লাস! — পোস্টমডার্ন পুষ্টিহৃষ্ট কবি-সাহিত্যিকের মর্দামো দারুর তারতম্যে ওঠে আর নামে, কামেকম্মে নিকাম্মা নাড়ুগোপাল অলমোস্ট বইরিভিয়্যুয়ার কবিছেলেবুড়ো সব-কয়টাই। কিন্তু, কোয়েশ্চন হলো, ক্ষমতা কোথায় থাকে? — এই প্রশ্নের উত্তর নিশ্চয় মিশ্যেল ফ্যুকো জানেন; এবং জানতেন, সম্ভবত, আমাদের দাদিমাগণ। ক্ষমতা থাকে চুপানোতে, ক্ষমতা থাকে ক্ষমতা-না-দেখানোতে, শো-আপে না-যেয়ে নিজের কাজটা আপনমনে করে যাওয়াতে; জাহিরিপনায় এম্পিরর লহমায় ক্লাউন হয়ে যেতে দেখিনি কি আমরা অতীতে বহুবার? পোশাকপ্রদর্শনেচ্ছু উলঙ্গ রাজার কিচ্ছা আমরা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পড়ার অনেক আগে আমাদের দাদিমার কাছেই শুনিনি কি? সেই শিক্ষক দাদিমা, দার্শনিক দাদিমা, আমাদের গানে নেই — প্রাণেই তো নেই আজকাল আর, প্রাণে থাকলে তো গল্পে-গানে এক-না-একভাবে সে আসত; তবে ডেনভারের গানে এই দাদিমাকেই ফিরে-ফিরে পাই — পৃথিবীতে আমাদের প্রথম টিচার, প্রথম মেন্টর, প্রথম ফিলোসোফার দাদিমাকে।

লেখা / জাহেদ আহমদ


জাহেদ আহমদ রচনারাশি

… …

জাহেদ আহমদ

COMMENTS

error: