‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখার পরে, প্রথমেই মনে হইছে—মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কসমূহে যেইসব বাউন্ডারি থাকে, এই সিনেমা ওইসব সীমানা উপেক্ষা করতে চাইছে। অথবা এই সিনেমা ওইসব সীমানার বাইরে নতুন কইরা সম্পর্ক বানাইতে চাইছে। সিনেমাটা যেহেতু হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে বানানো, হুমায়ূনের ক্যানভাসে এই ব্যাপারটা মোটেও অস্বাভাবিক না।
সিনেমায় প্রতিটা ক্যারেক্টারের ইন্ডিভিজ্যুয়ালিটি বা স্বতন্ত্র স্বভাব নিয়া আলাপের কিছু নাই। হুমায়ূনের লেখালেখিতে বিশেষ ‘ইন্ডিভিজ্যুয়ালিটি’ কিছু ক্যারেক্টারে বরাবর থাকে এবং সবখানে এইসব—একইরকম। আপনে এদের হুমায়ূনের সিগ্নেচার হিসাবে রিসিভ করতে পারেন, অ্যাকনোলেজ করতে পারেন। আপনের কাছে এদের একঘেয়েও লাগতে পারে। হুমায়ূনে বরং ইন্টারেস্টিং ব্যপার হইলো—চরিত্রের এই ইন্ডিভিজ্যুয়ালিটি কেমনে অন্য চরিত্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে এবং পাঠক-পাঠিকা বা দর্শকের মনের ভিতর একটা প্র্যাক্টিক্যাল ফিকশন হইয়া ওঠে—
এইবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-পরিচালক তানিম নূর নিয়া বলা যাক। দেখেন, এই যে বলতেছি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-পরিচালক তানিম নূর—মূলত এইখানেই এই পরিচালকের সমস্ত ক্রেডিবিলিটি। তানিম নূর একটা অসাধারণ সিনেমা বানাইছেন। যেইখানে তিনি—সিনেমার দোহাই দিয়া হইলেও, হুমায়ূনের তৈরি-করা চরিত্রসমূহে কোনো জোরজবরদস্তি করেন নাই। যদিও এই জোরজবরদস্তি না-করার ব্যপারটা হুমায়ূনপাঠ-অভিজ্ঞতা না-থাকা কোনো দর্শকের কাছে সম্পূর্ন অর্থহীন। অবশ্য এতে কইরা তানিম নূরের ফিল্মমেইকিং-সৌন্দর্য্য একটুও কমবে না।
আপনে দেখবেন, হুমায়ূনের গল্প-উপন্যাসে যেইসব ব্যক্তিচরিত্র থাকে, তারা ঠিকমতো কিছু ভাবতে পারে না। ব্যক্তির ভিতর সারাক্ষণ যেইসব চিন্তা চলে, যেইসব স্বগতোক্তি হয়, অন্তর্দহন হয়, আত্মহনন হয়—এইসবের কোনো বর্ণনামূলক ক্যানভাস হুমায়ূনসাহিত্যে দেখা যায় না। কিন্তু তবুও—হুমায়ূনের তৈরি-করা প্রতিটা চরিত্রের কথোপকথনে, চরিত্রের আচরণে বা পরিণতিতে পাঠক-পাঠিকারা হুমায়ূনের গল্প, গল্পের অভিমুখ খুব সহজে ধরতে পারে। পরিচালক তানিম নূর যতটা সম্ভব তার সিনেমায় হুমায়ূনসৃজিত এইসব চরিত্রের সমস্ত স্বকীয়তা ও অকৃত্রিমতার যত্ন নিছেন।

সিনেমায় ‘চিত্রা’ চরিত্রে অভিনয় করে সাবিলা নূর। সাবিলা নূর—কী সুন্দর একটা মেয়ে! বড়পর্দায় সাবিলারে কখনো দেখি নাই আমি। এই কারণে ছোটপর্দার সাবিলা নূর সিনেমায় কী করতে পারে, এইরকম এক জিজ্ঞাসা মনের ভিতর ছিল। সাবিলার চোখ, সাবিলার হাসি, সাবিলার রাগ, সাবিলার লাবণ্য—এইসব মায়াবী অবভাসে ছোটপর্দায় সাবিলারে দেখতেছি বহুদিন। কিন্তু কেন যেন মনে হইলো, বনলতা-এক্সপ্রেসে হুমায়ূনের চিত্রার চেয়ে তানিম নূরের চিত্রারে বেশি পাওয়া গেছে। তানিম নূরের ‘চিত্রা’ ব্যপারটা কী? একজন পরিচালকের চিন্তা-করা নায়িকা—যারে পর্দায় নড়তে দেখা যায়, স্ক্রিনের সামনে-থাকা দর্শকের মনের ভিতর বইসা বাহাস করতে দেখা যায়। এইভাবে বলা যাক, তানিম নূরের তৈরি-করা ‘চিত্রা’ বড়পর্দার ওই নায়িকা যার অস্থিরতা, যার তিতিক্ষা দর্শকরে উদ্বিগ্ন কইরা তোলে। সাবিলা নূর এইখানে বিউটিফুল।
সিনেমায় শরীফুল রাজের অভিনয়ে ডাক্তার আসহাব চরিত্রে ট্রমাটাইজড এক সৃষ্টিশীল যুবকের দেখা পাওয়া গেল। একইভাবে আজিজ নামে কনফিউজড এক ফিউডাল-মেন্টালিটিবদ্ধ পিতার দেখা পাইলাম শ্যামল মওলার অভিনয়ে—যারে হয়ত পরিস্থিতির ভিতর অপ্রস্তুতে মানবিক হইয়া-উঠার পরীক্ষা দিতে হইছে অ্যাবসার্ড উপায়ে।
সাজেদা বেগম নামে এমন এক সিজোফ্রেনিয়াক মা-র দেখা মিলে যার কাছে প্রায়ই রিয়ালিটি মূলত পারসেপশনের ভিতর তৈরি-হওয়া একেকটা ধারণা। অবশ্য এই সোসাইটির দিকে নজর দিলে আপনে মূলত পারসেপশনে তৈরি হওয়া নীতি-নৈতিকতা, বাহাস, ইন্সটিটিউশন, বিশ্বাস, তর্ক-প্রতর্ক, মতামত ছাড়া আর-কিছু পাইবেন না। স্যোশাল মিডিয়ার ভিতর আপনে এইভাবে তৈরি-থাকা এক জম্বি-ঝুন্ড দেখবেন—যেইটা যুক্তির মুখোমুখি হইতে চায় না, ইতিহাসের মুখোমুখি হইতে চায় না, মানবিকতার মুখোমুখি হইতে চায় না, বিরুদ্ধ-মতের মুখোমুখি হইতে চায় না। অপরকরণে যারে নিবেদিত দেখা যায় বরাবর। ফলে নিজের অস্তিত্বের বাইরে একটা অবদমিত ব্রাত্য-অস্তিত্ব পর্যন্ত বড়জোর—তার নমনীয়তার সীমা। অভিনেত্রী সাজেদা নাজনীন অসাধারণ অভিনয় করেন ডাক্তার আসহাবের মায়ের চরিত্রে।

আরেকটা চরিত্রের কথা বলব। ভেরি ডিয়ার-ওয়ান। ম্যাথমেটিক্সের প্রফেসর ড. রশিদউদ্দীন। খুবই অসচরাচর ক্যারেক্টার টু বি ডিসপ্লেইড। কিন্তু সোসাইটিতে আনকমন না। সিনেমা হ্যল থেইকা বের হওয়ার পর ক্যারেক্টারটা নিয়া কিছু-একটা ভাবতেছিলাম। একটা ব্যপার মনে হইলো—এই ক্যারেক্টারের ওয়েট অনুসারে এর ডায়লগে গ্র্যাভিটি কম। মানে ডায়লগে আরো বেশি ডেপথ থাকতে পারত। আচরণে না। মানে চরিত্রটা যখনই ফিলোসফিক্যাল হইতে চাইছে, সংলাপে জোর না-থাকায় ব্যাপারটা পুরাপুরি উইঠা আসে নাই। মোশাররফ করিম নিজের অভিনয়যোগ্যতায় ডেফিনিটলি ‘প্রফেসর’ চরিত্রটারে টাইনা নিতে পারছেন। কিন্তু প্রফেসর-চরিত্রটা পরিচালক তানিম নূরের সৃজনশীলতায় আরো বেশি অথেন্টিক ও ইন্টারেস্টিং হইতে পারত।
অ্যানিওয়ে, সিনেমার ভিতর ফিকশন থাকে, ব্যপারটা এইরকম না। বরং সিনেমাটাই একটা ফিকশন। যেইখানে ঘটনাক্রমে আমিও ইনক্লুড হইয়া যাই। একটা জার্নির ভিতর। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এইরকমই একটা সিনেমা। রাতের অন্ধকারে একটা ট্রেন চলতেছে। বগিতে বগিতে আমি, আপনে, অন্য-কেউ ছুটতেছে গন্তব্যের দিকে। আবার কারো কারো হয়ত কোনো গন্তব্য নাই। যেন তার কোথাও কোনো আশ্রয় নাই—স্থির হওয়ার। যেমন চিত্রার। যেমন কফিনবক্সের। তবুও তারে কোথাও-না-কোথাও নাইমা-যাইতে হবে—অনন্তকাল ধইরা বনলতা এক্সপ্রেস সবাইরে বইয়া-বেড়াইতে পারবে না।
আচ্ছা, আরেকটা ব্যাপার ভালো লাগে নাই আমার। সিনেমার শেষের দিকে কিছু সিনে বনলতা এক্সপ্রেস নামের যেই-ট্রেনটা, ওইটার আউটলুক খুবই করুণ মনে হইছে। মানে ট্রেনের ভিতরের খুবই গোছানো ডেকোরেশনের সাথে একটা লোকাল-ট্রেনের আউটলুক কেন দেখাইতে হইলো পরিচালকরে, ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম না। ডিজনি মুভির মতো ‘বনলতা-এক্সপ্রেস’ নামের একটা রূপকথার ট্রেন পরিচালক তানিম নূরের ফিকশনে থাকলে, এমন কী হইতো? ফিল্মমেইকিং-এ শৌখিনতা বা আর্টের এই প্রয়োজনটারে কি বাজেটকেন্দ্রিক অসৃষ্টিশীল এক রেজিস্ট্যান্সের কাছে অবদমিত থাকতে হইবো—এইরকম কিছু শিখানো হয়? যখন হেলিকপ্টার নামে এবং প্র্যাগ্নেন্ট আফিয়ারে তুইলা নিয়া যায়—এই সম্পূর্ণ দৃশ্যটাতে ব্যাপক অযত্ন আর অবহেলা দেখা গেছে। দেখা গেছে একাগ্রতার অভাব। সিনেমার আত্মার সাথে এইরকম দায়িত্বহীনতা বা উদাসীনতারে কোনোভাবেই মিলাইতে পারতেছিলাম না আমি।

এইবার অন্য একটা প্রসঙ্গ। এই সিনেমা রিলিজ হয় উনিশ মার্চ দুইহাজারছাব্বিশে। দেশ-বিদেশের যেইসব মাল্টিপ্লেক্সে এই সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়, সবখানে দর্শকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। একটা সময় দেশের অলমোস্ট সবখানে সিনেমা হ্যল ছিল। নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শিত হইতো তখন। যদিও মানের দিক থেইকা ওইসব-সিনেমার ভিতর মনে রাখার মতো কিছু ছিল না। এবং সময়ের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সিনেমা-ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের সাথে সৃজনশীলতায় মোটেও তাল মিলাইতে পারে নাই। ফলে বিভিন্ন কারণে (ব্যবসায় লস, অশ্লীলতা, দর্শক-অনীহা) এইসব সিনেমা হ্যল বন্ধ হইয়া যাইতে থাকে।
গত কয়েক বছর ধইরা বাংলাদেশের সিনেমায় একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করছে । ফিল্মমেইকিং, কন্টেন্ট এবং স্ক্রিনপ্লেতে বাণিজ্যিক-ধারা বাদ দিয়া কিছু পরিচালক ফিকশনাল মুভি করতেছেন যেইখানে মনস্তাত্ত্বিক সংকট, লোকগাথা, পরাবাস্তবতা, কন্টেম্পোরারি রিয়ালিটির ইমেইজ দেখা যাইতেছে। গতানুগতিক ইন্ডিয়ান মুভির অনুকরণে যেইধরনের সিনেমা চলতেছিল দীর্ঘকাল, তা বর্তমানে দারুনভাবে কইমা আসছে। সিনেমার নায়কেরা অভিনেতা হইতে চাইতেছেন। হিরো, ভিলেন, সাইড-রোল টাইপের ট্যাবু থেইকা বের হইয়া সবাই এখন সিনেমার পর্দায় একেকটা চরিত্র হইয়া উঠতে চাইতেছেন। আমি বাংলা-সিনেমার খুব বড় কোনো অনুরাগী না। খুব যে দেখি, তা-ও না। এবং এই ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবে আমার জন্য গৌরবের কোনো বিষয় না। কিন্তু যেইটা অনুভব করলাম এইখানে, তা হইলো—এই পরিবর্তনে মূল ভূমিকা রাখতেছেন নিয়মিত ছোটপর্দা বা থিয়েটার-করা কয়েকজন অসম্ভব প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
যা-ই হোক, সিনেমার এই পর্যায়ে আইসা খুবই করুণ একটা ঘটনার মুখোমুখি হইতে হইলো বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে। যেই সরকার শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিবে টাইপের আলাপ তুইলা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়া ক্ষমতা হাতে নিছে, সেই সরকাররে দেখতেছি কী এক অজানা কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনগণের মুখোমুখি হইতে অনীহা দেখাইতেছে। যেমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে বাংলাদেশের একটা জেলায় এই সিনেমাটা চালাইতে চাইছিল সংশ্লিষ্ট সিনেমাপ্রেমীরা। খোঁজ নিয়া দেখলাম ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’ নামে তরুণদের একটা সংগঠন মুক্তভাবে এই উদ্যোগ নিছিলো। কিন্তু ঘটনাক্রমে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই সিনেমা চালাইতে পারে নাই। কওমি মাদ্রাসার লোকজন এবং ধর্মীয় ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী সিনেমা প্রদর্শনে বাধা দেয়। ব্যাপারটা প্রশাসন পর্যন্ত গেলে, প্রশাসন ওইসব মোল্লাদের তোলা ‘সিনেমা-প্রদর্শন-করা-যাবে-না’ দাবিটারে গণদাবি হিসাবে স্বীকার কইরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির তরুণ-সংস্কৃতিকর্মীদের কোনো ধরনের সহায়তা করে নাই এবং পরবর্তীতে বনলতা এক্সপ্রেস চালাইতেও দেয় নাই।

ধর্মভিত্তিক ওইসব মোল্লারা যেইসব দাবিতে এই সিনেমা-প্রদর্শনের বিরোধিতা করে, রুচিগত কারণে ওইসব আমার এই লেখায় তুইলা ধরতেছি না। ওই-যে-বলতেছিলাম, কোনো পড়ালেখা-জানা-বোঝা ছাড়া, এইখানে বিশ্বাসেরও ঠিকাদারি চলতেছে মূলত সোসাইটিতে ট্যাবু-হইয়া-বিঁইধা-থাকা কালেক্টিভ এক পারসেপশনের উপর। এইখানে যেন কোনোভাবে-কিছুতেই কোনো যাচাই-বাছাই চলতে পারবে না। বাহাসে জড়াইতে দেওয়া যাবে না। বিরোধী-মতের মুখোমুখি হওয়া যাবে না। অতএব এই জায়গা থেইকা যা-কিছু নিষিদ্ধ দাবি করা হবে, তারে যেন বিনা প্রশ্নে মাইনা নিতে হইবো। যদিও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আইন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নীতি-নৈতিকতার সকল স্পেইসে—সবখানে, এদের তোলা এইসব হঠকারী দাবিদাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা কিছুতেই নাই।
আমি আশা করছিলাম, সরকার অন্তত কিছু বলবে। যেহেতু সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারে দুই-পক্ষ মুখোমুখি, অতএব ওই অঞ্চলের অন্তত সরকারী একজন জনপ্রতিনিধি জনসম্মুখে আইসা সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। কিন্তু সিনেমা-প্রদর্শন বন্ধ করা ছাড়া সরকারী কোনো অ্যাক্টিভিটি নজরে আসে নাই। আমি হিসাব মিলাইতে চাইলাম, নির্বাচনে কওমিদের ভূমিকা সরকারের পক্ষে ছিল, অতএব…ধর্মভিত্তিক রাজনীতি-করা বড় একটা অংশ বিরোধীপক্ষ যারা নিজেদের নতুন বাংলাদেশের প্রতিনিধি ঘোষণা করতেছে যেইখানে সেইখানে, অতএব…একটা বিশেষ জেলায় ঘইটা-যাওয়া একটা কালচারাল ঘটনারে বড় কইরা জাতীয়-ইস্যু করা যাবে না, অতএব—নীরবতাই শান্তি। এড়াইয়া যাইতে পারাটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতি। যেন এই নীরবতা দিয়া—সরকার উগ্র-চিন্তারে পাশ কাটাইতে পারবে? যেন এই নীরবতা দিয়া—সরকার নিজের রাজনৈতিক দৈন্য আড়াল করতে পারবে? যেন এই নীরবতা দিয়া—সরকার পাবলিকের নিজস্ব মানসিক-বন্দিত্ব-দূর-করার যে কালেক্টিভ-কালচারাল-রেজিস্ট্যান্স থাকে, তারে অবদমিত কইরা রাখতে পারবে? যেন এই নীরবতা দিয়া—সরকার গণতান্ত্রিক-লেবাসে-থাকা বিরোধী ধর্মভিত্তিক-ফ্যাসিস্ট শক্তিরে ক্ষমতার পাশে-থাকা অন্য-ধর্মভিত্তিক-ফ্যাসিস্ট শক্তির মুখোমুখি কইরা রাখতে পারবে? সরকাররে বিনীতভাবে চোখ খুইলা দেখতে বলতেছি—শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে, সামাজিক অনুষ্ঠানে, রাস্তাঘাটে, সামাজিক যোগাযোগে—একাত্তরের বাংলাদেশ থেইকা নব্বইয়ের বাংলাদেশ এবং আজকের দুইহাজার ছাব্বিশের বাংলাদেশের দৃশ্যমান অবয়বে সে কোনো পার্থক্য করতে পারতেছে কি না? যদি পারে, তাইলে সেইটা কি? সেইটা কি আগামীতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের যেই লড়াই বাংলাদেশ করতেছে, সেই লড়াইটারে অক্ষত থাকতে দিবে?

অ্যানিওয়ে, সিনেমায় ফিইরা যাই। বলতেছিলাম এই সিনেমা অলরেডি প্রতিষ্ঠিত যেইসব সম্পর্ক সচরাচর দেখা যায়, তার বাউন্ডারি উপেক্ষা করতে চায়। যেমন সিনেমার শেষ দিকে প্রেগ্ন্যান্ট আফিয়ার সাথে হেলিকপ্টারে উইঠা বসে ডাক্তার আসহাবের সিজোফ্রেনিক মা, মৃত সন্তানের দাফনে প্রফেসর রশিদউদ্দীনের পাশে দেখা যায় ফিউডাল-মানসিকতার কনফিউজড আজিজরে। বনলতা এক্সপ্রেস তার ওই জার্নির ভিতর এক অপরিচিতরে যেন আরেক অপরিচিতের কিনারে ভাঙে, ব্যবচ্ছেদ করে, আরো কিনারে নিয়া আসে।
হাসান শাহরিয়ার রচনারাশি
গানপারে তানিম নূর
- বনলতা এক্সপ্রেস : অপরিচিতের ভিতর অদেখারে দেখা || হাসান শাহরিয়ার - July 10, 2026
- অ্যাপেক্স : দুরাভিসারে আত্মরক্ষার উৎসব || হাসান শাহরিয়ার - May 30, 2026
- মধ্যরাতে বৃষ্টিমায়া ও নজরুল || হাসান শাহরিয়ার - May 26, 2026

COMMENTS