রাই || শিবু কুমার শীল

রাই || শিবু কুমার শীল

শেয়ার করুন:

৮৪ বছর তার জন্য কিছুই না। পৃথিবী তার ছবি ভুলবে কী করে! কলকাতা, ভোপাল ট্র‍্যাজেডি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সীমান্ত ও শরণার্থী শিবিরে তোলা তার ছবিগুলো কী ভোলা যাবে?

বেগ আর্ট-এর বেসিক ফটোগ্রাফি করতে যাওয়া বন্ধুদের কাছেই প্রথম তার ছবির আলাপ শুনি। তখন আমি একদম নাদান। ছবি বলতে শার্প ফোকাসড ক্যালেন্ডার ইমেজকেই বুঝি। এরপর একে একে আমাদের চোখের সামনে খুলে গেছিল তার ছবির দুনিয়া। তার তোলা ইন্ডিয়ান ক্লাসিকাল মিউজিকের মায়েস্ত্রোদের ছবিগুলো যেন অমূল্য এক আর্কাইভ। শিল্পমানের কথা যদি বাদও রাখি। মাদার তেরেসার প্রার্থনারত সেই চোখ বুজে থাকা ছবিটা আজও মনে গেঁথে আছে। তার স্ট্রিট ফটোগ্রাফি, বিষয়ভিত্তিক ছবির গল্প একেকটা মহা আখ্যান। ভোপালে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক দুর্ঘটনার যে প্রভাব ভোপাল জুড়ে পড়ছিল সেসবের অসাধারণ করুণ উপস্থাপন দেখতে পাই তার ছবিতে।

হেনরি কার্তিয়ার ব্রেসোর ক্লাসিকাল কম্পোজিশনগুলো তাকেও প্রভাবিত করেছিল বুঝি। ব্রেসো তার দীক্ষাগুরু সম্ভবত। কারণ তার ছবির আঙ্গিকে ব্রেসোর প্রভাব বেশ স্পষ্ট। তাঁকে সামনে থেকে কোনোদিন দেখিনি। যদিও বহুবার তিনি ঢাকায় এসেছেন কাজের সূত্রে। প্রায় ৬০টি ছবির বই রেখে গেছেন তিনি। ১৯৭৭ সালে পূর্ণাঙ্গ সদস্য হলেন ম্যাগনাম ফোটোস-এর।

এক বর্ণাঢ্য জীবন অতিবাহিত করে গেলেন তিনি। তার ছবিতে যতটুকু দেখা তিনি বিশেষ এক ধরনের কালো রঙের আলখাল্লা টাইপ পোশাক পরতেন, এর নেপথ্যের কারণ যদিও অজানা রয়ে গেল। বাংলাদেশে আলোকচিত্রী মুনেম ওয়াসিফের ‘বিলংগিং’ ফটোবুকটি রঘু রাইয়ের পরম্পরা বহন করে। অন্তত কাজের স্টাইলের ক্ষেত্রে একটা যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করি।

রঘু রাই সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এবং ভারতীয়দের কাছে নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবেন আর আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা তাকে মনে রাখব মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলোর জন্যই বিশেষ করে। শরণার্থী শিবির আর যশোর রোডের ছবিগুলো আরেক বিদেশি কবি অ্যালেন গিন্সবার্গকে মনে করিয়ে দেয়।

কিশোর পারেখ, রশিদ তালুকদার এদের মতো রঘু রাইকেও আমরা কোনোদিন ভুলব না। ওম শান্তি!

২৬ এপ্রিল ২০২৬


শিবু কুমার শীল রচনারাশি

শেয়ার করুন:

COMMENTS

error: You are not allowed to copy text, Thank you