অ্যাক্টর সালমান রুশদি

অ্যাক্টর সালমান রুশদি

দুনিয়া নিয়া আপনি কী আশাবাদী, মিস্টার রুশদি?
— না। (হাসি) এক-কথায়, না। আমার মনে হয় এই-মুহূর্তে দুনিয়ার ইতিহাসে যে-অবস্থা চলতেসে তাতে একজন লেখকের পক্ষে আশাবাদী হওয়া খুবই ডিফিকাল্ট। আবার এইটাও সত্যি যে এই-রকম অন্ধকারে কমেডিটা ভালোমতো জমাট বান্ধে।

এমন কিছু কী আছে যা আপনাকে মোটিভেইট করে লিখতে?
— লেখা ছাড়া আর কিছু তো করার নাই আমার। লিখতেই চাইসি সবসময়। এর বাইরে একটাই ইচ্ছা ছিল অভিনেতা হব। ওইটা আর হতে পারি নাই। কিন্তু আমি সবসময় ভাবতাম আমার উপন্যাস ‘মিডনাইটস্ চিল্ড্রেন’ যদি ফিল্ম হয় তাইলে যে-পার্টটা আমি করব তা ওই ফর্চুনটেলার ক্যারেক্টারটা। আখ্যানভাগ পরিকল্পনার সময় ভেবে রাখসিলাম যে এর যদি ফিল্মভার্শন হয় তাইলে আমি তাতে ফর্চুনটেলারের রোলটা করব।

আচ্ছা! তা, ফিল্ম তো হয়েছে শেষমেশ। আপনি তাতে অভিনয় করেছেন?
— ডিরেক্টর হায়ার করসিলেন যদিও, আমি নিজেই নিজেরে ফায়ার করসি পরে। কেননা, ব্যাপারটা যা ঘটবে তা ওই অডিয়েন্স সিনেমা দেখতে যায়া ভাববে, ‘দ্যাখ দ্যাখ, ওইটা সালমান রুশদি না?’ (হাসি) আর এইভাবে দেখলে সিনেমাটা থেকে দর্শকের অ্যাটেনশন ব্যাহত হবার আশঙ্কা বাড়ে। যে-সিনগুলা আমারে নিয়া শ্যুট করা হইসিল, পরে সেইগুলা ফালায়া দেয়া হয় আমারই পীড়াপীড়িতে।

খুবই খারাপ হয়েছে সেইটা।
— না না, আমি বলব, অভিনয়ের ক্ষেত্রে গ্রেইটেস্ট রিগ্রেট আমার একটাই। সেইটা হচ্ছে যে উইল ফেরেলের ম্যুভিনির্মাণপ্রতিষ্ঠান থেকে একটা পার্টের জন্যে আমারে অ্যাপ্রোচ করা হইসিল যা সেই-সময় ‘আন্টাইটল্ড উইল ফেরেল ন্যাসকার ম্যুভি’ হিশেবে চিহ্নিত ছিল, পরে যেইটা ‘টালাডেগা নাইটস্’ নামে মুক্তি পায়, জিনিশটায় আমি আর থাকতে পারি নাই শেষমেশ।

টালাডেগা নাইটস্’ সিনেমাটায় আপনি যদি অভিনয় করতেন তখন কোন রোলটায় পার্ট নিতেন তাহলে?
— আমারে অভিনয়প্রস্তাব দেয়ার সময় আইডিয়াটা ছিল এই-রকম যে আমি হব ছবিতে পার্ট নেয়া তিনজন আজব কিসিম ন্যাসকারড্রাইভারদের একজন। আমার মনে হয় তারা প্রস্তাব দিসিল জুলিয়ান শ্ন্যাবেল, ল্যু রিড আর আমারে এই রোলতিনটায় পার্ট করতে। (হাসি) কথা ছিল আমরা তিনজনেই কাররেইসের ইউনিফর্ম, হেলমেট ইত্যাদি পরে তপ্ত তাওয়ার মতো গরম হাওয়ায় স্লো-মোশনে হাঁটব। কাজটা করতে পারলে দারুণ হতো। তবে এই তালিকায় তিনজনের কেউই করতে পারি নাই কাজটা। আমি তখন একটা বইভ্রমণের মাঝামাঝি ছিলাম, ল্যু ছিল সংগীতসফরে, জুলিয়ানও কী-জানি আরেকটা কিসে ব্যস্ত ছিল। মোট কথা, আইডিয়াটা ওয়ার্ক করে নাই। সিনেমাকোম্প্যানি তাদের প্রস্তাব নিয়া অন্যত্র যায়। কিন্তু আমার আর অভিনয় করা হয় নাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও। করতে পারলে কার কেমন লাগত জানি না, আমার নিজের ভীষণ ভাল্লাগত।

রিসেন্টলি আপনার একটা আত্মজীবনী পাব্লিশ হয়েছে যেখানে ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশোত্তর আয়াতুল্লাহ খোমেইনির দেয়া মৃত্যুদণ্ড ফতোয়ার কারণে ১০ বছর লুকিয়ে থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন আপনি। বহু বছর বাদে হলেও মৃত্যুহুমকিটা আপনার মাথা থেকে নেমে যাবার পরে এই মুক্তির স্বাদ কেমন লাগছে?
— হ্যাঁ। আমি অনেকদিন থেকে এই মুক্তির অপেক্ষায় ছিলাম। কারণ, আমি একটা পয়েন্টে পৌঁছাইতে চাইতেসিলাম যেখানে একটা গ্রাহ্য দূরত্ব থেকে গোটা বিষয়টায় আলো ফেলতে পারব। অটোবায়োগ্র্যাফিতে এই জিনিশটাই করসি।


দ্য ট্যক থেকে একাংশ অনূদিত। অনুবাদ / সুবিনয় ইসলাম

গানপার

COMMENTS

error: