ঊষর দিন ধূসর রাত / পাপড়ি রহমান / বেঙ্গল পাবলিকেশনস, ঢাকা ২০২৫ / ২৩২ পৃষ্ঠা / প্রচ্ছদ : জাফরিন গুলশান
পাপড়ি রহমানের এই উপন্যাস শেফালি, বকুল, মুমু, টুলকি, শিশিরকণা (নাকি পারুল?) নামের কয়েকজন নারীকেন্দ্রিক। নানাভাবে এরা জীবন ও জগতকে বুঝে নিতে চাইছে। এদের জীবনে পুরুষের উপস্থিতি স্বামী, পুত্র, পিতা, ভ্রাতা, সঙ্গী বা প্রেমিক হিসেবে—কিন্তু সম্পর্কগুলো সহজ নয় একেবারেই। বর্তমানে এরা শহরবাসী হলেও অতীতের গ্রামজীবনের সাথে কোনো না কোনো রকম যোগাযোগ রয়ে গেছে। এই পাঁচজন নারীর জীবনে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে অন্য নারীরাও। শেফালি এবং তার গৃহসহায়িকা জাহানারা, বকুল ও তার অসুস্থ মা মালিহা খাতুন এবং ভ্রাতৃবধূ সুলেখা বানু, মুমু এবং তার শাড়ির ব্যবসার সহযোগী টুলকি এবং শেফালির উল্টোদিকের বাড়ির প্রতিবেশী যার নামও শেফালি (প্রথম শেফালি তাকে “শিশিরকণা” নাম দিয়েছে কিন্তু পরে জানা যায় তার নাম “পারুল”)। পাঁচজন নারী আবার পরস্পরের সাথে কোনো না কোনোভাবে পরিচিত। উপন্যাসটি যেন কোলাজধর্মী। সাধারণভাবে কোনো প্লট ধরে যে কাহিনি এগিয়েছে, তা নয়; কিন্তু এই পাঁচটি নারীচরিত্র খুঁজে চলেছে আত্মপরিচয়, জীবনের সার্থকতা, সম্পর্কের সারসত্য। তাদের ভুলভ্রান্তি, কপটতা, একাকিত্ব, নিরাপত্তাবোধের অভাব, সংশয় ও সন্দেহ, স্বপ্ন ও মোহভঙ্গ—সবটাই জটিল এবং করুণ। দৈনন্দিন বেঁচে থাকাটাই যেন মস্ত এক বিড়ম্বনা। এদের সকলেরই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এবং সামনে কেউ রেখে গেছে একটি করে আয়না। আয়নায় নিজেকে এরা শনাক্ত করতে পারছে না। প্রত্যেকেই বাস্তবে বা স্বপ্নে আত্মঘাতী হয়ে ওঠে। সমাজ ও পরিবারে ভীষণ রকম বন্দী দশা থেকে মুক্তির আশায়। তার মধ্যেই বারান্দার টবে ফুল ফুটলে বসন্ত ডাক দিয়ে যায়, রাস্তার ধারে ছাতিম ফুলের কড়া ঘ্রাণ মন প্রাণ অবশ করে তোলে, ভোরের আলো, ঠাণ্ডা হাওয়া, পাখির কলকাকলি, “আসমান জুড়ে ভেসে থাকা ধূমল মেঘেদের চাঙারি” কত কিছু ভুলিয়ে রাখে। আর থেকে থেকে “পর্দাঢাকা মালিহা খাতুন”-এর মুখ আমাদের চোখের সামনে দেখা দিয়ে আবার কোথায় মিলিয়ে যায়। কোনও এক পূর্বমাতৃকা যেন বিষণ্ণ দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করে চলেন সব। অমীমাংসিত থেকে যায় অনেককিছু। ঠিক বাস্তবে যেমন হয়। পাঠ শেষ হলে দীর্ঘসময় নিঃশব্দে নির্জনে থাকতে হয়।
গানপারে পাপড়ি রহমান
- ‘মরমি গানের উৎসমুখ : গোলাম হুসনের গান’ প্রসঙ্গে || বদরুল হায়দার - August 20, 2026
- পৃথিবী আমার নিজেরই ছায়া || রোদ্দুর রিফাত - August 20, 2026
- ম্যাডোনায় মৃত্যুচিন্তা - August 11, 2026

COMMENTS