পৃথিবী আমার নিজেরই ছায়া || রোদ্দুর রিফাত

পৃথিবী আমার নিজেরই ছায়া || রোদ্দুর রিফাত

শেয়ার করুন:

নিজেরে খুঁজে পাইলে বেঁচে থাকার জন‍্য কিছু লাগে না। নিজের খোঁজার তিনটা চোখ প্রয়োজন। যার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। তারও আগে নিজেরে করতে হবে কচুপাতার মতো। মানে ধারণ ও বর্জনের তীব্র সক্ষমতা। এবং অন্ধত্ব অনুধাবনের জন‍্য দরকার প্রখর চিন্তাশক্তি। জগতরে নিয়ম ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে মাপজোক করতে হবে নানা অ্যাঙ্গেল থেকে। যুক্তির পাল্লায় সঠিক মাপটা বের করে আনতে হবে। উজাড় করে বৈচিত্র্য নেওয়ার মতো নিজেকে শক্তিশালী করতে হবে। শুনতে শুনতে এবং দেখতে দেখতে একটা স্টেজে গিয়ে বলতে হবে। কারণ জগতের সকল আলাপই লাটিমের মতো ঘুরছে—সেটা যতক্ষণ স্থির হয়ে মাটিতে না লুটাচ্ছে ততক্ষণ তার সৌন্দর্য দেখে যাওয়া উচিত। নিজেরে জাহির নয় শুধু প্রয়োজনের বলাটুকু বলে যাওয়া—সেটা সহজিয়া ঢঙে অথবা যে-কোনো ঢঙেই হতে পারে। কোনোকিছুই তো স্থির নয়। যেন এক চলঘুরানি খেলা। অতসবের ভেতরে স্থির থাকাটাও তো ব‍্যতিক্রম সিদ্ধান্ত যা সময়কে উত্তীর্ণ করে যাত্রা করে নতুন পথে।

চলে আসলাম পথে; মানে, মূল আলাপটা পথেরই। দীর্ঘ পৃথিবী ও মানুষের জার্নি তো পথের দিকেই। সেটা ভিন্নমত ও ভিন্নচিন্তার হতে পারে, তবে গন্তব্য তো পথের মুখ থেকেই শুরু। উজালা উচাটন বাদ দিয়ে যাত্রাকে নিভৃতে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া দরকার। নিজেরে আয়নার আয়তনে কোটি টুকরো করে দেখা উচিত কোথায় কী আছে। নিজের রক্তে সাঁতার কেটে বোঝা উচিত পেট, প্রেম, কামের রহস‍্য। প্রতিটি অণুকণিকার নিচে চালানো উচিত চিরুনি অভিযান। নিজেরে পাইলে জগতের সবাইরে পাইবেন, সবাইরে পাইলে আবার নিজেরে পাইবেন। না-পাইলেও অসুবিধা নাই, কিন্তু পাওয়ার চেষ্টা বোধহয় চালিয়ে যাওয়ার দরকার নিজের জন‍্যই। যেন নিজের ভেতরে একশ দোয়েলের ডাকে নেমে আসে সকাল। করচের গাছ যেন রক্তকে মনে করে উর্বর জল। যেন নিজের ভেতর পাওয়া যায় পৃথিবী আর পৃথিবীকে মনে হয় আমার নিজেরই ছায়া।


রোদ্দুর রিফাত রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you